সকালের আলো

Sokaler Alo

চেতনায় ৭১

Login
Username
Password
  সদস্য না হলে... Registration করুন
February 26, 2018
কাঁচা পেঁপে ঔষধি গুনে ভরপুর                 শ্রীদেবীর মৃত্যু ও অমিতাভের টুইট                  স্টিভেন স্পিলবার্গের ‘জুরাসিক পার্ক’ ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন শ্রীদেবী                 প্রায় ৯০ ভাগ সংসার ভাঙার কারণ অন্যতম কারণ সন্দেহ ও পরকীয়া                 দীর্ঘ বিরতির পর অভিনয়ে ফিরছেন আমিন খান ও পপি জুটি                 বিয়ের পিঁড়িতে বসবেন না সালমান!                 পরকীয়ার সমস্যায় জর্জরিত ইরফান খান                 বাংলাদেশ ফিল্ম ক্লাবের বার্ষিক বনভোজনে তারকাদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো                 সানি লিওনের পিছু ছাড়ছে না ‘পর্নস্টার’ পরিচয়টা                  গত দুই বছরে মোট ২০টি ডিম পেড়েছে আকমল                  ইনস্টাগ্রামে আমিশার হট ফটোশুটের ছবি শেয়ার                  পেট্রোল পাম্পে কাজ শুরু করছেন অনুশকা!                 পেয়ারা শুধু সস্বাদু ফলই নয়, পুষ্টিগুণেও ভরপুর                  রণবীরের ‘খলিবলি’ নাচ (ভিডিও)                 মাধুরী দীক্ষিতের না বলা প্রেমে-বিরহ                

বাহারি


খান আতা বিতর্কঃবাচ্চুর কাছে জবাব চাইলেন ফারুক
সকালের আলো প্রতিবেদক :
সময় : 2017-10-16 10:51:11

মুক্তিযোদ্ধা ও বরেণ্য অভিনেতা ফারুক বলেছেন, “১৯৭৩ সালে খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘আবার তোরা মানুষ হ’ মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলাদেশের তৎকালীন প্রেক্ষাপট নির্ভর একটি ঐতিহাসিক সেলুলয়েডের দলিল। মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী অবস্থার আলোকে এটি নির্মিত। অথচ তাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে যে মন্তব্য নাসিরুদ্দিন ইউসূফ বাচ্চু করেছেন তাতে সমস্ত মুক্তিযোদ্ধার চেতনার মূলে আঘাত করেছেন।’

সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে দেওয়া মুক্তিযোদ্ধা ও নাট্যজন নাসিরুদ্দিন ইউসূফ বাচ্চুর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে গণমাধ্যমকে এ কথা বলেন তিনি।

খ্যাতিমান পরিচালক ও লেখক আমজাদ হোসেনের কাহিনী নিয়ে নির্মিত এ ছবিতে অভিনয় করেন ফারুক, আসাদ, আমির হোসেন বাবু, আল মনসুর, দুলাল, মারুফ, কাজী এহসান, খান আতা, সরকার ফিরোজ, ববিতা, রওশন জামিল, ওবায়েদুল হক সরকার, খলিল সহ এক ঝাঁক মুক্তিযোদ্ধা।

নিউইয়র্কের অভিবাসী সমাবেশে প্রয়াত খান আতাকে ‘রাজাকার’ মন্তব্য করেন বাচ্চু। তিনি বলেছেন ‘আবার তোরা মানুষ হ’ এটাতো নেগেটিভ ছবি। মুক্তিযোদ্ধাদের বলছে আবার তোরা মানুষ হ। আরে তুই মানুষ হ’। ওই অনুষ্ঠানে দেশবরেণ্য কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লাকেও হেয় প্রতিপন্ন করেন তিনি।

তিনি আরও বলেছেন, ‘খান আতা রাজাকার, আমি না হলে খান আতা বাঁচতো না। আমি না হলে খান আতা ৭১-এ ১৬ ডিসেম্বরের পরে মারা যায়। সে আবার মুক্তিযোদ্ধাদের বলছে আবার তোরা মানুষ হ। আরে তুই মানুষ হ, তোকে মানুষ হতে হবে। তুই রাজাকার ছিলি’।

তার এমন মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে চিত্রনায়ক ফারুক প্রশ্ন রেখে বলেন, “এমন একজন গুণী লোক। কল্পনাও করা যায় না। What not কি না তিনি। এদেশের বিখ্যাত যারা তাদের স্নেহধন্য কাছের লোক ছিলেন তিনি । যার ‘নবাব সিরাজদ্দৌলা’ ছবি মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছে মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়তে। মাতৃভাষা বাংলা আন্দোলন ও স্বতন্ত্র দেশের চেতনা ছিল যার অস্থিমজ্জায়। তিনি আর কেউ নন দেশের বিরলতম গুণীদের অন্যতম খান আতাউর রহমান।

যার ক্যারিশমাটিক কর্মগুণের কারণে সে সময়ের বিখ্যাত পরিচালক এ জে কারদার তাকে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ দেন। পাশাপাশি তাকে ক্ষমতা দেওয়া হয় বুদ্ধিদীপ্ত তরুণদের সহকারী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিতে। তিনি সে অনুযায়ী জহির রায়হানের মতো টগবগে তরুণকে সুযোগের ব্যবস্থা করেন। যিনি পরবর্তীতে বাংলা চলচ্চিত্রের একটি দিকপাল হিসেবে আবির্ভূত হন। এগুলো ছিল সব ধারাবাহিক কাজের ফসল। এরপর আমরা জহির রায়হান, আমজাদ হোসেন (রচয়িতা) এবং খান আতা(অভিনয় এবং সুরকার) এই ত্রিফলার অমরসৃষ্টি ‘জীবন থেকে নেয়া’ দেখেছি। যার প্রতিফলন আমরা দেখেছি স্বাধীনতা যুদ্ধে। এটা সেলুলয়েড। পাশাপাশি ক্যামেরার পেছনে তাদের স্বদেশচেতনার প্রতিচ্ছবিও জাতি দেখেছে যা ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে। তারা তাদের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে নিজেদের ইতিহাস রচনা করেছেন। যা আজও দেশবাসী শ্রদ্ধাবনত মাথায় স্মরণ করে।

“সেই ত্রিফলার একজন খান আতাউর রহমান দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নির্মাণ করলেন ‘আবার তোরা মানুষ হ’। এটি নিছক কোনো ছবি ছিল না। যুদ্ধপরবর্তী বিশৃঙ্খলা নিয়েই ‘আবার তোরা মানুষ হ’ চলচ্চিত্র। এখানে দেখা যায় একদল সৎ মুক্তিযোদ্ধা নিজেদের চোখের সামনে কিছু নামধারী মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যায় লুটতরাজ, সহ্য করতে না পেরে ক্ষুদ্ধ হয়ে তারা নিজেরাও শুরু করে দেয় একই কাজ! কিন্তু তাদের কলেজের অধ্যক্ষ এটা মেনে নিতে পারেন না, তিনি তাদের জন্য সংবর্ধনার আয়োজন করে তাদের অস্ত্র জমা দিয়ে দেয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু তারা সে কথা মানেনা। এদিকে অধ্যক্ষর এক ছেলে এক মুক্তিযোদ্ধার বোনের সঙ্গে ভালোবাসার নামে প্রতারণা করে। ফলে বিয়ের আসরে মুক্তিযোদ্ধার গুলিতে সে প্রাণ হারায়, অপরদিকে অপমানের হাত থেকে বাঁচার জন্য মেয়েটিও আত্মহত্যা করে। অধ্যক্ষ নিজেকে পুত্রের হত্যাকারী বলে ঘোষণা করে সব অপরাধের ভার আপন কাঁধে তুলে নেন এবং পুলিশের কাছে ধরা দেন। পুলিশের সঙ্গে জেলে যাওয়ার সময় অধ্যক্ষ তার স্ত্রীকে বলেন, ‘তুমি এক ছেলে হারিয়েছ কিন্তু তোমার সাত ছেলে (মুক্তিযোদ্ধাদের দেখিয়ে) রেখে গেলাম’।”

“সময়টা বঙ্গবন্ধুর শাসনকাল। তার সময় মুক্তি পেয়েছে। স্বভাবতই তার সায় ছিল। এখানে নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু সাহেব ‘যে ভাষায় যেভাবে এমন একজন গুণীকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করলেন তার প্রতিবাদের ভাষা আমার জানা নেই। এতে কেবল উনি খান আতাকে অপমান করেননি করেছেন পুরো মুক্তিযোদ্ধাদের। কারণ ওই ছবিতে সবাই ছিলাম আমরা মুক্তিযোদ্ধা। আমরা দেশ গঠনে মনোনিবেশ হতে একাত্ম হয়েছি বলেই সেদিন সে ছবিতে মনপ্রাণ ঢেলে অভিনয় করেছি।”

চলচ্চিত্র পরিবারের আহ্বায়ক ফারুক বলেন, ‘সে সময় যে প্রেক্ষাপট ছিল সেটা যেমন আপনি (বাচ্চু) জানেন তেমনি আমরাও জানি। ছবিতে এতোদিন পর কি এমন পেলেন যে এটাকে নেগেটিভ মনে হল আপনার?’

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আপনিও করেছেন আমরাও করেছি। তার মানে এই নয় যে আপনার কাছ থেকে জানতে হবে কে যোদ্ধা আর কে রাজাকার।’

যদি তাই হয় তবে নিজেকে পন্ডিত বলে জাহির করতে চাওয়া মি. বাচ্চু আপনিই বলেন, ‘কি কি কারণে কোন কোন পরিস্থিতিতে রাজাকার বলা যায়। খান আতার তেমন কি জানা আছে আপনার, সেটা প্রকাশ করুন। নইলে মুক্তিযোদ্ধারা এর উপযুক্ত জবাব দেবে।’

গবেষক মীর শামসুল আলম বাবুর গবেষণায় অজানা খান আতা

ক) ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সৈন্য যখন ঢাকা অ্যাটাক করে তখন খান আতা গুলিস্তান অফিসে ইস্ট পাকিস্তান প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির বৈঠক করছিলেন। আক্রমনের কথা শুনে ইস্ট পাকিস্তানের স্থলে ‘বাংলাদেশ’ শব্দটি জুড়ে দিয়ে করেন বাংলাদেশ প্রযোজক-পরিবেশক সমিতি। সভায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জহির রায়হান ও আলমগীর কুমকুম উপস্থিত ছিলেন।

খ) মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস ‘আমার সোনার বাংলা’ যে গানটি অনুপ্রাণিত করেছে সেটি নেওয়া হয়েছে ‘জীবন থেকে নেয়া’ ছবি থেকে। আর গানটি অর্কেস্ট্রা করেছিলেন খান আতাউর রহমান।

গ) ‘এখনও অনেক রাত’ ছবির মহরত অনুষ্ঠানে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে খান আতাউর রহমান বলেছিলেন- “যুদ্ধ চলাকালীন আমি একটি বিবৃতিতে সই করতে বাধ্য হয়েছিলাম। সই করার আগে সেখানে আরেকটি সই দেখতে পাই। তাৎক্ষণিক তাকে ফোন দিই ‘আপনি সই করেছেন দেখছি ওরা অস্ত্রসহ এসেছে আমি কি করবো? টেলিফোনের ওপাশ থেকে জবাব আসে দিয়ে দেন। আমি সই করি। বিশ্বাস না হলে আজকে আমার মহরত উদ্বোধন করতে আসা কবি সুফিয়া কামালকে জিজ্ঞাসা করুন।” (মাহবুব আজাদ রচিত খান আতাউর রহমান। বাংলা একাডেমি। প্রকাশকাল ২০০১)।

ঘ) ১৯৭৩ সালে ‘আবার তোরা মানুষ হ’ ছবিটি এফডিসির ব্লাক-ওয়াইট ল্যাবে দেখানো হয়। সেখানে অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (বর্তমান ত্রাণমন্ত্রী) ছবিটির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

জবাব চাইবে পরিচালক সমিতি
এদিকে নাসিরউদ্দিন ইউসূফ বাচ্চুর এমন মন্তব্যে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি। সমিতির সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম খোকন

মুক্তিযোদ্ধা ও বরেণ্য অভিনেতা ফারুক বলেছেন, “১৯৭৩ সালে খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘আবার তোরা মানুষ হ’ মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলাদেশের তৎকালীন প্রেক্ষাপট নির্ভর একটি ঐতিহাসিক সেলুলয়েডের দলিল। মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী অবস্থার আলোকে এটি নির্মিত। অথচ তাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে যে মন্তব্য নাসিরুদ্দিন ইউসূফ বাচ্চু করেছেন তাতে সমস্ত মুক্তিযোদ্ধার চেতনার মূলে আঘাত করেছেন।’

সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে দেওয়া মুক্তিযোদ্ধা ও নাট্যজন নাসিরুদ্দিন ইউসূফ বাচ্চুর দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে গণমাধ্যমকে এ কথা বলেন তিনি।

খ্যাতিমান পরিচালক ও লেখক আমজাদ হোসেনের কাহিনী নিয়ে নির্মিত এ ছবিতে অভিনয় করেন ফারুক, আসাদ, আমির হোসেন বাবু, আল মনসুর, দুলাল, মারুফ, কাজী এহসান, খান আতা, সরকার ফিরোজ, ববিতা, রওশন জামিল, ওবায়েদুল হক সরকার, খলিল সহ এক ঝাঁক মুক্তিযোদ্ধা।

নিউইয়র্কের অভিবাসী সমাবেশে প্রয়াত খান আতাকে ‘রাজাকার’ মন্তব্য করেন বাচ্চু। তিনি বলেছেন ‘আবার তোরা মানুষ হ’ এটাতো নেগেটিভ ছবি। মুক্তিযোদ্ধাদের বলছে আবার তোরা মানুষ হ। আরে তুই মানুষ হ’। ওই অনুষ্ঠানে দেশবরেণ্য কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লাকেও হেয় প্রতিপন্ন করেন তিনি।

তিনি আরও বলেছেন, ‘খান আতা রাজাকার, আমি না হলে খান আতা বাঁচতো না। আমি না হলে খান আতা ৭১-এ ১৬ ডিসেম্বরের পরে মারা যায়। সে আবার মুক্তিযোদ্ধাদের বলছে আবার তোরা মানুষ হ। আরে তুই মানুষ হ, তোকে মানুষ হতে হবে। তুই রাজাকার ছিলি’।

তার এমন মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে চিত্রনায়ক ফারুক প্রশ্ন রেখে বলেন, “এমন একজন গুণী লোক। কল্পনাও করা যায় না। What not কি না তিনি। এদেশের বিখ্যাত যারা তাদের স্নেহধন্য কাছের লোক ছিলেন তিনি । যার ‘নবাব সিরাজদ্দৌলা’ ছবি মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছে মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়তে। মাতৃভাষা বাংলা আন্দোলন ও স্বতন্ত্র দেশের চেতনা ছিল যার অস্থিমজ্জায়। তিনি আর কেউ নন দেশের বিরলতম গুণীদের অন্যতম খান আতাউর রহমান।

যার ক্যারিশমাটিক কর্মগুণের কারণে সে সময়ের বিখ্যাত পরিচালক এ জে কারদার তাকে ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ দেন। পাশাপাশি তাকে ক্ষমতা দেওয়া হয় বুদ্ধিদীপ্ত তরুণদের সহকারী পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিতে। তিনি সে অনুযায়ী জহির রায়হানের মতো টগবগে তরুণকে সুযোগের ব্যবস্থা করেন। যিনি পরবর্তীতে বাংলা চলচ্চিত্রের একটি দিকপাল হিসেবে আবির্ভূত হন। এগুলো ছিল সব ধারাবাহিক কাজের ফসল। এরপর আমরা জহির রায়হান, আমজাদ হোসেন (রচয়িতা) এবং খান আতা(অভিনয় এবং সুরকার) এই ত্রিফলার অমরসৃষ্টি ‘জীবন থেকে নেয়া’ দেখেছি। যার প্রতিফলন আমরা দেখেছি স্বাধীনতা যুদ্ধে। এটা সেলুলয়েড। পাশাপাশি ক্যামেরার পেছনে তাদের স্বদেশচেতনার প্রতিচ্ছবিও জাতি দেখেছে যা ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছে। তারা তাদের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে নিজেদের ইতিহাস রচনা করেছেন। যা আজও দেশবাসী শ্রদ্ধাবনত মাথায় স্মরণ করে।

“সেই ত্রিফলার একজন খান আতাউর রহমান দেশ স্বাধীন হওয়ার পর নির্মাণ করলেন ‘আবার তোরা মানুষ হ’। এটি নিছক কোনো ছবি ছিল না। যুদ্ধপরবর্তী বিশৃঙ্খলা নিয়েই ‘আবার তোরা মানুষ হ’ চলচ্চিত্র। এখানে দেখা যায় একদল সৎ মুক্তিযোদ্ধা নিজেদের চোখের সামনে কিছু নামধারী মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যায় লুটতরাজ, সহ্য করতে না পেরে ক্ষুদ্ধ হয়ে তারা নিজেরাও শুরু করে দেয় একই কাজ! কিন্তু তাদের কলেজের অধ্যক্ষ এটা মেনে নিতে পারেন না, তিনি তাদের জন্য সংবর্ধনার আয়োজন করে তাদের অস্ত্র জমা দিয়ে দেয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু তারা সে কথা মানেনা। এদিকে অধ্যক্ষর এক ছেলে এক মুক্তিযোদ্ধার বোনের সঙ্গে ভালোবাসার নামে প্রতারণা করে। ফলে বিয়ের আসরে মুক্তিযোদ্ধার গুলিতে সে প্রাণ হারায়, অপরদিকে অপমানের হাত থেকে বাঁচার জন্য মেয়েটিও আত্মহত্যা করে। অধ্যক্ষ নিজেকে পুত্রের হত্যাকারী বলে ঘোষণা করে সব অপরাধের ভার আপন কাঁধে তুলে নেন এবং পুলিশের কাছে ধরা দেন। পুলিশের সঙ্গে জেলে যাওয়ার সময় অধ্যক্ষ তার স্ত্রীকে বলেন, ‘তুমি এক ছেলে হারিয়েছ কিন্তু তোমার সাত ছেলে (মুক্তিযোদ্ধাদের দেখিয়ে) রেখে গেলাম’।”

“সময়টা বঙ্গবন্ধুর শাসনকাল। তার সময় মুক্তি পেয়েছে। স্বভাবতই তার সায় ছিল। এখানে নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু সাহেব ‘যে ভাষায় যেভাবে এমন একজন গুণীকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করলেন তার প্রতিবাদের ভাষা আমার জানা নেই। এতে কেবল উনি খান আতাকে অপমান করেননি করেছেন পুরো মুক্তিযোদ্ধাদের। কারণ ওই ছবিতে সবাই ছিলাম আমরা মুক্তিযোদ্ধা। আমরা দেশ গঠনে মনোনিবেশ হতে একাত্ম হয়েছি বলেই সেদিন সে ছবিতে মনপ্রাণ ঢেলে অভিনয় করেছি।”

চলচ্চিত্র পরিবারের আহ্বায়ক ফারুক বলেন, ‘সে সময় যে প্রেক্ষাপট ছিল সেটা যেমন আপনি (বাচ্চু) জানেন তেমনি আমরাও জানি। ছবিতে এতোদিন পর কি এমন পেলেন যে এটাকে নেগেটিভ মনে হল আপনার?’

তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ আপনিও করেছেন আমরাও করেছি। তার মানে এই নয় যে আপনার কাছ থেকে জানতে হবে কে যোদ্ধা আর কে রাজাকার।’

যদি তাই হয় তবে নিজেকে পন্ডিত বলে জাহির করতে চাওয়া মি. বাচ্চু আপনিই বলেন, ‘কি কি কারণে কোন কোন পরিস্থিতিতে রাজাকার বলা যায়। খান আতার তেমন কি জানা আছে আপনার, সেটা প্রকাশ করুন। নইলে মুক্তিযোদ্ধারা এর উপযুক্ত জবাব দেবে।’

গবেষক মীর শামসুল আলম বাবুর গবেষণায় অজানা খান আতা

ক) ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সৈন্য যখন ঢাকা অ্যাটাক করে তখন খান আতা গুলিস্তান অফিসে ইস্ট পাকিস্তান প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির বৈঠক করছিলেন। আক্রমনের কথা শুনে ইস্ট পাকিস্তানের স্থলে ‘বাংলাদেশ’ শব্দটি জুড়ে দিয়ে করেন বাংলাদেশ প্রযোজক-পরিবেশক সমিতি। সভায় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে জহির রায়হান ও আলমগীর কুমকুম উপস্থিত ছিলেন।

খ) মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস ‘আমার সোনার বাংলা’ যে গানটি অনুপ্রাণিত করেছে সেটি নেওয়া হয়েছে ‘জীবন থেকে নেয়া’ ছবি থেকে। আর গানটি অর্কেস্ট্রা করেছিলেন খান আতাউর রহমান।

গ) ‘এখনও অনেক রাত’ ছবির মহরত অনুষ্ঠানে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে খান আতাউর রহমান বলেছিলেন- “যুদ্ধ চলাকালীন আমি একটি বিবৃতিতে সই করতে বাধ্য হয়েছিলাম। সই করার আগে সেখানে আরেকটি সই দেখতে পাই। তাৎক্ষণিক তাকে ফোন দিই ‘আপনি সই করেছেন দেখছি ওরা অস্ত্রসহ এসেছে আমি কি করবো? টেলিফোনের ওপাশ থেকে জবাব আসে দিয়ে দেন। আমি সই করি। বিশ্বাস না হলে আজকে আমার মহরত উদ্বোধন করতে আসা কবি সুফিয়া কামালকে জিজ্ঞাসা করুন।” (মাহবুব আজাদ রচিত খান আতাউর রহমান। বাংলা একাডেমি। প্রকাশকাল ২০০১)।

ঘ) ১৯৭৩ সালে ‘আবার তোরা মানুষ হ’ ছবিটি এফডিসির ব্লাক-ওয়াইট ল্যাবে দেখানো হয়। সেখানে অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (বর্তমান ত্রাণমন্ত্রী) ছবিটির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

জবাব চাইবে পরিচালক সমিতি
এদিকে নাসিরউদ্দিন ইউসূফ বাচ্চুর এমন মন্তব্যে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি। সমিতির সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম খোকন গণমাধ্যমকে বলেন-সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। তিনি ফিরলে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। ব্যাখ্যায় উপযুক্ত জবাবে ব্যর্থ হলে নিয়ম অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

সকল মন্তব্য

মন্তব্য দিতে চান তাহলে Login করুন, সদস্য না হলে Registration করুন।

সকালের আলো

Sokaler Alo

সম্পাদক ও প্রকাশক : এস এম আজাদ হোসেন

নির্বাহী সম্পাদক : সৈয়দা আফসানা আশা

সকালের আলো মিডিয়া ও কমিউনিকেশন্স কর্তৃক

৮/৪-এ, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত

মোবাইলঃ ০১৫৫২৫৪১২৮৮ । ০১৭১৬৪৯৩০৮৯ ইমেইলঃ info@sokaleralo.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Developed by IT-SokalerAlo     hit counters Flag Counter