Monday, December 17, 2018
Login
Username
Password
  সদস্য না হলে... Registration করুন
দি লু রো কি বা                  র ফি কু ল ই স লা ম                  জা হা না রা খা তু ন                 ফ য়ে জ উ ল্যা হ মা হ মু দ                 রা ব বা নী স র কা র                  কে না হা র রে নু                  না স রি ন জা হা ন মা ধু রী                  এ স কা ম রু ন না হা র                 জা হা না রা খা তু ন                  সে লি না শি ল্পী                  এ স কে ত ন্বী লি জা                 

বন্ধু ফোরাম


শা র মি ন আ ক্তা র
নারী দিবসে আমার ভাবনা :
সময় : 2018-04-17 11:14:44

নারীর স্বাধীনতা, নারীর সন্মান, নারীর মুক্তি, নারীর অধিকার যাই বলিনা কেন এগুলো স্রেফ কথার কথা হলে কষ্মিনকালেও অর্জিত হবেনা। বরং প্রথমে নারীদেরকে বুঝতে হবে তার অধিকার কি, সন্মান বা অসন্মানই বা কিসে। দ্বিতীয়তঃ নারীর মায়েদের মাথা থেকে কিছু সংস্কার তাড়িয়ে দিতে হবে। তৃতীয়তঃ, জাতীয় সংস্কৃতি ও কৃষ্টিতে কিছু সংস্কার আনতে হবে। চতুর্থতঃ, একটি নৈতিক শিক্ষা শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বস্তরের কারিক্যুলামে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। পঞ্চমতঃ, সুশাসন ও আইনের প্রয়োগে বৈষম্য দূর করে আইন আদালতকে সত্যিকারের অন্ধ বানাতে হবে। সর্বপোরি নারীকে শিক্ষিত ও অর্থনৈকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে।

দফাগুলো এই স্বল্প পরিসরে সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করছিঃ
১) আমার কাছে নারী স্বাধীনতা বা নারী সন্মান বা নারীমুক্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ও ফানি নৈতিক ও মনস্ত্বাত্ত্বিক অন্তরায় মনে হয় বিয়ে করে নারীকে স্বামীর বাড়িতে স্বামীর পরিবারে গিয়ে উঠতে হয়। এতে মনে হয় বিয়েটা বুঝি নারীর প্রয়োজনেই। আসলে তো তা নয়, বিয়ে এবং বিয়ের কন্সিকিউয়েন্স সব কিছুই নারীর যেমন প্রয়োজন পুরুষেরও সমভাবে প্রয়োজন। সুতরাং প্রত্যেক নারীকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বিয়ে করে যদি স্বামীর বাড়িতে স্বামীর পরিবারে গিয়ে উঠতে হয় তবে বিয়েই করার দরকার নেই। বস্তুত যৌতুকের কষাঘাতের মূল উৎপত্তি এখান থেকে। এমন আরো অনেক অধিকার ও সন্মান অসন্মান বোধের বিষয় আছে যেগুলোর ব্যপারে নারীকে সচেতন হতে হবে। 
২) একটা মেয়ের বয়স ৮/৯ পেরুলেই প্রথমে মায়ের শরীরে জ্বালা ধরে কতক্ষণে মেয়েটাকে পার করবে। একটা মেয়ের মা-বাবারই বদ্ধমূল ধারণা যে মেয়েটাকে বিয়ে দিতে পারলেই তার ইজ্জত হুরমতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলো। প্রথমে মা'ই বাবাকে বিরক্ত ও উস্কাতে থাকে মেয়ের সম্বন্ধ খুঁজতে। এই সংকার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে মেয়ে পরিবারগুলো বিশেষ করে মা'কে। এখন থেকে বিয়ে দেয়া নয় মেয়েকে স্বাবলম্বী করে দেয়াই মেয়ের নিরাপত্তার গ্যারান্টি - এটা মগজে ঢুকাতে হবে।
৩) আমাদের সংস্কৃতি ও কৃষ্টির সর্বত্রই নারী অপ্রয়োজনে অপব্যবহার ও উপস্থাপিত হচ্ছে। বিজ্ঞাপন চিত্র বিল বোর্ড সাইন বোর্ড থেকে শুরু করে মিউজিক ভিডিও চলচ্চিত্র সর্বত্র নারীকে নেতিবাচক ভাবে অকারণে অপ্রয়োজনে অবাঞ্চিতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এমন একটা মিউজিক ভিডিও আমি দেখিনি যেখানে নারীর প্রতি দর্শকের টিজিং অনুভূতি সৃষ্টি করেনা। একটা চলচ্চিত্রে অপ্রয়োজনে একটা নাচ জুড়ে দেয়া হচ্ছে, তাও ওসব কি নাচ? নাকি দর্শকদের যৌন সুঁড়সুঁড়ি দেয়া - বুঝতে কষ্ট হয়না। ওয়েস্টার্ন সিনেমা দেখুন আর উপমহাদেশের সিনেমা দেখুন পার্থক্য স্পষ্ট। ওদের অভিনয়ের জন্য পৃথক কোন পোষাক নেই, প্রাত্যহিক বা দৈনন্দিন জীবনে যেরকম পোষাক পরে অভিনয়ের জন্যও তাই, আর নাচ বলে কোন উপসর্গ তো নাই। কিন্তু এই উপমহাদেশের সিনেমায় অভিনয়ের জন্য আলাদা বিশেষ পোষাক, নাচের জন্য বিশেষ পোষাক, যাতে আমাদের সমাজের প্রাত্যহিক জীবনের কোন প্রতিচ্ছবি নেই, বরং উদ্দেশ্য নারীকে দর্শকের কাছে যৌন আবেদনময়ী করে তোলা। এই চরিত্র থেকে আমাদের কালচারকে বেরিয়ে আসতে হবে। এখানেও নারীদেরআত্ম-সন্মান অসন্মান বোধের নিজস্ব একটা ব্যপার আছে।
৪) তেঁতুল হুজুর বলেছেন নারী তেঁতুলের মত দেখলেই জ্বীবে জল আসে। নীচের প্রস্তাবিত এই নৈতিক শিক্ষা যদি থাকে কারো নিকট নারীকে তেঁতুল মনে হয়ে জ্বীবে জল আসবেনা। আবার অনেকে নারীর পোশাককে এবং অবাধ চলাফেরাকে যৌন অপরাধের জন্য দায়ী করেন। আমি একমত নই, যদি নীচের এই নৈতিক শিক্ষা সর্বত্র শিখানো হয় যে "ওই নারীর উপর আমার মিউচুয়্যাল অধিকার আছে যে নারী আমার স্পাউস, অথবা আমার বাগদত্তা, অথবা আমি নিশ্চিতভাবে জানি যে ঐ নারী পেশাজীবী যৌনকর্মী (এখানে কেউ আইন বা বৈধতা অবৈধতার প্রশ্ন তুলবেন না, এটা সামাজিক বাস্তবতা বলে লিখতে হলো)। এর বাইরে কোন নারীর উপর কারো অধিকার নেই। হতে পারে একজন নারীর নৈতিক স্খলন হয়েছে বা চারিত্রিক অধঃপতন হয়েছে বা রুচির বিভ্রান্তি হয়েছে বলে সে উদাম অবাধ চলাফেরা করছে - কিন্তু তাতে কি? এসব কিছুতেই ঐ নারীর উপর আমার কোনরূপ অধিকার জন্মায় না।" এই নৈতিক শিক্ষা সকল কারিক্যুলামে সকল শ্রেণীর পাঠ্যপুস্তকে, সভাসমিতি সেমিনার সিম্পোজিয়াম সকল গনমাধ্যমে আলচিত হতে হবে। এতে যৌন অপরাধ সমাজে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
৫) সামাজিক ন্যায়বিচার এবং আইন আদালত অঙ্গন অন্ধ - এই দুটো বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। অনেকেই যৌন অপরাধ ও নারীর সন্মানের জন্য নারীর পোষাক ও চলাফেরাকেই একমাত্র দায়ী করে থাকেন। ব্যপারটাকে কি আসলে সত্য? সবাই সমাজের একটি দরিদ্র পরিবারের কন্যা জায়া জননী ঘরের কোণায় বসে থেকেও টিজিং ধর্ষণের শিকার হতে দেখি। পক্ষান্তরে এও দেখা যায় খুব শর্ট ড্রেস আপ করে অনেক পরিবারের নারী যখন জগিং-এ বের হন তখন সমাজের চিহ্নিত টিজাররাও পালিয়ে গিয়ে দোকানের পেছনে লুকোয়। ব্যাখ্যা কি? পোষাক? অবাধ চলাফেরা? না, সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং বিত্ত ও রাজনৈতিক শক্তির কু-প্রভাব যা লালিত পালিত ও আশ্রিত হয় 
সুশাসন ও আইনের প্রয়োগের পক্ষপাতিত্বে। সত্যি বলতে কি বাংলাদেশে কোন ক্ষমতাবানের প্রান্তিক সদস্যও একটা অপরাধ করে পার পেয়ে যায় কিন্তু আমেরিকার ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টও ইনপিচমেন্টের শিকার হয় নৈতিক স্খলনের দায়ে - হোকনা কোন সুদূর অতীতের স্খলন। আমি জানি অদিতি বৈরাগীকে নিগৃহকারী কারোই কোন বিচার বা শাস্তি হবেনা বরং নিশ্চিতভাবে এই অপরাধীরা চিহ্নিত হলে পদ পদবী দ্বারা পুরষ্কৃত হতে পারে, এমন নজিরই বেশী আছে। 
৬) নারীর যত সমস্যা তার বেশীরভাগের সূতিকাগার নারীর অন্ন বস্ত্র বাসস্থান শিক্ষা চিকিৎসা প্রভৃতির জন্য পিতা ভ্রাতা স্বামী ইত্যাদির উপর নির্ভরশীলতা। এই নির্ভরশীলতা যতদিন তিরোহিত না হবে ততদিন নারী স্বাধীনতা নারীমুক্তি নারী সন্মান সুদূর পরাহত এবং অসম্ভব। এজন্য নারীকে শিক্ষিত উপার্জনক্ষম হতে হবে। অন্যথায় রাষ্ট্রকে এসব মৌলিক চাহিদা পূরণের দায়িত্ব নিতে হবে পিতা ভ্রাতা স্বামী সমাজপতি রাজনৈতিক নেতাকে নয়।

ইচ্ছা আছে এ বিষয় নিয়ে আরো বড় পরিসরে আরো বিশদভাবে কাজ করব।(লেখাটি অদিতি বৈরাগীকে উৎসর্গ করছি)। 

এই সংবাদটি 86 বার পঠিত হয়েছে




এই পাতার সর্বাধিক পঠিত খবরসমূহ

না সি মা খা ন

স্ব প ন চ ক্র ব র্ত্তী

স্ব প ন চ ক্র ব র্ত্তী

স্ব প ন চ ক্র ব র্তী

বৃষ্টির গল্প

সকল মন্তব্য

মন্তব্য দিতে চান তাহলে Login করুন, সদস্য না হলে Registration করুন।

সকালের আলো

Sokaler Alo

সম্পাদক ও প্রকাশক : এস এম আজাদ হোসেন

নির্বাহী সম্পাদক : সৈয়দা আফসানা আশা

সকালের আলো মিডিয়া ও কমিউনিকেশন্স কর্তৃক

৮/৪-এ, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত

মোবাইলঃ ০১৫৫২৫৪১২৮৮ । ০১৭১৬৪৯৩০৮৯ ইমেইলঃ newssokaleralo@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Developed by IT-SokalerAlo     hit counters Flag Counter