Thursday, April 9, 2020
Login
Username
Password
  সদস্য না হলে... Registration করুন
রু খ সা না র ফি ক                  পা র মি তা চ্যা টা র্জী                  মোঃ শা মী ম হো সে ন                 শি রী ন সু ল তা না স ম পা                 আ ফ সা না চৌ ধু রী (রীণা রাজেশ্বরী)                  সে লি না আ খ তা র                 ডাঃ গো লা ম র হ মা ন ব্রা ই ট                 এ ম সা ফা য়ে ত হো সে ন                  কো হি নূ র র হ মা ন                 না সি মা খা ন                  আ রে ফি ন শি মু ল                  দি লু রো কি বা                  না জ মু ল হ ক স র কা র                  জা হা ঙ্গী র বা বু                  মো বা র ক হো সে ন                 নূ রু ন্না হা র নী রু                 রা ব বা নী স র কা র                  রু দ্র অ য় ন                  পৃ থা রা য় চৌ ধু রী                


বন্ধু ফোরাম


অ মি ত গো স্বা মী
কেস খেয়েছেন কেষ্ট’দা :
সময় : 2020-03-26 22:06:07

আমাদের পাড়ার কেষ্টদা এখন হেব্বী টেনশনে আছেন। কেষ্টদা পাড়ার সবার দাদা। আমার দাদু, বাবা থেকে আমি আমার ছেলে সব্বাই তাঁকে কেষ্টদাই ডেকেছে। বয়সের গাছপাথর নেই। তবে কেষ্টদা কিন্তু ফুল সেলিব্রিটি। কাগজে কাগজে মাঝে মধ্যেই তার কথা ছাপা হয়। সেদিন দ্যুম করে আমায় ডেকে পাঠিয়েছিলেন তার বাড়িতে। বাড়ি তো নয় প্রাসাদ। খোদ বিশ্বকর্মা প্রকৌশলীর প্ল্যানে বানানো। গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম,
- কি কেস কেষ্টদা? হঠাৎ এই অধমকে তলব?
- আরে বোস, বোস। আগে শরবত খা। মিষ্টিমুখ কর। দুজনে সুখে সিগারেট ধরাই। তারপরে...
ভেতর থেকে কে যেন সাবধান করল। দুঁদে সেয়ানা বুড়ো। বিনা মতলবে ডাকে নি। বললাম,
- না গো দাদা। সময় নেই। তুমি সোজা কেসটায় এসো।
- হুম। শোন, তুই এখন উকিল হয়েছিস। আইন জানিস। তার ওপরে তো রাজনীতি করছিস। কাজেই তুই আমাকে সঠিক ইনফরমেশন দিতে পারবি।
- খুলে বলো তো কেষ্টদা। ধানাই পানাই ছাড়ো। যা জিজ্ঞাসার সোজা জিজ্ঞাসা করো।
- শুনলাম কী একটা মেয়েদের আন্দোলন হয়েছে, হ্যাশট্যাগ মিটু। তুই জানিস?
- জানি। মেয়েরা সোশাল সাইটে তাদের পুরোন যৌণ নিপীড়নের কথা লিখছে। তাই নিয়ে হৈ চৈ। এক মন্ত্রীর গদিও তো গেছে। কিন্তু তাতে এই বয়েসে তোমার কী যায় আসে?
- আরে সে কথাই তো বলছি। হঠাত সোশাল সাইটে বৃন্দাবন কলোনির রাই আমাকে থ্রেট করেছে যে সে আমার অল্প বয়েসের কীর্তি কাহিনী নাকি ফাঁস করে দেবে।
- ধ্যাত, রাই ঠাকুমা কবে মরে গেছে। রাই ঠাকুমা মানে তো ঘোষবাড়ির আয়ান দাদুর বউ?
- হ্যাঁ রে, আর মারা গেছে তো আমার সামনে। কিন্তু কে এই কেলোটা করছে বল তো?
- সেটা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছো কেন? সেসব কবেকার ব্যাপার চুকেবুকে গেছে। কেউ মস্করা করছে।
- আরে নাহ। বলেছে যে চরিত্র সংশোধন বা নারীশুচিতা নিয়ে বা কিছু নিয়ে কাগজে বাতেলা করা যাবে না।
- কোন কাগজের চক্রান্ত নয় তো?
- আমার তো কিছু লুকোন নেই। ‘ভাগবৎ পুরাণ’, ‘বিষ্ণু পুরাণ’, ‘মহাভারত’, ‘হরিবংশ’ – এই চারটে কাগজেই আমার বিয়ের কথা ওরা ফলাও করে লিখেছে। কেউ সাতটা, কেউ আটটা আবার কেউ নয়টা বউয়ের নারী নক্ষত্র লিখেছে।
- তবে তোমার সবচেয়ে আলোড়নকারী বিয়ে তো প্রথমটা। সেই যে বিদর্ভ কলোনীর ভীষ্মক পাতিলের মেয়ে রুক্মিনী ঠাকুমার কেসটা। তুলে এনে বিয়ে করেছিলে। তুমি তখন ফুল হিরো ছিলে কেষ্ট’দা।
- কী করব! দেখে পছন্দ হয়ে গেল। তখন আমি এই দ্বারকা কলোনির সর্বেসর্বা। আমাকে মুখের ওপর ফুটিয়ে দিল। আমিও তেমন ঢ্যামনা। তক্কে তক্কে ছিলাম। একদিন মন্দির থেকে বেরোতেই বাইকে তুলে নিলাম। কয়েকটা বন্ধুও ছিল। শালা, ওর বাপ ভাইরা পিছু ধাওয়া করল। ততক্ষনে আমি পগার পার। এখানে নিয়ে এসে দিলাম সিঁদুর পড়িয়ে।
- কিন্তু তারপরেও তুমি লাগাতার বিয়ে করেছ।
- কী করা যাবে বল। তখনও বহুবিবাহ নিষিদ্ধ হয় নি। আমার আবার শুক্র বেশ তেজোদীপ্ত ছিল। কাজেই…
- তা অবশ্য ঠিক। সামলে তো নিতে পেরেছো। আর আমরা একটা বউ নিয়েই…
- শোন, গরু ও জরু সামলে রাখার শিক্ষা তোরা আর কোথায় পেলি? বউয়ের ব্যাপারটা ছাড়…
- হ্যাঁ, ঠিকই। তুমি রাই ঠাকুমার কেসটা বলছিলে। পুরো খুলে বলো তো। তাহলে বলতে পারব কী করতে হবে।
- শোন, তবে। আমি অল্পবয়েসে আয়ানমামার বউকে দেখে ফিদা হয়ে গেছিলাম। তখন আমার বয়স নিতান্তই অল্প। আমার দাদু উগ্রসেন তখন বেঁচে। বুঝলাম, দাদু টের পেলে আমার চামড়া তুলে নেবে। কিন্তু আমার তখন অবস্থা বিলা।
- তারপর?
- আয়ান মামার এক বৃদ্ধা পিসী তখন দিনের বেলায় রাইমামীকে চোখে চোখে রাখে। তার নাম ছিল বড়াই বুড়ি। আমি একদিন ক্যাডবেডি কিনে সাথে একটা ছোট লাভলেটার খামে ভরে বুড়িকে দিয়ে বলি যে মামীর চিঠি এসেছে বাপের বাড়ি থেকে। বুড়ি বিশ্বাস করে রাইমামীকে দেয়। মামী তো চিঠি পেয়ে মহাখাপ্পা। আমার বাপ ঠাকুর্দা তুলে মহা খিস্তি করল। আমিও তেমনি নাছোড়বান্দা। ভাবলাম, দাঁড়াও, দেখো আমি কী করি!
- কী করলে কেষ্টদা?
- তেমন কিছুই করতে হল না। একদিন দেখি আমাদের চলনবিলে নৌকো করে রাইমামী শাঁপলা তুলছে। আমি আমার শাকরেদ গুপীকে বললাম, ডুব সাঁতারে নৌকো ডুবিয়ে আসতে পারবি? ডোবাতে পারলেই দশ টাকা। গুপী নৌকো ডুবিয়ে দিল। আমি ঝাঁপ দিয়ে উদ্ধার করলাম। বেশ ভাল রকমের জড়াজড়ি হয়েছিল। রাইও বেশ রেসপন্স করেছিল। উঠে সবাইকে বলল যে আমি না থাকলে সে মরে যেত। আমি এলাকার হিরো হয়ে গেলাম।
- বাহ। তারপরে?
- তারপরে আর কী? যা হয়! আমি মাউথ অর্গান বাজাতে শুরু করলাম আর রাই শুনতে লাগল। একদিন বনে গজমোতির হার হারিয়ে একটু সমস্যায় পড়েছিল রাই। আরে খুলে রেখেছিস পাশে, সব পড়ার সময় মালাটাও পড়, বেমালুম ভুলে গেল। আমি আর কী করি, দাদু উগ্রসেনের তবিল ঝেড়ে গড়িয়ে দিলাম। সব মিলে রাই ফিদা।
- তারপরে?
- তারপরে আর কী! চা খেয়ে ভাঁড় ফেলে দেওয়া। ফুটিয়ে দিলাম রাইকে। কিন্তু সে কী ছাড়ার পাত্রী। ততদিনে আয়ান মামা গন কেস। রাই তো বৃন্দাবন কলোনী ছেড়ে এই দ্বারকা কলোনীতে ঘর নিলো। আমার বাসায় কাজ নিলো। বোঝ কান্ড। তদ্দিনে আমার বিয়ে হয়ে গেছে। রাইয়ের সাথে আর ওসব হয় নাকি। তা দুএকদিন সামান্য আদর টাদর করে বললাম, ফিরে যাও। তা সে চলে গেল ফের বৃন্দাবন কলোনীতে। কিন্তু আমি যখন পার্টির অ্যাকশনে গিয়ে আহত হলাম। সবাই ধরে নিল আর বাঁচব না। তখন রাই এসে আমায় দেখে এমন অসুস্থ হল যে ওই পটকে গেল। আমি বেঁচে উঠলাম।
- তাহলে তো চুকেই গেল। আজ আবার পর্দাফাঁসের ধমকি আসছে কেন? ইস্যু কি?
- আরে ইস্যু তো একটাই। একবার চলনবিলে রাই ওর বন্ধুদের সাথে স্নান করছিল। তখন এ তল্লাটে লোকজন ছিল না। ওরা জামাকাপড় পারে রেখে স্নান করতে নেমেছিল। আমি সেসব দেখে আর নিজেকে সামলাতে পারি নি। আমি সবার জামাকাপড় গাছে লুকিয়ে ঘাটের সেই গাছে উঠে চুপ করে বসেছিলাম। ওরা তো স্নান সেরে পারে এসে খোঁজাখুঁজি। ওরা টের পেয়ে গেল আমি গাছে আর কান্ডটা আমার। রাইকে পরে ম্যানেজ করেছিলাম। কিন্তু ওর বন্ধুরা আমার ওই কীর্তি টের পেয়ে ব্যাপক ক্ষেপে গেল। কিন্তু বলবে কী করে? কাজেই তখন চেপে গেছিল। এখন তো মনে হচ্ছে কেউ একজন বলছে বলে দেবে। রাইয়ের নামে ফলস অ্যাকাউন্ট খুলে আমায় চমকাচ্ছে।
- তুমি বলে দেবে ঢপ। এরকম হয়ই নি।
- বললে পাবলিক মানবে কেন? আমার চরিত্র যে ফুলের মত পবিত্র নয় তা পাবলিক জানে। আর সমস্যা আরো। একজন লিখে দিলে বাকীরা তো তাল দেবে। এই সম্মিলিত কীর্তণে আমার তো প্রেস্টিজে গ্যামাক্সিন হয়ে যাবে। আমাকে তো লোকে ভগবান মানে।
- হুম, বাঁচার একটাই রাস্তা আছে।
- কী করতে হবে?
- সোজা একটা স্ট্যাটাস দাও সোশাল সাইটে। লিখবে যে – কেষ্টা ঘোষের চরিত্র/ ফুলের মত পবিত্র/ তার গুনগান করবে যে/ সোজা যাবে বেহস্তে।
- তাতে কী হবে?
- কিছুই হবে না। এটা পোস্টের পরে যদি তোমার কীর্থিগাথা নিয়ে হৈ চৈ হয়। বলতেই পারবে যে ওটা অ্যান্টিসিপেটরি পোস্ট ছিল অ্যান্টিসিপেটরি বেল-এর মত। বিরোধীরা অপপ্রচার করবে জেনেই তুমি আগেই পোস্ট দিয়েছ।
- তাতে আমার লাভ কী হবে? বদনাম তো হয়েই যাবে।
- কে বলল বদনাম? বিতর্কিত নাম হবে। সংবাদে টিভিতে রাস্তায় ঠেকে সবজায়গায় তোমার নাম বিয়ে বিতর্ক হবে। তুমি ফের লাইমলাইটে চলে আসবে। তারপরে টিভিতে বসবে, বাইট দেবে। সবশেষে হয়ত লোকসভার টিকিট। এখন তো চরিত্রে চতুর্ভুজ লোকরাই নির্বাচনে টিকিট পায়। সাথে সামান্য বিতর্কের কাদা গায়ে লেগে থাকলেই হল। লাভই লাভ।
- বলছিস?
- পাক্কা।
- তবে তাই হোক। তুইও দেখিস যদি এই বদনামের ব্যবস্থা করতে পারিস। কী যেন নাম এটার?
- হ্যাশট্যাগ মিটু।

এই সংবাদটি 73 বার পঠিত হয়েছে




এই পাতার সর্বাধিক পঠিত খবরসমূহ

না সি মা খা ন

স্ব প ন চ ক্র ব র্ত্তী

স্ব প ন চ ক্র ব র্ত্তী

স্ব প ন চ ক্র ব র্তী

স্ব প ন চ ক্র ব র্তী

সকল মন্তব্য

মন্তব্য দিতে চান তাহলে Login করুন, সদস্য না হলে Registration করুন।

সকালের আলো

Sokaler Alo

সম্পাদক ও প্রকাশক : এস এম আজাদ হোসেন

নির্বাহী সম্পাদক : সৈয়দা আফসানা আশা

সকালের আলো মিডিয়া ও কমিউনিকেশন্স কর্তৃক

৮/৪-এ, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত

মোবাইলঃ ০১৫৫২৫৪১২৮৮ । ০১৭১৬৪৯৩০৮৯ ইমেইলঃ newssokaleralo@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Developed by IT-SokalerAlo     hit counters Flag Counter