Sokaler Alo
April 27, 2018
Login
Username
Password
  সদস্য না হলে... Registration করুন
২৪ এপ্রিল দেশের পোশাক শিল্প খাতের এক শোকাবহ দিন                 উদ্ধার হচ্ছে না অসাধুচক্রের কবলে থাকা দেশের সম্পদ সরকারের খনন করা কপোতাক্ষ নদ                

উপ- সম্পাদকীয়


দেশ চিন্তা- গুলশান জিম্মি সংকট: শিক্ষণীয় ও করণীয়
এস এম আরিফ আলম :
সময় : 2016-07-11 10:18:10

আমরা শোকাহত! আমরা হতবাক! বিশ্ববাসি চোখের জল ফেলেছে এ ভয়াবহ নষ্ঠিুরতায়।
প্রত্যেক সংকট বা সমস্যা নতুন পথ সৃষ্টি করে দেয়। আর কিছু কিছু বিষয় আছে একবার শেষ হয়ে গেলে, সেই এক জীবনে আর কিছু পাওয়ার থাকে না! আমাদের দেশে নানা চক্রান্তে রাজনীতি পরিচালিত হয়, জ¦ালাও পোড়াও, খুন-খারাবি, ধর্মীয়, নাস্তিক-আস্তিক, প্রগতিশীল-প্রতিক্রিয়াশীল, নানা গ্রুপের মধ্যে অনেক হত্যাকান্ড ঘটেছে বিভিন্ন সময়ে; সাম্প্রতিক ক’বছরে বিভিন্নভাবে আগুন লাগিয়ে ১৫০ জনের মত মানুষ পুড়িয়ে মারা হয় (বিশেষ করে ২০১৩-২০১৪ সালে) হরতাল অবরোধের নামে। গত জানুয়ারি ২০০৪ থেকে এপ্রিল ২০১৬ পর্যন্ত ক্রসফায়ার ও বন্ধুক যুদ্ধে বিচার বর্হিভ’ত হত্যাকান্ডে মৃত্যু হয় ১৬৩৫ জনের (বাংলাদেশ প্রতিদিন-০৩.০৭.২০১৬), ২০১৩ সাল থেকে ৪০ জন মানুষ ইসলামি জঙ্গি হামলায় মারা যায় এবং ৪০ টির মত ধর্ম মন্দির জঙ্গিরা ভেঙ্গে ফেলে (ফরেন পলিসি ম্যাগাজিন, ৬.০৭.২০১৬), ঢাকায় মার্র্কিন দুতাবাসের সাবেক ও ইউএসএআইড’র কর্মকর্তা জুলহাস মান্নানকে কলাবাগানে সন্ত্রাসী হামলায় মেরে ফেলে আমেরিকাকে ক্ষেপিয়ে তুলতে চেয়েছিল। এছাড়াও, দেশের নিরাপত্তার স্বার্থে গত মাসে মাত্র স্বল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ১৩,০০০-১৪,০০০ সন্দেহভাজন নাগরিক (বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে বিভিন্ন ডাটা প্রকাশ) পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে বন্দি হয়েছেন, এটা বিরোধি রাজনৈতিক দলগুলোকে ও সন্ত্রাসীদের ওপর  নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও, সাধারণ মানুষ স্বস্থি পেয়েছে। অন্যদিকে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতনে গত সাত বছরে দেশে ১০১ জন এর মৃত্যু হয়েছে (প্রথম আলো-২৭.০৬.২০১৬), মানুষ এটাও চায় সুশাসন করতে গিয়ে, ব্যাপক হারে মানবাধিকার লঙ্ঘন হোক, সেটা দেখতে চায় না। আবার মানবাধিকার রক্ষায় ব্যাপক মানুষের প্রাণ চলে যাক সেটাও সরকার ও জনগণ চাইবে না। ২০ জন বিদেশি লোককে গুলশানে জিম্মি করে হত্যা করা, কোন সভ্য জাতি মেনে নেয়নি, নিতে পারে না। অবশেষে গত ০১.০৭.২০১৬ রাত্রে ‘ঢাকা এ্যাটাক’ বা ‘গুলশান জঙ্গি হামলা’য় মৃত্যু হলো সর্বমোট ২৮ জনের এবং আহত সন্দেহভাজন জাকির হোসেন ওরফে শাওনও চিকিৎসাধীন ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে মারা যায় (০৮.০৭.২০১৬: বিভিন্ন মিডিয়া খবর), কিশোরগঞ্জের ‘শোলাকিয়া জঙ্গি হামলা’য় ২ জন পুলিশসহ ৪ জন মারা যায় ঈদের দিন (০৭.০৭.২০১৬) মৃত্যু বরণ করেন এবং এই হামলার জঙ্গি আহত আবির (নর্থ-সাউথ বিশ^দ্যিালয়ের ছাত্র) পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। বাংলাদেশে এভাবে নানান কারণে, নানান উপায়ে, মৃত্যুর (স্বাভাবিক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াই) সংখ্যা প্রতিদিন বেড়েই যাচ্ছে এবং ক্রমশ: মানুষ অস্থির হয়ে পড়ছে। মানুষ শান্তি চায়, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ কেউ পছন্দ করে না, এমনকি জঙ্গি পরিবারগুলোও জঙ্গিবাদকে মনে প্রাণে ঘৃণা করে। যারা সরকার হটাতে যতবার অগণতান্ত্রিক ও স্বেচ্ছাচারি আন্দোলন করেছে, ষড়যন্ত্র করেছে, ততবারই তারা বিফল হয়েছে এবং জনসমর্থন হারিয়ে ফেলেছে। গত ১লা জুলাই ২০১৬ জঙ্গি হামলা কোন বিশেষ রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্তায় গেরিলা প্রশিক্ষণের মাধ্যমে হয়েছে কি না, তা উড়িয়ে দেয়া ঠিক হবে না। আর এসব আন্দোলন ও ষড়যন্ত্র সরকার শক্ত হাতে মোকাবেলা করেছে বটে, তবে তা মোকাবেলায় পড়েছে নানান বিপাকে ও বিব্রতকর অবস্থায়। আর তা প্রতিরোধে সরকারকে আরো জনমুখি, আরো জনকল্যাণকর, আরো উন্নয়নমুখি হতেই, আরো সুশৃঙ্খল, আরো সুসজ্জিত হতে হবে, নচেৎ- এরকম ছোট-খাটো দমকা হাওয়ায় ‘গুলশান ঘর’ পড়ে যেতে পারে ।  
বর্তমান সরকার প্রগতির সরকার, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে গড়ে চলেছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা বাংলাদেশের তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত ৪৫ বছরে বাংলাদেশের এত দ্রুত ও বলিষ্ট উন্নয়ন কখনো চোখে পড়েনি। হায়দার আকবর খান রনো’র ‘সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মীয় জঙ্গিবাদ ও ক্রসফায়ার’ নিবন্ধে বলা হয়েছে, ১৯৪৭ এর দিকে মানুষ সাম্প্রদায়িক ছিল সত্য, কিন্তু এখন মানুষ ধর্মান্ধ (প্রথম আলো-২৭.০৭.২০১৬)। তাই, দেশে বেড়ে যাচ্ছে ধর্মের নামে ধর্মান্ধতা, বিবেকের নামে, বিবেকহীনতা, আন্দোলনের নামে মানুষ জবাই করে কসাইগিরি করা, মানুষ মেরে টুকরো টুকরো করে বস্তায় বস্তায় লাশ ফেলে দেওয়া-  পৈশাচিকতা ছাড়া আর কি বা হতে পারে! এই উপমহাদেশে উন্নত সভ্যতা গড়ে উঠেছিল, আমরা এই সভ্যতার আলোকে বাংলাদেশ ও গোটা বিশ^কে আলোর পথ দেখাবো বলে স্বপ্ন দেখি, আর সেই দেশে কি না চলে ধর্মের ও গণতন্ত্রের নামে উগ্ররাজনীতি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ। আমাদের দেশের রাজনীতি দেখে মানুষ কষ্ট পায়, আন্দোলনের নামে আমাদের দেশে হয় স্বেচ্ছাচারিতা। গত ১লা জুলাই ২০১৬ এ গুলশানের ‘হলি আর্টিসান বেকারি স্প্যানিশ  রেস্তোরাঁ’ এবং ‘ও’কিচেন রেস্তোরাঁ’য় এক সংঘবদ্ধ ও দীর্ঘপরিকল্পিত নৃশংস জঙ্গি আক্রমণ ঘটে যায়। শুধু এ অভিজাত এলাকায়ই নয়, বোধ হয় আর কখনও বাংলাদেশের ইতিহাসে বিদেশিসহ এমন নিষ্ঠুর হত্যাকান্ড হয়নি, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ব্লাক ফ্রাইডে’ (সমকাল-০৫.০৭.২০১৬)। এ দু:খের ইতিহাস শুধু বাংলাদেশের সতের কোটি মানুষের নয়, বরং পৃথিবীর সাড়ে সাত শত কোটি মানুষকে নাড়া দিয়েছে বিবেকে ও মেধায়। এ জঙ্গি হামলায় যা ঘটেছে, তা বড়ই মর্মস্পর্শি, গ্লানিকর, হৃদয় বিদারক ও বেদনা বহুল। বাংলাদেশ- এখন তার  গৌরবের ইতিহাস, ঐতিহ্য, উন্নয়ন সর্বক্ষেত্রকে মুছে দিয়ে বিশে^র সাধারণ মানুষের নিকট জঙ্গি রাষ্ট্রের তালিকায় স্থান পেতে চলেছে, ভাবতেই কষ্ট হয়! বাকরুদ্ধ হবে কি ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’! না, তা হবে না, আমরা লাল সবুজের পতাকাকে সাহসিকাতায় সমুন্নত রাখবো। যখন বাংলাদেশ এর স্বাধীনতার ৪৫ বছর পেরিয়ে যাচ্ছে, শেষের ক’বছরেই আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ  ট্রাইবুনাল ১ ও ২ এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানদন্ড বজায় রেখেই শেখ হাসিনার সরকার যুদ্ধাপরাধিদের বিচার করে রায় কার্যকর করছে, ঠিক সেই সময়ে বাংলাদেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে। তাতে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্র। পাকিস্তানের সংসদে যুদ্ধাপরাধি মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার পর যে সকল কথা প্রকাশ করেছে, তাতে বাংলাদেশের পাকিস্তানের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সাংঘর্ষিক হওয়ার কথা। পাকিস্তান এখনও নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, সৌদি আরবও আস্থা রাখতে পারছে না, ‘নবনবী মসজিদে’ হামলায় ৪ জন এর মৃত্যু হয় এবং হামলার করার কারণে, ‘১২ জন পাকিস্তানি নাগরিক বন্দি হয়েছে’ (০৮.০৭.২০১৬- বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম) মোট ১৯ জন বন্দির মধ্যে, তাদের অনেকেই বেশ আহত। মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর, ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন না করে বাংলাদেশ ধর্য্যরে পরিচয় রেখেছে, তবে ঢাকা প্রতিবাদ করেছে। শেখ হাসিনা, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দক্ষতা ও যোগ্যতার সাথে দেশ পরিচালনা করছেন আজ প্রায় ১২-১৩ বছর। আর ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’ এর  সভাপতি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন ৩৫ বছর। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য তনয়া শেখ হাসিনা স্বল্প সময়ে বাংলাদেশকে বিশে^র দরবারে সম্মানের সাঁড়িতে নিয়ে এসেছেন। নরেন্দ্র মোদি’র ভাষায়, ‘বঙ্গবন্ধু দেশের ভিত্তি স্থাপন করে গেছেন, আর তাঁর কন্যা দেশকে উন্নত করে চলেছেন’। বঙ্গবন্ধু সেক্যুলার রাষ্ট্র গড়ে তুলেছেন অসীম সাহসিকতায় স্বল্প শিক্ষিত ও তলাবিহীন রাষ্ট্রে। আর শেখ হাসিনা দেশকে ইতোমধ্যে প্রায় মধ্যম আয়ের পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন, তা বিভিন্ন সূচকে গবেষকরা মূল্যায়ণ করেছেন। কিন্তু, শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সেক্যুলার রাষ্ট্রের কাঠামো থেকে বের হয়ে কিছু ইসলামি দলের সাথে ব্যালেন্স করে চলেছেন, ‘ইসলাম হয়েছে রাষ্ট্র ধর্ম’ কিন্তু রাষ্ট্র এখনও ধর্মনিরপেক্ষ! যা প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে যাঁরা জড়িত তাঁরা দেখছেন, যে ভোটের স্বার্থে শেখ হাসিনা সাপের সাথে খেলা করছেন, তবে না জেনেই হয়তো। নিজে সাপের সাথে খেলতে খেলতে নিজেই সাপের কামড়ে না পড়েন- এ আশঙ্কা সব সময়েরই। আশা করবো তিনি বুঝতে পারছেন, ইসলাম ধর্মের নামে লেবাসধারি, জঙ্গিবাদিদের সাথে রাজনীতি করা বা ছাড় দেওয়া সঠিক হচ্ছে না, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকেও এটা উপলব্ধি করানোর দায়ও বর্তিয়েছে। তবে, সত্যিকার ইসলাম ধর্ম পালনে শেখ হাসিনা নিজে যেমন পালন করেন, তেমনি সকল মুসলমানের জন্য তিনি বহুমুখী ব্যবস্থা করে চলেছেন। ইসলাম ধর্ম পালনে কারো কোনই আপত্তি নেই। ইসলাম ও জঙ্গিবাদ এক নয়। ইসলাম মূলত: মুসলমানদের পবিত্র ধর্ম। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ অপরাজনীতির স্বার্থে পরিচালিত, অন্য মত ও পথকে রুদ্ধ করার জন্য। মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী মো: নাসিম ঘোষণা করেছেন,  যে মসজিদে খুদবা পড়ার সময় নজরদারি রাখা (১০.০৭.২০১৬  দৈনিক মানবকন্ঠ, দৈনিক যুগান্তর), অর্থাৎ, কেউ মসজিদে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কায়দা করে কিছু ঘটাতে চায় কি না, তা জানতে হবে। গত ১লা জুলাই ২০১৬ রোজার দিনে, এশা’র আযানকালে সশস্ত্র জঙ্গি হামলা করে বিদেশি নির্মূল করার অভিযান ভীষণ লজ্জ্যার ও অসম্মানের, মানবতা বিরোধি কর্মকান্ড, যা সভ্যদেশ হিসেবে বাংলাদেশকে অনেকাংশে কলঙ্কিত করে রাখবে (০২.০৭.২০১৬- বঙ্গবন্ধু চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ হাসিনার ভাষনের মূল কথা)। যাই হোক, এ ব্যর্থতা আমাদের জাতির, জঙ্গি হামলার নির্দেশ দাতা ও রসদ যোগানকারিদের খুঁজে শাস্তি না দিতে পারলে দেশ আরো প্রশ্নবিদ্ধ হবে, দেশের স্বার্বভৌম বিনষ্টের পথ প্রসার হতে পারে। তাই ক্ষমা নয়, যে কোন মূল্যে  দোষীদের খুঁজে বের করে চরম বা দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি প্রদান করা হোক। যদিও আপনারা জানেন, তবুও ‘গুলশান জিম্মি সংকট: শিক্ষণীয় ও করণীয়’ আমার ও জনগণের দৃষ্টিতে বিবেচনা করে পাঠক আপনাদের সদয় অবগতির জন্য নি¤েœ বর্ণিত হলো ধারাবাহিকভাবে, উপসংহার ছাড়াই ১ থেকে ১৭ পয়েন্টে: 
গত ১লা জুলাই ২০১৬ ‘নারায়ের তাকবির আল্লাহু আকবর’ বলে আক্রমন শুরু করে ঢাকার গুলশান-২ এর ৭৯ নম্বর সড়কের ‘হলি আর্টিসান বেকারি নামক স্প্যানিশ রেস্তোরাঁর’ এবং ‘ও’চিকেন রেস্তোরাঁ’ দুটোতে (একই ভবনে অবস্থিত), একটি মাইক্রোবাসে মাত্র ১৮-২৫ বছরের ক’জন বাংলাদেশি যুবক ছুটে প্রবেশ করে সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁ দু’টোতে। এছাড়াও, সশস্ত্র অভিযান চলাকালীন সময়ে একটি কার (চার চাকার ছোট গাড়ি) অপেক্ষা করছিল এ এলাকায়, বোধ হয় সন্ত্রাসিদের পালিয়ে যেতে সাহায্য করার জন্য। এদের মোটামুটি সকলেই উচ্চ শিক্ষিত, সকলেই অভিজাত ইংরেজি স্কুলে পড়া লেখা করা এবং অভিজাত পরিবারের সন্তানেরা। জঙ্গি আক্রমনের বর্ণনা জেনে বা পড়ে মনে হয়েছে, তারা বিশেষভাবে অস্ত্র পরিচালনা বিদ্যাতেও ভালভাবে প্রশিক্ষিত বা পারদর্শি জঙ্গি। তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালিয়েছে ও জিম্মি পরিচালনা করেছে, বিদেশিদের মেরে বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রা রোধ করবার যেমনি তাদের ছিল উদ্দেশ্য, ঠিক তেমনি সরকারের পরিবর্তনে সহায়ক ভ’মিকা রাখার অভিপ্রায়ও ছিল বলে মনে হয়। সারা দেশে এই অল্প সময়ে যত হত্যাকান্ড হয়েছে, মূলত: রাজনৈতিক উদ্দ্যেশেই করা হয়েছে, নানা কৌশলে কখনও মুয়াজ্জিন মেরে, কোথাও বৌদ্ধ ভিক্ষুক, কোথাও পুরোহিত মেরে, আবার কোথাও এনজিও কর্মী মেরে, কখনও নাস্তিক আখ্যা দিয়ে হত্যা করে, কখনও লেখক, প্রকাশক, কখনও পুলিশ মেরে, কোথাও বিদেশি মেরে। কোথাও অন্য কোন কায়দায়, সপিংমলে অভিনবভাবে (হয়ত, লিফ্ট ছিঁড়ে পড়েনি, জঙ্গি কৌশল হতে পারে) মেরে ফেলা কিংবা ত্রাস সৃষ্টি করা, যা সহজে মানুষ সন্দেহ করবে না। বাংলাদেশ শান্তি ও উন্নয়ন এর মূর্ত প্রতীক এবং উন্নয়নের রোল মডেল হয়ে উঠেছে, সমৃদ্ধশালি দেশ হিসেবে গড়ে উঠার স্বপ্ন দেখছে; তা অনেকের বা অনেক দেশের খুব একটা পছন্দ নয়। তাছাড়া, যুদ্ধাপরাধিদের বিচার ও রায় কার্যকর করা হয়ত তাদের পছন্দ হয়নি এবং হবেও না। সারাদেশে (বাংলাদেশ) মেগা বা বড় বড় প্রজেক্ট বাস্তবায়ণ হচ্ছে (পদ্মা সেতুর কাজ, মেট্রোরেল বা পাতাল রেলের কাজ, ‘রুপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র’ তৈরির কাজ, রামপাল কয়লা চালিত বিদ্যুৎ প্রকল্প, তৈরি পোশাক শিল্পে প্রভৃতিতে ব্যাপক পরিমাণ বিদেশিরা কাজ করছেন), নানান দেশের সাথে কাজ চলছে, যেখানে ‘দৈনিক প্রথম আলো’ ১লা জুলাই ২০১৬’র তথ্য মতে বাংলাদেশে, বিদেশিদের সংখ্যা একবোরেই কম নয়, কূটনৈতিক মিশন এ কর্মরতসহ সর্বমোট ১,১১,৫৭৫ জন (এক লক্ষ এগারো হাজার পাঁচ শত পঁচাত্তর), তন্মধ্যে ৯১০ (নয় শত দশ) অবৈধভাবে বসবাস করছেন। এই তথ্য প্রকাশ হওয়ায় জঙ্গিরা কতটুকু প্রস্তুত নিয়েছে জানি না; তবে জঙ্গি আক্রমনের ধরণ দেখে মনে হয়েছে এটি দীর্ঘ সময় ধরে চিন্তা ভাবনা করে ঘটানো হয়েছে। যদি এ বিদেশিদের আক্রমণ করা যায়, তাহলে সরকারের বা বিরোধি দলের ওপর অনেক বড় আকারের চাপ সৃষ্টি করা যাবে বলে ঠিক ধরে নিয়েছে; তারই অংশ হচ্ছে গুলশান জিম্মি সংকট, এটা নিছক আভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্র নয় বরং এর বর্র্ধিত রুপ আন্তর্জাতিক চক্রের সাথে। গুলশান আক্রমনের আগে পরে অনেক হামলা হয়েছে বিশ^ব্যাপি। আইজিপি মি: শহীদুল ইসলামের ভাষ্য মতে, ‘প্রতিবছর বাংলাদেশে ঈদের সবচেয়ে বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় যেখানে প্রায় দুই লক্ষ লোক একসঙ্গে নামাজ আদায় করে। সেই জামায়েতের জঙ্গিরা বোমা মারার পরিকল্পনা করেছিল, আতঙ্ক ছড়াতে ২জন পুলিশসহ মোট ৪ জনকে মেরে ফেলেছে এর নিকটবর্তী স্থানে, ১৫ জন হয়েছে আহত’ (বিটিভি: ০৭.০৭.২০১৬ এর রাত ৮:০০ টার খবর),যদি মিশন সফল হতো শোলাকিয়ায়, তাহলে হাজার হাজার মানুষ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে পারতো। কারণ, হয়ত ১০ জন গুলি খেয়ে মরতো, আর ভয়ে দৌড়া- দৌড়ি, ছুটা-ছুটি করে বাকীরা মারা যেতে পারতো।       

চলছে ঘরে বাহিরে ষড়যন্ত্র। উল্লেখ্য, গণজাগরণ ম  একটি প্রগতিশীল ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লালিত সংগঠন, যা বর্তমান সরকারকেই পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করে চলেছে। সেদিন গণজাগরণ মে র ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন না হলে, কাদের মোল্লার যেমন ফাঁসি হত না, তেমনি বাকী যে ক’জনের ফাঁসির রায় এ পর্যন্ত কার্যকর হয়েছে, তাও করা সম্ভব হত না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার হেফাজতিদের ওপর দৃঢ মনোবল ও বিশ^াসের কারণে, প্রথম পর্যায়ে এই সব সঙ্কট বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। পরবর্তীতে ‘হেফাজত বাহিনী’ যখন শাপলা চত্ত্বরে গণজমায়েত ও ঢাকার পল্টনসহ বিভিন্ন স্থানে কোরআন শরীফসহ নানান কিতাব ও অফিস পুড়িয়েছিল (সিপিবি অফিসসহ), সেদিন সন্ধ্যায় সারা দেশের মানুষ মতিঝিল ও পল্টন এলাকার আগুনের লেলিহান শিখা দেখেছিল, সে কি ভয়াবহ দৃশ্য! গোটা বিশ^ দেখেছে, ঢাকা পুড়ে যাচ্ছে, গ্রীষ্মকালীন সাইবেরিয়া বা ক্যালির্ফোনিয়ার বনের মত। এই কুচক্রিরা সে শাপলা চত্ত¦র আন্দোলনের রাতেই শেখ হাসিনার সরকারকে উচ্ছেদ করার অভিপ্রায়ে ছিল, গভীর রাত পর্যন্ত তারা শাপলা চত্ত্বরে অবস্থান করছিল। পরে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি করলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে ভোর রাতে শান্তিপূর্ণভাবে চত্ত্বর ছেড়ে চলে যেতে মাইকে অনুরোধ করে বারংবার। পরে, সময় মত কথা না শোনার কারণে, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এবং একইভাবে এর আগে ২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোট সরকার বিজয় লাভ করবার মাত্র দুই মাসের মাথায় বিডিআর বিদ্রোহ করে শেখ হাসিনার  সরকারকে আতুর ঘরেই গলা টিপে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু শেখ হাসিনার বিচক্ষণতায় তা সফল হতে পারেনি। সেদিন বগুড়ার নম্বর প্লেট ওয়ালা এ্যাশ কালার বা ছাই রঙের একটি মাইক্রোবাস পিলখানার অস্ত্রাগারের সামনে এসেছিল বলে প্রচার হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তীতে এ বিষয়ে আমরা আর কিছুই জানতে পারিনি। আরো মজার ব্যাপার যে সেদিন দুপুরের আগেই অপপ্রচার হয় যে, একটি দলের ঢাকার নেতা ‘পিন্টুকে পিলখানায় মেরে ফেলা হয়েছে’, তখন অবাক হই, এখানে পিন্টু সাহেবকে মারা হবে কেন? তার  তো পিলখানায় থাকবার কোন যৌক্তিকথাই নেই। এ দুটো তথ্য লোক মুখে মুখে আমরা সেদিন জানতে পারি। আমি সাতমসজিদ রোডে উঠে ‘ইউল্যাব’ পর্যন্ত আসার চিন্তা করছিলাম, কিন্ত পরিস্থিতি আরো অবনতি হওয়ায়, সারা পথে মানুষের আতঙ্ক থাকায়, আর সামনের দিকে যেতে পারিনি খোঁজ নিতে। তখন এসব খবরের বিশ্লেষণে বুঝতে পারি এ বিডিআর বিদ্রোহ শুধু বিদ্রোহই না, এই বরং নতুন সরকার বা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র। পরে রাষ্ট্র এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা ও আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার করে শাস্তি প্রদান করেছে এবং বিডিআর থেকে বিজিবি নামধারণ করেছে এ প্রতিষ্ঠানটি। সময়মত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীরা এসেছিল বলে দুটো বড় হামলাই বিশেষ কৌশলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে ব্যর্থ করা হয়। ব্যর্থ করা হয়, এ জন্য বললাম, আসলে বিদেশিদের জিম্মি করে তারা সরকার হটাতে চেয়েছিল- এটা যেমনি সত্য, তেমনি তারা বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্রের বোরকা (আইএস) পড়াতে চেয়েছিল, তা করতে পারেনি। আমরা ভীষণভাবে  শোকাহত, দু:খিত, ব্যথিত বিদেশি ভাই বোনের মৃত্যুতে, আমাদেরও তো দেশি ভাই ও বোনেরা বা সন্তানেরাও তো একই ভাবে মৃত্যুর শিকার হয়েছে, জিম্মি ছিল একই রেস্তোরাঁয়। ইসলামি ভাবধারার লেবাসে কাউকে কাউকে শুধু মেরেই ফেলেনি সেদিন, যাঁরা সুরা পড়তে পেরেছেন, তাঁরা বাঁচতে পেরেছেন। কিন্তু, বিদেশিদেরকে কি সুরা পড়িয়ে মারা হয়েছে! কারণ, জঙ্গিরা বলেছে, ‘তোমাদের সাথে বেহেস্তে দেখা হবে’ (এখনও জানি না, এর সঠিক কারণ। সমস্ত জিম্মি ও জঙ্গিদের সকল মোবাইল ফোন এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে, তাঁরা, সমস্ত ফোন কোম্পানীর সহায়তায় সকল তথ্য, মোবাইলের কথোপকথন, যোগাযোগ সমূহ ও অন্যান্য উপাত্ত সংগ্রহ করতে পারবেন), হয়ত জিম্মিদশা ক’দিন অতিবাহিত হলে বাকিদেরও মেরে ফেলতো বা পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সরকার উৎখাত হতেও পারতো বিদেশিদের এই জিম্মি চাপেও। উল্লেখ্য, যে জনৈক্য বিরোধি দলীয় সিনিয়র যুগ্ন সচিব, ঘটনার রাতেই পত্রিকায় প্রেস রিলিজ দেন, যে এ ঘটনায় ‘তার দলকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে সরকার’, আবার ০৬.০৭.২০১৬  তিনিই বলেন, ‘দ্রুত অভিযান চালানো উচিৎ ছিল’, তিনি আরো বলেন, যে ‘প্রধানমন্ত্রীর উচিৎ ছিল ০২.০৭.২০১৬ এর সকালে মেট্রো রেল এর উদ্বোধনী কর্মসূচি বাতিল করা’, সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী সাধ্যমত চেষ্টা করেছে, আর এ রকম হামলা মোকাবেলা করার জন্য পরিস্থিতি বুঝে কাজ করা উচিৎ নয় কি? ইতোমধ্যে ঘটনার শুরুতেই তো অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশের দু’জন গুরুত্বপূর্ণ অফিসার মরেই গেলেন। আক্রমনের প্রথম ২০-৩০ মিনিটের মধ্যেই বিদেশিদের হত্যা করা হয়েছে বলে গোটা বিশ^ জানে (প্রথম দিকে, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন টাইম বলা হয়েছিল, কখনও বলা হয় ১১টার মধ্যে সব বিদেশিদের মারা হয়েছে, কখনও বলা হয় আক্রমনের ২০ মিনিটের মধ্যে, আবার কখনও বলা হয় ৩০ মিনিটের মধ্যেই), সেক্ষেত্রে কি লাভই বা হত ঐটুকু সময়ে? সামগ্রিকভাবে কমান্ডো অভিযান, পুলিশ, র‌্যাবসহ সকল আইন শৃঙ্খলা বাহিনী যথা সাধ্য চেষ্টা ও সফল হয়েছেন। জনৈক্য বিরোধী দলীয় নেত্রীও তো পারতেন গুলশান পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখে আসতে? কিন্তু তিনি সেটি করেননি। বরং সকলের মতে সরকার যথাযথভাবেই চেষ্টা করেছে। গত ০৬.০৭.২০১৬ এর অন লাইন নিউজে জানা যায় আইএস পর্যায়ক্রমে ঢাকায় আরো অভিযান চালাতে পারে, যমুনা ফিউচার পার্কও বাদ যাবে না (এই প্রচার আইএস এ যোগদানকারি বাংলাদেশি জঙ্গিরা করেছে)। তাই, সবারই নিজেকে প্রশ্ন করা উচিৎ দেশ রক্ষায় প্রত্যেকের কি কোন করণীয় নেই? দেশতো ভালই চলছিল, বেশ কিছু বিরোধী দলের কারণে দেশে মৌলবাদি ও জঙ্গিবাদি অবস্থান তৈরি হয়েছে। গত কয়েকদিনে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তুরুস্ক, সার্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, মালোশিয়া, সৌদি আরবসহ বহু দেশে সন্ত্রাসি কর্মকান্ড পরিচালনা হয়েছে। মূলত: সেখানে আইএস এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভ’মিকা রয়েছে। পিতা-মাতার সৌদি তরুণ নাগরিক ও সন্তানকে ইয়েমেনে আইএস জঙ্গি সংগঠনে যোগ দিতে বাঁধা দেওয়ার কারণে পিতা-মাতা-ভাই- বোনকে জীবন দিতে হয়, যা বড়ই বিশ্ময়কর বিষয়! গত ০৭.০৭.২০১৬ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে একজন কৃষ্ণাঙ্গকে পুলিশ কর্তৃক গুলি করে মেরে ফেলায়  (বিটিভি-০৮.০৭.২০১৬) ডালাসে গণবিক্ষোভ ঘটে যায় এবং উত্তেজিত জনতা ৫ জন পুলিশকে গুলি করে হত্যা করে (আন্তর্জাতিক মিডিয়া-০৮.০৭.২০১৬), পক্ষে বিপক্ষে সন্ত্রাসবাদি কর্মকান্ড গোটা দুনিয়াকে অস্থির করে রেখেছে। তাই জঙ্গিবাদ বিরোধি জনসচেতনতা সৃষ্টিতে দ্রুত প্রচারাভিযান চালাতে হবে নিজ নিজ অবস্থান থেকে। আমেরিকার ওরল্যান্ডোতে জঙ্গি হামলায় ৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাতে অসুবিধে নেই। অন্যদেশে এসব হলে আমেরিকা বরদাসত করে না। তবে, অন্যদেশে হলে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গণহত্যা, নির্যাতনের অযুহাতে তাঁদেরকে আমেরিকা আক্রমণ করতে দ্বিধা করে না। একইভাবে, ইরাক, সিরিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান এ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আইএস বা আল-কায়দার অযুহাতে তাঁদের স্বার্ভভৌমের প্রতি হুমকি হচ্ছে। এর সহিংসতা কিংবা জঙ্গিপনা নিয়ে এখন থেকে আর কেউ কাঁদা ছোঁড়া ছুঁড়ি করবেন না; খাল কেটে কুমির আনবেন না। মানুষ জানে কারা বাংলাদেশকে অস্থিতিশিল করেছে ও করছে। দেশেই হোক আর বিদেশেই হোক, বিশ^বাসি শান্তি চায়। আর দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে আছে দক্ষিণ এশিয়া’ গৌতম লাহিড়ীর লেখায় প্রকাশ পায় শেখ হাসিনার গুরত্ব, আন্তর্জাতিক সন্ত্র্াসবাদ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ উদয় ভাস্কর বলেন, ‘‘এখন গোটা বিশ^ এক সংকটের মুখে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য-আফ্রিকা-খাড়ি দেশগুলোতে এখন জঙ্গি হানা নিত্য ঘটনা। তা নিয়ে চলছে পক্ষে-বিপক্ষে বিতর্ক। তাই এখনই সময় বিশে^র প্রগতিশীল-চিন্তাশীল রাষ্ট্রনেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। নইলে আগুন দাবানল হয়ে পড়বে’’ (সমকাল-০৫.০৭.২০১৬), আমাদের পরিস্থিতি বুঝতে দেরি নেই, এখন সকল শান্তিকামি সন্ত্রাস বিরোধি মানুষের কি করণীয় সেটাই নির্দেশ করতে ও পালন করতে আহবান করা শ্রেয়:।

গণজাগরণ মঞ্চকে ভেঙ্গে দেওয়া হল, হেফাজত আন্দোলনের সাথে ব্যালেন্স করার জন্য। শাপলা চত্বরের ঘটনায় মন খারাপ হলেও, হেফাজতিরা পরে খুশি হয়েছেন গণজাগরণ ম  ভেঙ্গে দেওয়ার ফলে, তবে তারা কৌশল বদলিয়ে চলছে। সরকার থেকে নানান ধর্ম ভিত্তিক দলগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে চলার চেষ্টা করা হয়, অনেক ক্ষেত্রে প্রগতিশীল দলগুলোকে ওভার লুক করা হয়। বলা হয় নানাভাবে, এমনকি প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন একাধিকবার, ‘ধর্মের নামে কটুক্তি করা যাবে না’- সেটা ভাল কথা; তবে, অনেকে যুক্তিসঙ্গত আলোচনাকে যে বুঝতে চান না, বরং মনে করেন এটা ধর্মের বিরুদ্ধে কথা বলা হলো। অনেক দেশে নাস্তিকতাবাদের ওপর অনেকে উচ্চ ডিগ্রী অর্জন করেন, ডক্টরেট, পোষ্ট ডক্টোরাল ডিগ্রী অর্জন করেন। তাঁরা ধর্মের ওপর নানা ভাবে গবেষণা করে দেখেন বিশ^কে, রাজনীতিকে, ধর্মকে। ইউরোপের অনেক দেশের নামকরা বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে বিভিন্ন সাব্জেক্ট এর মত ‘নাস্তিকতাবাদ’ নামক একটি সাব্জেকেট পড়ানো হয় নানান উপায়ে, ‘ধর্ম’ও পড়ানো হয়। তাহলে, সেই নাস্তিকতাবাদ পড়ানো কি বন্ধ করবে ঐ বিশ^বিদ্যালয়গুলো?  জঙ্গিদের চাপে নাস্তিকতাবাদ পড়ানো বন্ধ করলে, সেই বিশ^বিদ্যালয় নিশ্চয় ‘ধর্ম পড়ানো বন্ধ করবে। ধর্মও ওখানে একটি বিষয় হিসেবে পড়ানো হয়। তাই, আপনি চাপ প্রয়োগ করে এসব বদলাতে পারবেন না, উচিৎও হবে না। উন্নত বিশে^ জ্ঞান বিজ্ঞান যে কোন শাখার জন্য খোলা, তা পৃথিবীর পাতাল থেকে মহাজগৎ পর্যন্ত, ইতিহাসের আদি থেকে অনন্ত পর্যন্ত কোনটিই বন্ধ নেই। তাই গবেষণা ও শিক্ষার জন্য কি করা উচিৎ, সেটি সেই বিশ^বিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব বিষয়। তাই যাঁরা খোলামেলা ভাবনার মানুষ, সেই ভাবনার মানুষকে নাস্তিক বলাও ঠিক না। আবার ঐ নৃশংসভাবে বিরোধিতা করাও ঠিক না। আমরা যদি পিছনের দিকে তাকিয়ে দেখি, তাহলে কি দেখবো, যেখানে ধর্মকে কেন্দ্র করে ভারত বর্ষের বিভক্তি হয়েছিল ধর্ম ভিত্তিক রাষ্ট্রের থিম নিয়ে; ২৪ বছরের পাকিস্তানি শোষণের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে বাংলাদেশর জন্ম হয় ১৯৭১ সালে। সেদিন মানুষ বুঝেছিল পাকিস্তান ধর্মের দোহাই দিয়ে পাকিস্তানে বাংলাদেশকে ধরে রাখতে পারেনি। সেই দেশকে স্বাধীন করতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশের প্রগতিশীল দলগুলোকে নিয়েই স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনেন, মুক্ত চিন্তার দল, মত ও মানুষকে সঙ্গে নিয়েই। সংবিধান রচনা হয়েছিল মুক্তচিন্তা, মানব কল্যাণ, সমতার চিন্তায়। তখন তিনি ইসলামিক চিন্তা মাথায় পোষণ করে আরেকটি পাকিস্তান করার কোনই স্বপ্ন দেখেননি। অথচ, শেখ হাসিনাকে অনেক ভেবে দেখতে হবে, প্রতিক্রিয়াশীল দলগুলো কখনই সহায়ক শক্তি হবে না। এখন বিএনপিসহ তারা সকলেই চেষ্টা করছে সরকারকে কত দ্রুত গদি থেকে নামানো যায়, সে জন্য তারা ভীষণ ব্যস্ত। প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী যে কোন সময়ের চেয়ে এখন অনেক হিং¯্র, গত ২০১৩-২০১৪ তে তারা যে তান্ডব লীলা চালায়, তা মানুষ ভোলেনি। মার্কিন নাগরিক অভিজিৎ বাংলাদেশে বেড়াতে এসে সন্ত্রাসী বা জঙ্গিদের হাতে টিএসসি এলাকায় রাজু চত্বরে নিহত হয়েছেন, তাঁর স্ত্রীর সামনেই চাপাতির আঘাতে। গণজাগরণ মে র রাজীবকে হত্যা করা হয় তাঁর বাসার সামনেই, হালকা অন্ধকার আবেশে;  হুমায়ূন আজাদ স্যারকে ফুলার রোডে জামায়াত শিবির ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারে, শাহাদৎ  হোসেন মুক্ত চিন্তার ছাত্র রাজনীতি করত- তাঁর শিবির রুমমেট ধারালো ছুরি দিয়ে রুমে মেরে ফেলে। কুড়িগ্রামে নবম শ্রেণির নিরাপরাধি ছাত্র রেজাউল করিম নতুনকে মিছিলকারি জামায়েত-শিবিরের লোকেরা নৃশংসভাবে মেরে ফেলে। এসকল হত্যাকান্ডের সঠিকভাবে কারোরই বিচার হয়নি! এমনিভাবে অনেক শিক্ষক, ছাত্র, প্রগতিশীল নানা সংগঠনের লোকদেরর কৌশলে আজো মেরে ফেলা হয়। কিন্তু, সরকার রাজনীতি ও রাজনীতির ভারসাম্য বজায় রাখতে গিয়ে তাদের সঠিক সময়ে সঠিকভাবে বিচার বিলম্বিত করেছে, কখনও কখনও সম্পন্নও করতে পারেননি। এটি শুধু একটি সরকারের বেলা নয়, সকল সরকারের বেলায় দেখা যায়। কিন্তু যখন এ ধরনের হত্যাকান্ড হয় নিয়মিত হতেই থাকে, তখন  যে বদনাম হয়, তা দেশের ভিতরেই থাকে না বরং গোটা বিশে^ ছড়িয়ে যায়  বৈকি। তাই, জাতীয় স্বার্থ সবার আগেই ভাবা উচিৎ, আর এ দায়িত্ব দেশের প্রত্যেক নাগরিকের। 

 দেশের অনেক বিদ্যাপীঠগুলোতে বিশেষ করে বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী বেশ সক্রিয় ভ’মিকা পালন করছে বলে আজকাল বিভিন্ন মিডিয়া সরব। তবে অনেক বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় আছে সেখানে মুক্ত চিন্তারও চর্চা হয়। তবে, শিক্ষকদের ওপর নির্ভর করে ছাত্র-ছাত্রিরা উন্মুক্ত চিন্তার হবে না কেন? দেশের বিদ্যাপীঠগুলোতেই তো মুক্ত চিন্তার চর্চা হবে, সেটাই স্বাভাবিক হওয়ার কথা। যখন শিক্ষক নিয়োগ হয় প্রতিক্রিয়াশীল চিন্তা-ভাবনার লোকদের নিয়ে, তাই নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষকরা হয়ে যান বেশ গোঁড়া এবং এর প্রভাব  ছাত্রদের ওপর সচারচার দেখা যায়, তাই আজ প্রশ্ন, ইউজিসি’র চেয়ারম্যান, অধ্যাপক আব্দুল মান্নান স্যার জাতীয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে কোন উদ্যোগ গ্রহণ করবেন কি না? অনেক সময় মুক্ত চিন্তার শিক্ষকদের পথ সঙ্কুচিত করা হয়। প্রতিক্রিয়াশীলদের প্রগতির ধারায় প্রশিক্ষিত করতে পারলে দেশের উন্নয়নের জন্য ভাল হবে। দেশে যখন মহাখালী, বনানী অ লে ভ্যাট আন্দোলন বেশ জোরদার হয়েছিল, মূলত: তখন নর্থ সাউথ বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রিদের কারণেই রাস্তা অবরোধসহ অনেক কিছুই হয়েছে, আর এর মূলে ছিল বিরোধি দলের ও বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। কিন্তু এই আন্দোলনে একটা নিখুঁত ডিসিপ্লিন দেখা গিয়েছিল, যা অন্য ছাত্র আন্দোলন গুলোতে তেমন একটা দেখা যায় না। ধারণা করা হয়, এই আন্দোলনের ভিতরে জামায়েত শিবিরের একটা বড় প্রভাব ছিল, যা প্রকাশ্য নয়। আরো খতিয়ে দেখা উচিৎ হবে- এই জঙ্গিরা কখন, কেন নিখোঁজ হয়ে গেল, কবে থেকে নিজেকেই বা লুকিয়ে রাখলো এবং কারা তাদেরকে নিখোঁজ করলো। পুলিশের তথ্য মতে ১০০ ছাত্র নিখোঁজ আছে, সহসায় তাদের খুঁজে বের করা উচিৎ (ইতোমধ্যে, মিডিয়াতে নিখোঁজ বা লুকিয়ে থাকা তরুণদের উদ্ধারে প্রচারণা চলছে), আবার নাকি এই জঙ্গিদের ভয়ের হুমকিতে অবিভাবকদের বড় অংকের চাঁদা গুনতে হচ্ছে সন্তানদের মুক্তির চিন্তায়। গত ০৭.০৭. ২০১৬ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল সংশ্লিষ্ট অবিভাবকদের অনুরোধ করেছেন, নিখোঁজ সন্তানদের নামের তালিকা ও নিখোঁজ হওয়ার ফ্যাক্ট সরকারকে জানাতে। তিনি আরও ঘোষণা করেন যে, যে সকল ছাত্ররা দীর্ঘদিন থেকে ক্লাসে অনুপস্থিত, বা নিজেকে লুকিয়ে রেখেছেন এবং যে সকল শিক্ষক সন্ত্রাসি বা জঙ্গি কর্মকান্ডের সাথে জড়িত তাদেরও তালিকা সরকারকে দিতে হবে। অনেক সন্ত্রাসী ও জঙ্গি বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আশ্রয় নিয়ে আছে, তা শুধু বাংলাদেশের জন্যই হুমকি নয়, বরং আইএস সম্প্রসারিত হলে ভারতের জন্যও হুমকি বটে। গণজাগরণের রাজীব হত্যাকারি যে ছিল, সে খুনিও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিরই ছাত্র, নাফিস যিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হামলার সন্দেহে আসামী হয়, সেও নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির ছাত্র। যারা গুলশানের হলি আর্টিসানে হামলা চালায়, তাদের বেশ ক’জনই এই বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। ঢাকার নামি-দামি স্কুলে এ সকল জঙ্গি পড়ালেখা করেছে যেমন: সানিডেল, স্কলাস্টিকা, টার্কি’স ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল প্রভৃতিতে লেখা-পড়া করা এই ছাত্ররা- আজ জঙ্গি রুপে প্রকাশ পাচ্ছে তাদের পরিচিতি, সত্যিই দু:খজনক! মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী মো: নাসিম এর মতে, ‘হলি আর্টিসানে হামলাকারিরা মূলত: শিবির’ (বাংলাদেশ প্রতিদিন-০৪.০৭.২০১৬), অনেকেই মনে করেন, বেশ কিছু বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিবির করে আসা কিংবা এখন জামায়েতে ইসলামীর সদস্য। তাদেরই ইন্ধনে আজকে কোমলমতি ছাত্ররা এ সব জঙ্গি সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে এবং তাদের ব্রেইন ওয়াশ করা হচ্ছে। এসকল ছাত্রদের অনেককে দীর্ঘদিন আটকিয়ে রেখে, কুকুরের মত জঙ্গি ও সন্ত্রাসী হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। ইচ্ছা করেই এদেরকে বেহেস্তের এত সহজ সহজ রাস্তা দেখিয়ে দেওয়া হয়, মোটিভেটেড করা হয়, এবং সহজেই এরা আকৃষ্ট হয়ে পড়ে, পরিণিত হয় ধারাল অস্ত্রে। তাইতো জঙ্গিরা মেরে ফেলার আগে বলেছিল ‘বেহেস্তে দেখা হবে’, দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেড়েছে কয়েকগুন, উচ্চ শিক্ষার জন্য ছাত্র-ছাত্রির সংখ্যাও বেড়েছে। কিন্তু বাড়েনি শিক্ষার গুণ। ভর্তি সংকটও রয়েছে। বিশেষভাবে, এখনও কয়েক লক্ষ ছাত্র-ছাত্রি ভাল প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারেনি, আসন সংকটের কারণে; তাদের সুব্যবস্থা করতে না পারলে এরা হতাশ হবে, বিপথগামি হতে পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠাগুলোতে মানবিক শিক্ষা পাঠদান নেই বললেই চলে, কমেছে প্রগতির শিক্ষা, আর বেড়েছে রক্ষণশীল শিক্ষার সকল উপায়, বিশেষ করে ধর্মীয় গোড়ামি ও কুসংস্কার বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য হয়েছে। এখনো অনেকে বুঝতে পারেন না বা বুঝতে চান না যে সূর্য, পৃথিবী, সৌরজগৎ, মিল্কী ওয়ে গ্যালাক্সি নিজস্ব কক্ষ পথে ঘোরে- মহা বিশে^র কথা বাদই দিলাম, সৌরজগতের প্রত্যেক গ্রহেরই চাঁদ আছে এবং কোন কোন গ্রহের রয়েছে ১৬ ও ১৮ টি করে  চাঁদ (মার্কিন সেন্সাস আলমানাক ২০০০); আর পৃথিবী গ্রহের রয়েছে মাত্র একটি- সেই চাঁদ দেখার ওপর আমাদের ঈদ নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রের নাসা’র ‘জুনো’ (০৪.০৭.২০১৬) ‘বৃহস্পতি’ গ্রহের কক্ষপথে প্রবেশ করেছে একটানা পাঁচ বছর পথপ্ররিক্রমণ করে। এখন, সৌরজগতের নিকটবর্তী তিনটি সূর্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে বলে জানা গেছে (অন লাইন মিডিয়া-১০.০৭.২০১৬)। বিশ^ বিখ্যাত বিজ্ঞানী ষ্টিফেন হকিংস (০৫.০৭.২০১৬) মত প্রকাশ করেছেন, ‘কৃএিম বুদ্ধি তৈরির জন্য’, বিজ্ঞানকে মানব কল্যাণে তৈরি ও ব্যবহার যেমন করতে হবে, তেমনি এই আবিস্কারকে স্বাগত জানাতে হবে বা গ্রহণও করতে হবে। মিছে তর্ক করবেন না, আগে ভাল করে পড়বেন- তাহলে বিনয়ী হবেন, জ্ঞানী হবেন। মুক্ত চিন্তা খারাপ না, স্বেচ্ছাচারিতা খারাপ। আপনার জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিজ্ঞানের ছোঁয়া আছে, আপনি মনোযোগ সহকারে ভাবলেই সব উত্তর খুঁজে পাবেন। অনেক রক্ষণশীলরা প্রগতির ও সত্য শিক্ষাকে ভয় পান। বাংলা একাডেমী সংলগ্ন পরমাণু শক্তি কেন্দ্রে মহা বিজ্ঞানী আইনস্টাইন এর আপেক্ষিকতা বিষয়ক থিওরির ১০০ বছর পুর্তিতে ‘টেলিস্কোপ’-১৯ এর আলোচনায় মাননীয় তথ্য মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুকে অন্যান্য টিভি চ্যানেলগুলোতে বিজ্ঞান বিষয়ক অনুষ্ঠান চালু করার অনুরোধ জানানো হয়। যেমন ‘মহা বিশে^র পথে পথে’ র মত অনুষ্ঠানগুলো সম্প্রচার রাখা হোক। উনি কথা দিয়েছেন, এ ধরনের সম্প্রচার অন্যান্য চ্যানেলগুলোতে প্রচার করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন, এটা ভাল দিক। (বাকী অংশ আগামীকাল) 

 লেখক: 
ড. এস এম আরিফ আলম
     বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, মানবাধিকার ও উন্নয়ন কর্মী

সকল মন্তব্য

মন্তব্য দিতে চান তাহলে Login করুন, সদস্য না হলে Registration করুন।

সকালের আলো

Sokaler Alo

সম্পাদক ও প্রকাশক : এস এম আজাদ হোসেন

নির্বাহী সম্পাদক : সৈয়দা আফসানা আশা

সকালের আলো মিডিয়া ও কমিউনিকেশন্স কর্তৃক

৮/৪-এ, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত

মোবাইলঃ ০১৫৫২৫৪১২৮৮ । ০১৭১৬৪৯৩০৮৯ ইমেইলঃ newssokaleralo@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Developed by IT-SokalerAlo     hit counters Flag Counter