Wednesday, September 26, 2018
Login
Username
Password
  সদস্য না হলে... Registration করুন
ষড়যন্ত্রের পথে নয়, জনতায় আস্থা রাখুন                

উপ- সম্পাদকীয়


দেশ চিন্তা-গুলশান জিম্মি সংকট: শিক্ষণীয় ও করণীয়
এস এম আরিফ আলম :
সময় : 2016-07-12 12:26:22

(গতকালের পর) 

জঙ্গিবাদ ঠেকাতে সরকারকে অনেক আগে থেকেই কিছু কাজ হাতে নিতে হয়েছিল, জঙ্গি বা সন্ত্রাসীদের বৈদেশিক অর্থ দেশে প্রবেশ ঠেকানো। সরকার বরাবরই সন্ত্রাসিদের বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে, বেসরকারি সংস্থাগুলো যারা প্রগতির জন্য ১৯৭১ সাল থেকে কাজ করে আসছে, যারা পরেও কাজ শুরু করেছে বুঝে কিংবা বা না বুঝে সরকার এর আগে তাদের অনেকের ফান্ড ছাড়ার ক্ষেত্রে আপত্তি রাখায়- এনজিওদের কষ্ট করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে উৎকোচ ছাড়া তহবিল ছাড়ও হয় না। তহবিল ছাড়াতে অযুহাত ছিল, কারণ এভাবে বিদেশি টাকা এলে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কথা ও কাজে সর্বদা মিল দেখা যায়। এ সব ঠিক শক্ত হাতে জঙ্গিবাদ দমনে অনেক প্রমান রেখেছেন। সম্পর্কে আমার এক বড় ভাই, একটি বাংলা-মার্কিন আইএনজিও’তে কাজ করতেন। প্রায় দশ বছর আগে তিনি আমাকে একটি গল্প বলেছিলেন যে, কিভাবে জঙ্গিবাদের জন্য কৌশলে দেশে বিদেশ থেকে টাকা আসে। তিনি বেশ ক’বছর আগে একবার এক বাড়ি ভাড়া নিতে গিয়ে সেখানে পুরানো কিছু গরু কেনার রশিদ বা ভাউচার পেয়েছিলেন, সেও কম করে হলেও ১০-১২ বছর আগের কথা, তাতে অসংখ্য গরু কেনার তথ্য পেয়েছিলেন। তিনি অবাক হয়েছিলেন, যে গরুর বাজার মূল্যতো এত নয়! গরুর প্রকৃত বাজার মূল্য তখন ৫,০০০-১৫,০০০ টাকা সর্বোচ্চ। অথচ, তখন বিল করা হয়েছিল প্রতিটির মূল্য এক লক্ষ থেকে এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা। অর্থাৎ, অনেক কম দামে ক্রয় করে খুব বেশি দামে বিক্রি দেখিয়ে যে বাড়তি টাকা থেকে যাচ্ছে, তা দিয়ে সে সময় প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক দলগুলো অস্ত্র-গুলি কিনে থাকতে পারে (হয়ত ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলা তারই সুত্র ধরে), তার মানে অনুদানের টাকা কিভাবে অন্যায়ভাবে জঙ্গিবাদে সহায়তা করে থাকতে পারে তা বুঝতে অসুবিধে হবে না। তাই মনে হলো, শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘বাংলার মাটি কখনও প্রতিবেশি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে না’ এবং ‘বাংলাদেশের মাটিতে কোন সন্ত্রাসবাদ এর স্থান নেই, থাকতে পারবে না‘ (বিটিবি-০৭.০৭.২০১৬)। গত ১লা জুলাই ২০১৬ এর গুলশানে আকস্মিক জঙ্গি হামলার পর পরই ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভারতে চার স্টেটকে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ প্রদান করেছেন (৩ ও ৪ জুলাই ২০১৬ এর ভিভিন্ন পত্রিকা), নরেন্দ্র মোদি শেখ হাসিনাকে সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ভারত বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ^াস প্রদান করে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স¦রাজও চিঠি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের সরকারকে উদ্বেগের সাথে ও নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়ে (০৮.০৭.২০১৬ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম); চিঠিতে ‘সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশ-ভারত সমন্বনিত উদ্যোগ’ চেয়েছেন। একই ভাবে জাপান, আমেরিকা, যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশ পাশে থাকবে বলে জানায় বিভিন্নভাবে জানিয়েছে। আমাদের ভরসা আছে শেখ হাসিনার ওপর- তিনি তাঁর সকল দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে যাবেন। কিন্তু, আজ আমরা ভিন্ন চিত্র কি দেখছি? সরকারের গোয়েন্দা বাহিনী এত বড় জঙ্গি হামলার খবর কোনভাবেই আগে থেকে বের করতে পারেনি বলেই ভয় অনেক বেশি, ক্ষতিও হল অনেক। গুলশান ভিআইপি জোন, কূটনৈতিক জোন, তাই সিসি ক্যামেরায় ঘেরা। সন্ত্রাসিরা কোন দিক থেকে সেদিন এসেছিল, কোন জায়গায় তাদের অবস্থান এসব কিন্তু বের করা কঠিন বিষয় ছিল না। তাই, দেরী হলেও, এখনও সঠিকভাবে খুঁজে বের করা তাদের আশ্রয়স্থল ও প্রশিক্ষণ সেন্টার। এ সব ছোট ছোট পরীক্ষা, সরকারকে অনেক ভেবে চিন্তে জনগণের নিরাপত্তা দিতে করতে হবে। ইতোমধ্যে (০৫.০৭.২০১৬) সব চ্যানেলে প্রচার হয়েছে, যে অভিযানের শুরুতে পুলিশের কিছু ভুল হয়েছে, বোধ হয় মাত্র ৬ জন পুলিশ জঙ্গি মোকাবেলা করতে গিয়ে ২ পুলিশের অফিসার মৃত্যুবরণ করেন। আবার শোলাকিয়া ঈদের জামাতের নিরাপত্তা বেষ্টুনির নিকটেই পুলিশদের উদ্দেশ্য করে হামলা করলে আবারো মোট ৪ জন মারা জান, তন্মধ্যে ২ জন পুলিশ ও ১ জন সন্ত্রাসী। এই ঘটনায় আহত ১৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় (বিটিভি-০৭.০৭.২০১৬), পরে, কিশোরগঞ্জ এস,পি নিশ্চিত করেন আবির নামক যে ছাত্র হামলার সময়ে পুলিশের পাল্টা আক্রমনে আহত ছিল, সে মারা যায়, সেও নর্থ-সাউথ বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র ছিল (০৮.০৭.২০১৬-সময় টিভি, বাংলাভিশন টিভি এবং দৈনিক বজ্রশক্তি-০৯.০৭.২০১৬)। সন্ত্রাসিদের লক্ষ্য ছিল শোলাকিয়া ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায়কারিদের হামলা করা। পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেখা যায়, পুলিশদের আরো ভালো করে জঙ্গি মোকাবেলায় প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে। এবং অনেকে মনে করেন, গুলশান ও শোলাকিয়া আক্রমনের উৎসগত মিল একই হতে পারে। 

ইতোমধ্যে দেখা গেছে, বাঙ্গালি আমেরিকান যারা বাংলাদেশ ভ্রমণ করেছেন, তাদের  বেশ ক’জনকে বিভিন্ন সময়ে জঙ্গি গোষ্ঠির মাধ্যমে নৃসংশভাবে হত্যা করা হয়েছে, মার্কিন দুতাবাস এর সাবেক কর্মি জুলহাস মান্নানও বাদ যায়নি। বাংলাদেশে যদি বিদেশি হত্যা হয়, বা মুসলমানরা মেরেছে, তাহলে অন্যদেশে মুসলমানকে  কেউ হত্যা করা করবে না, তা বলা মুশকিল। মার্কিন সহকারি পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল ১০.০৭.২০১৬ এ দু’দিনের জন্য ঢাকায় রাষ্ট্রীয় সফরে এসেছেন , দেখা যাক তিনি জঙ্গি কিংবা সন্ত্রাস দমনে কি বলেন। গত রবিবার (০৩.০৭.২০১৬) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হুসটনে এক মসজিদের পাশে জনৈক্য মুসলিম ডাক্তারকে তিন জন লোক মেরে ফেলেছে। গত ০৪.০৭.২০১৬, নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনের কোন এক মসজিদের সামনেও মুসলিমকে মেরে ফেলা হয়েছে। ‘গাড়ি চালানো অবস্থায় স্ত্রীর সামনে শেতাঙ্গ পুলিশ একজন কৃষ্ণাঙ্গকে চার চার বার গুলি করে মারার কারণে’, ডালাসে ৫ জন পুলিশকে অবশেষে বিক্ষুব্ধ জনতা মেরে ফেলেছে’(০৮.০৭.২০১৬-বিবিসি এবং দৈনিক বজ্রশক্তি-০৯.০৭.২০১৬), গোটা বিশ^ইতো জঙ্গিপনার আস্তরণে ঢাকা হয়ে যাচ্ছে, জঙ্গিবাদ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান এ সব বোঝে না। বুঝলে মধ্যপ্রাচ্যে একটিও মুসলমানকে মারত না। সৌদি আরবের মদীনায় মসজিদ নবনবীতে আত্মঘাতি বোমা বিষ্ফোরণে (০৪.০৭.২০১৬) ৪ জন মৃত্যুবরণ করেন, অর্থাৎ এখানেই হযরত মুহম্মদ (সঃ) পবিত্র রওজা শরীফ (০৪-০৫ জুলাই ২০১৬ এর বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমের খবর), সৌদি সরকার ঘটনার দিনই সন্দেহে করে যে এ ঘটনা পাকিস্তান করে থাকতে পারে। পরে, সত্যিই বিষয়টি প্রমানিত যে, আক্রমনকারিদের ১৯ জনের মধ্যে, ১২ জনই পাকিস্তানের নাগরিক ছিল। আসলে এর মূল কথা হচ্ছে বড় দেশগুলোর অস্ত্র ব্যবসা সফলভাবে করা, রক্ষণশীল দেশগুলোর ধর্ম ব্যবসা বজায় রাখা, অন্যকে দাবিয়ে রাখা, বড় শক্তিগুলোর অবস্থান শক্ত করা। তাই, এসব ছোট ছোট শক্তি বা কমান্ডো বা ছোট দেশ একাই কতটুকু জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ করতে পারবে। আমার বিশ^াস, পারবে- যদি প্রকৃত শিক্ষার আলো জ¦ালানো যায় ও জোরে সোরে কাজ  করা যায়। সে জন্য দরকার আন্তরিকতার সাথে সকলে কাজ করা এবং স্বদেশ প্রেম ধারণ করা।  

বাংলাদেশ যখন দু’বার সমুদ্র সীমায় মায়ানমার ও ভারতের সাথে আইনগতভাবে বিজয় লাভ করে, তখন এদেশের জন্য অপার অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সম্ভাবনা তৈরি হয়। এ সম্ভাবনা নষ্ট করতে অনেকে বসে আছেন। ছলে বলে কৌশলে বাংলাদেশের ভাতের খবর, হাড়ির খবর সবই নিতে চায়- তাতে বাংলাদেশ কতটুকু ক্ষতিগ্রস্ত হবে জানি না। তথ্য প্রযুক্তিতে বাংলাদেশ বিশ^ বাজারে শ্রমিক হিসেবে যত বেশি কাজ করছে, তত কম প্রকৌশলী বা বিজ্ঞানী হিসেবে কাজ করছে। আর সরকারের বলয়ে, এ ধরণের জ্ঞান সম্পন্ন লোকের সংখ্যা একেবারেই কম। বরং জঙ্গিরা কোন কোন ক্ষেত্রে অনেক সক্ষম, পারদর্শি, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার ও পরিচালনায়। বাংলাদেশ সরকার বুঝে উঠার আগেই, জঙ্গি প্রচার মাধ্যম ‘আমাক’ জঙ্গিদের ছবিসহ প্রচার  করেছে। নিবন্ধিত বায়োমেট্রীক সিম এর রেকর্ড সরকারের নিকট আছে, টিপ সহি সহ। জঙ্গি হামলার সময়ে জঙ্গিরা মোবাইল ব্যবহার করেছে, ছবি তুলেছে, ভিডিও করেছে, শেয়ার করেছে। সরকার জঙ্গিদের ছবি প্রকাশের পূর্বেই জঙ্গি সংগঠনগুলো জঙ্গিদের ছবি মিডিয়াতে প্রকাশ করে। তাঁরা বাংলাদেশ সরকারের চেয়ে অনেক গতিশীল বলে মনে হয়েছে। সেগুলো সংগ্রহ করে সরকার তদন্তের কাজগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করে আসল তথ্য জাতির নিকট তুলে ধরতে পারেন। যাই হোক, ‘আমাক’ প্রচারিত জঙ্গিদের ছবি দেখে অনেক বন্ধুরা তাদের সনাক্ত করেছে। কারণ,  কেউ কেউ তাদের সহপাঠী ছিল। এসব খবর ও ছবি প্রকাশের পর পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এদের খুঁজছেন। ৬ জন জঙ্গির মধ্যে পাঁচ জন দেশের চিহ্নিত আসামী। সরকারের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিৎ, কেউ নিখোঁজ হয়ে গেলে, সে কি শুধুই নিখোঁজ হয়, না কি আন্ডার গ্রাউন্ডে গিয়ে জঙ্গি হামলার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে (এ পেপার তৈরিকালীন সময়েই সরকার কিছু ভাল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন, যেমন নিখোঁজ সন্তান বা ছাত্রদের তালিকা, নাম প্রভৃতি সরকারকে অবহিত করার নির্দেশ), এই জঙ্গিরা প্রযুক্তিতে পারদর্শি বলে মনে হয়েছে। আমাদের দেশের আদর্শ শিক্ষিত ও প্রগতিশীল গবেষক, তথ্য প্রযুক্তিতে দক্ষ লোকদের সংখ্যা বাড়ানো উচিৎ। তা, না হলে সামনে আরো বিপদ বেড়ে যেতে পারে। সরকারের তথ্য প্রযুক্তি কন্ট্রোল জঙ্গিরা রপ্ত করে ফেলতে পারে। তাদের হাতে সরকারের এ প্রযুক্তির গোপন ভান্ডার চলে গেলে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ এর টাকা চুরির মত ঘটনা এখানেও ঘটতে পারে। আজ জঙ্গিরা আধুনিক, শিক্ষিত, ধনী সন্তানদের দৃষ্টিতে নিয়েছে; এরা শুধু নিখোঁজই হয়নি, বরং তাদের বেশি ভাল করে প্রশিক্ষত ও যোগ্য ও নিপুণ জঙ্গি হিসেবে তৈরি করেছে। তারা বিপথগামি হওয়ায় দেশ ও বিশ^ চিন্তিত! এর পিছনের রহস্য কি? আমার মনে হয়, খুঁজে দেখা হোক এসব ধনী লোকদের নিকট থেকে কেউ বা কোন জঙ্গি সংগঠন বড় অংকের চাঁদা দাবি করে নেয় কি না, নচেৎ মেরে ফেলবে- এমন কি হুমকি ছিল?  যদি এমনটি সংশ্লিষ্ট কারো ক্ষেত্রে হয়ে থাকে, তাহলে বলে ফেলুন বাংলাদেশ উপকৃত হবে।  

বাংলাদেশ তৈরি পোশাকে বিশে^ বিশেষ অবস্থান তৈরি করেছে। ব্যাপক হারে বাংলাদেশের প্রশিক্ষিত শ্রমিক বিদেশে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে, বিদেশে নানান পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্র তৈরি করতে পেরেছে সফলতার সাথে। তথ্য প্রযুক্তিসহ নানা ক্ষেত্রে এক বিশাল বাজার তৈরি করেছে বাংলাদেশ, দেশে রেমিটেন্সের হার ঈর্শনীয়ভাবে বাড়িয়েছে। এত সমস্যার পরও দেশে এখন ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের মজুত বা রিজার্ভ আছে। জঙ্গি হামলার কারণে, ইতোমধ্যে জাপান ও ইউকে বাংলাদেশ এর সাথে বাণিজ্য হ্রাস করার আভাস দিয়েছে (০৫.০৭.২০১৬ অন লাইন ও সমকাল), অথচ ২৩.০৬.২০১৬ এর যুক্তরাজ্য ইউরোপিয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে যাওয়ার পরও, বাংলাদেশ আশা করেছে, আমাদের সাথে যুক্তরাজ্যের পূর্বের সম্পর্ক বহাল থাকবে। কিন্তু, এখন এমনি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে কত কিছু সহে যেতে হবে। এদিকে ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের গার্মেন্টস বাণিজ্য সত্যিই হুমকির মুখে পড়ার সম্ভাবনাকে অনেকেই উড়িয়ে দিচ্ছেন না। 

বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় দেড় হাজার মার্কিন ডলার সহসায় ছাড়িয়ে যাবে। গত অর্থ বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশর বেশি অর্জন হয়েছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে, ৭০ বছর পার হয়েছে। নানা উন্নতির সূচকে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে। বাজেট ঘোষণা হয়েছে সাড়ে তিন লাখ একচল্লিশ হাজার কোটি টাকার মত। দেশের উন্নয়ণে মেগা নয় গিগা প্রজেক্ট দরকার, কিন্তু টাকা আসবে যে খাতগুলো থেকে, তা সচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। ভ্যাট, শুল্ক, উৎসে কর, টোল যাই বলেন এই খাতগুলোকে সক্রিয় করতে হবে, টাকা আদায় করতে হবে। অনেকে বেতন বেশি পেয়েছেন, কিন্তু সরকারকে কর দিবেন না, তাহলে সরকার কি ভাবে চলবে? যখনই কর ও ভ্যাটের কথা আসে, তখনই আন্দোলন করবেন, সব বন্ধ করে দিবেন, সরকারকে সহযোগিতা করবেন না তা কি ভাবে সম্ভব, এতে করে ন্যায্য হিসেব হয় না, ইনসাফ হয় না।  

প্রগতিশীল ও সমমনা এনজিওগুলোকে আর্থিক সাহায্য বা অনুদান দিয়ে আলোকিত মানুষ গড়ার কাজ দ্রুত বাস্তবায়ণ করা। গত এক দশকে দেখা যায়, ব্যাপক এনজিও ফান্ড স্বল্পতায় ভুগছে। অনেকে বলছেন, বাংলাদেশ উন্নত হয়ে গেলে ভিক্ষা করতে হবে কেন? এনজিও’র দরকার নেই, দাতা গোষ্ঠী চলে যাক। আসলে কি তাই, না তা নয়। এনজিওরা সরকারের উন্নয়নে সর্বদাই কাজ করেছে, সরকারের বা দেশের সহযোগি হিসেবে কাজ করে যাবে। কিন্তু বিদেশিরা বা দাতারা বিমূখ হওয়ার অনেক কারণ আছে। আজ এক দশক ধরে হাজার হাজার এনজিও কর্মিরা বেকার হতে থাকে। এনজিওদেরও কর্মকান্ড কমে যাওয়ায় ও ব্যাপকভাবে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড না থাকায় বর্তমান বাংলাদেশের সিংহভাগ মানুষ ধর্ম পালনের নামে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও ধর্মীয় গোড়ামিতে আটকে আছে বেশি। সেক্যুলারিজমকে আমাদের দেশে সহসাই ভ’ল ব্যাখ্যা করা হয়, তাই সরকারও বঙ্গবন্ধুর চেতনা থেকে বা এই নীতি থেকে সরে আসেনি তা নয়। আজকে কোন বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ে জাতি গঠনে সামাজিক বিজ্ঞানের বিষয় বস্তÍু সহজে শেখানো হয় না। দর্শন, রাষ্ট্র বিজ্ঞান, ইতিহাস প্রভৃতি সাদা-মাটা বিষয় মোটেও পড়াতে চান না, শুধু সেই বিষয়ই পড়াতে ব্যবস্থা রেখেছেন যেটিতে গ্রাজুয়েটরা ব্যবসা করতে পারবেন, ব্যবসায়িক চাকুরি করতে পারবেন, ব্যাংক এর কাজ করতে পারবেন, প্রকৌশলী হতে পারবেন,  ইত্যাদি মূলত:, এই ইচ্ছা নাকি প্রশাসনের চেয়ে ছাত্র-ছাত্রিদেরই বেশি। তাহলে, মানুষের চেতনাগত শিক্ষা পিছিয়ে যাচ্ছে না বৈকি। অনেকে মনে করেন মাদ্রাসা শিক্ষা হলেই তিনি বেহেস্তর পথ পরিস্কার করছেন- তা কিন্তু ঠিক নয়, আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির শিক্ষাকে অনেক রক্ষণশীলরা ইসলামের অন্তরায় মনে করেন। তাহলে, জঙ্গিবাদ কেন আমাদের মাটিতে হবে না? এভাবে জঙ্গিবাদের জন্য ভ’মি হচ্ছে উর্বর। কতিপয় বিপথগামী সেনাসদস্য ছাড়া, মূলত: সমগ্র সেনাবাহিনী দেশের কল্যাণে অধিকাংশ সময়ে ভাল কাজ করেছেন। তবে, সেনাবাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে অস্ত্রপাতির যত আধুনিকায়ণ হয়, তার চেয়ে কম হয় প্রগতির চর্চা, অধিকাংশ সেনাবাহিনীর লোকেরা বিশেষ করে অফিসাররা যাঁরা নেতৃত্বে থাকেন, তারা অনেকাংশে যথেষ্ট রক্ষণশীল হন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় সেনাবাহিনীর চেয়ে পুলিশ অনেক বাস্তবমূখি, কিন্তু তাদের পরিশ্রমের তুলনায় সুযোগ সুবিধা কম; সেনাবাহিনীরা সে ক্ষেত্রে প্রিভিলেজ্ড গ্রুপ। এও সত্য যে, পুলিশদের সস্তা আচরণ, তাঁদের ব্যক্তিত্ব কমিয়ে দেয়। এই সংকটকালে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা বিশ^ব্যাপি প্রশংসিত হয়েছে। আমরা তাদের ইতিবাচক ও লড়াকু ভূমিকার জন্য সাদুবাদ জানাই। কখনও আরো বড় সংকটকাল এলে দেশ ও জাতির স্বার্থে নিজেদের আরো  চৌকস ও গতিশীল করতে হবে। এনজিও, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো প্রশিক্ষিত করা এবং আর্থিক সহায়তা দিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সন্ত্রাস বিরোধি কাজের সম্প্রসারণ করা।   

বড়ই দু:খ ও পরিতাপের বিষয় যে, উন্নয়ন ধারায় বাংলাদেশের  মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিরলস প্রচেষ্টায় ক’ টার্মে দেশকে প্রায় মধ্যম আয়ের দেশ বানিয়েছেন, যার ভিত্তি বঙ্গবন্ধু তাঁর শাসনকালের সাড়ে তিন বছরেই করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু ভাল কাজ করেছিলেন এবং দেশকে স্বনির্ভর করার প্রত্যয়ে যখন ব্যস্ত, ঠিক তখনই আন্তর্জাতিক চক্রান্তে তাঁকে স্বপরিবারে হত্যা করা হলো। এখন শেখ হাসিনার নেতেৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে চলেছে, তখন একটার পর একটা ষড়যন্ত্র, হত্যা, জ¦ালাও পোড়াও করে দেশ তথা বিশে^র নিকট আমাদের দেশকে হেয় প্রতিপন্ন করা হচ্ছে। তারই অংশ বিশেষ এই ‘গুলশান জিম্মি সংকট’ কি না সময়েই বলে দিবে। 

গত ১লা জুলাই ২০১৬ ইফতারের পর আমি আমার স্ত্রী ও কন্যাসহ প্রিন্স বাজারে গিয়েছিলাম কেনাকাটি করতে। সেখানেই রাত প্রায় ১১টার দিকে কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ও প্রয়াত নেতা এ্যাড. আব্দুল জলিল চাচার জ্যেষ্ঠ কন্যা রাজিয়া সুলতানা বিউটি আপা (বঙ্গবন্ধু বিদ্যানিকেতন এর শিক্ষিক) ও তাঁর স্বামীর সাথে হঠাৎ দেখা হয়। আপার নিকট ভাসা ভাসা খবর পেলাম যে, বনানীতে কোন এক ভবনে নিরাপত্তা বাহিনী কাউকে ঢুকতেও দিচ্ছে না বেড়াতেও দিচ্ছেনা, পুরো এলাকা ঘিরে রেখেছে। আমরা রাত বারোটার পর বাসায় ফিরি। এসেই আমি টিভি ও ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করে প্রকৃত খবর জানতে পারি মূলত: কোথায় এ ঘটনা ঘটছে এবং আতœীয় স্বজন ও বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করতে চেষ্টা করি। কয়েকটি ই- মেইল করলেও তাদের দিক থেকে কোন? উত্তর না পেয়ে, ভাবলাম তারা হয়ত, সরাসরিই সব খবর দেখতে পাচ্ছে, আমার বাসি খবর শুনে তাঁদের লাভ কি ঠিক পরে দেখি আমার এক নাতি সে জানায় ওরা ভিডিওতে খবর পেয়েছে। মানে ইউটিউবে হয়ত। 

 যাই হোক,  গত ১লা জুলাই ২০১৬ সন্ধ্যা ৮:৪৫ থেকে শুরু হয়ে ২ রা জুলাই ২০১৬ সকাল ৮:৩০ মি: পর্যন্ত প্রলম্বিত হয়ে মাত্র সাড়ে এগারো মিনিটেই এক শত সদস্যের কমান্ডো বা ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ অভিযান শেষ হয় (সমকাল-০৫.০৭.২০১৬), এ জঙ্গি  হামলায় সর্বমোট ২৮ জন (৯ জন নারী ও ১৯ জন পুরুষ) দেশি-বিদেশি নাগরিক ও ৬ সন্ত্রাসির মৃত্যু হয়। তবে, ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, তন্মধ্যে ১ জন জঙ্গি সন্দেহভাজন আটকসহ। যে ছয় জঙ্গির লাশ পাওয়া গেছে, তারা সাইফুল (আকাশ নামে পরিচিত) এই রেস্তোরাঁর বাবুর্চি, খায়রুল ইসলাম বাঁধন (শাহাজানপুর, বগুড়া), রোহান ইমতিয়াজ (মোহাম্মদপুর, ঢাকা); নিবরাস ইসলাম, মীর সামি মোবাস্বির, রাইয়ান মিনহাজ, আন্দালিব আহমেদ (বাংলাদেশ প্রতিদিন-০৫.০৭.২০১৬), উল্লেখ্য ০৫.০৭.২০১৬ এ ৭১ টিভি সাক্ষাৎকারে রোহানের বাবা সন্তানের হয়ে জাতির নিকট ক্ষমা চেয়েছেন) ও মীর সামির (০৩.০৭.২০১৬ এর বাংলাদেশ প্রতিদিন ও ৭১ টিভি), মাননীয় প্রধানমন্ত্রী খুব সম্ভবত যখন তারাবির নামাজ পড়তে যাচ্ছিলেন, তখন এই সন্ত্রাসি জঙ্গি হামলার খবর পান এবং তাৎক্ষনিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে, তিনি পরিস্থিতি ধারাবাহিকতা ও উন্নয়ন পর্যায়ক্রমে অবলোকন করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারকে সময়মত অবিহিত করেন এবং সহযোগিতার জন্য অনুরোধও করেন। হোয়াইট হাউস সেদিনই (০১.০৭.২০১৬) দ্রুত বৈঠক করে এবং মার্কিন মুখপাত্র মি: জন কিরবি বিবৃতি প্রদান করেন যে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশ সরকারের সাথে যোগাযোগ রাখছে এবং সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে’, পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওবামা সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরির মাধ্যমে বাংলাদেশকে সব ধরণের সহযোগিতার আশ^াস প্রদান করেন (০৩.০৭.২০১৬ এর ফোন) এবং বলেন, ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সব সময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে’, দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে, গত ৭ জুলাই ২০১৬ রোজ বৃহস্পতিবার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র’র পররাষ্ট্র দপ্তর, বাংলাদেশে মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমনের ক্ষেত্রে সর্তকতার মাত্রা ‘ট্রাভেল অ্যালার্ট’  থেকে ‘ট্যাভেল ওয়ার্নিং’ এ বাড়িয়েছে (দৈনিক বজ্রশক্তি-০৯.০৭.২০১৬), উল্লেখ্য ট্রাভেল এলার্ট ছিল গত ফেব্রুয়ারি থেকে। এছাড়াও, জাপানে ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী যথাক্রমে সিনজে আবে ও নরেন্দ্র মোদি সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। ঘটনার ইনিভিষ্টিগেশনে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছে পোষণ করে, তারা বাংলাদেশকে এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা প্রদান করতে চায়। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাঈম আশফাক বলেন, গত রাত্রে (০১.০৭.২০১৬) সন্ত্রাসি হামলায় অনেক নাগরিক মারা যায়। আমরা অনেক গোলাবারুদ ও এ. কে-২২ রাইফেল উদ্ধার করি। লে. কর্ণেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, যাদেরকে উদ্ধার করি তারা হলেন, জাপানি আহত একজন, শ্রীলংকার ২ জন। এছাড়াও, আমরা ৯ জন ইতালিয়ান, ৭ জন জাপানিজ, ১ জন মার্কিন, ১ জন ভারতীয় নাগরিকের লাশ উদ্ধার করি; ১ জন ইতালিয়ান এখনও হিসেবের বাহিরে রয়েছে, কারণ তার লাশ ময়না তদন্তের জন্য সিএমএইচ এ সময়মত পাঠানো হয়েছিল। তাছাড়া, অভিযানের শুরুতেই ২ পুলিশ অফিসারের মৃত্যু ঘটে ও পরবর্তী (০২.০৭.২০১৬) সকালে জিম্মি উদ্ধার অভিযানে ৬ জঙ্গিকে সেনাবাহিনীর পাল্টা ১০০ সদস্যের কমান্ডো অভিযানে নিহত হয় (এখনো কোন তথ্য নেই, ঐ ৬ জঙ্গির আত্মসমর্পন করার সুযোগ ছিল কি না), জাপান ও ইতালি তাদের নাগরিকদের লাশ নিয়ে গেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সন্তান ও প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা বলেছে, ‘আমরা এই একবারই ব্যর্থ হয়েছি’। আসলে, আমরা ব্যর্থ হয়নি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সূচারু নেতেৃত্বের কারণে আমরা জঙ্গি দমনে সফল হয়েছি এবং আগামী দিনে অনুরুপ কোন ঘটনা ঘটলে তিনি দাঁতভাঙ্গা জবাব দিবেন-এটাই জাতির প্রত্যাশা।

এ আক্রমণ ছিল হৃদয়বিদারক! বাংলাদেশের স্বার্বভৌম ও সাংবিধানিক সংকট সৃষ্টির লক্ষ্যে এ হামলার হয়েছিল কি না, এখনও (জঙ্গি হামলার দিন) তা বিবেচনায় আসেনি। ঘটনা ছিল বিদেশি বিদ্বেষি প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্যমতে এশা’র আযানের সময় নামাজ পড়ার জন্য না গিয়ে জঙ্গি হামলা করতে যায়, তারা কেমন মুসলমান (০২.০৭.২০১৬)! নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক, হাসনাত করিমের ভাষ্যমতে, যারা কোরানের সুরা পড়েছে, তাঁরা ছাড়া পেয়েছে, কিন্তু যাঁরা সুরা পড়েনি, তাঁরা ছাড়া পায়নি (৭১ টিভি, মধ্যরাত ০৪.০৭.২০১৬)। ২০ জন বিদেশি সবাইকে রাইফেল ২২ দিয়ে গুলি করে ও ধারালো ছুরি দিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে (০২ ও ৪ জুলাই, ২০১৬ বিবিসিসহ বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম)! তবে, বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম অবিহিত করে যে, বিদেশিদের রাত ১১টার মধ্যেই হত্যা করা হয় (মূলত: বিবিসি জানায়), জঙ্গিরা জিম্মি করার প্রথম রাতেই মিডিয়ায় জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেছে, এর পরে আল-কায়দাও জঙ্গি-জিম্মির দায় স্বীকার করে। গত দু’দিনে গোটা বিশ^ তাকিয়েছিল বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার দিকে। ঢাকার অভিজাত এলাকার বহুল পরিচিত এ রেস্তোরাঁর দিকে। তবে, ৭১ টিভি’র ফারজানা রুপার প্রতিবেদনে জানা যায় যে, সেদিন রাত ১১টার দিকে (০৪.০৭.২০১৬ এ বিভিন্ন ওয়েব সাইটে প্রচার হয় যে সন্ত্রাসিরা আক্রমনের ২০ মিনিটের মধ্যে ২০ জন বিদেশিকে জবাই করে মেরে ফেলে) ২০ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে ফেলে, সন্ত্রাসিরা সেদিন একটি মাইক্রোবাসে এসেছিল, তাদের হাতে ছিল ব্যাগ এবং ব্যাগের ভিতর অস্ত্র:  রাইফেল, স্টেনগান, বেয়ানেট বা ছুরি, বোমা বা ককটেল। তারা  হলি আর্টিসান এ এসেই রেস্তোঁরার কর্মচারিদের নিকট থেকে ওয়াইফাই এর পাসওয়ার্ড জেনে ইন্টারনেট ব্যবাহার করে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ও বিভিন্ন তথ্য মোতাবেক (২রা জুলাই ২০১৬ এর বঙ্গবন্ধু চীন মৈত্রী সম্মেলন কক্ষের বক্তৃতা) গুলশানের ইন্টারনেট লাইন অফ রাখা হয়, যেন জঙ্গিরা কোনভাবে যোগাযোগ না করতে পারে। ফারজানা রুপা আরো অবহিত করেন, যে ক্যাফেটির অন্য ছাদে ছিল এক পরিবার, তারা সেখানে রাত্রি যাপন করে এবং সকাল বেলা নেমে চলে যায়’ (০৩.০৬.২০১৬ এর রাত ৯টার খবর), রেস্তোরাঁর কোন এক জায়গা থেকে লাফ দিয়ে রেস্তোরাঁর এক কর্মচারি এবং আর্জেন্টাইন পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। তবে রাতেই একজনকে রক্তমাখা অবস্থায় চলে যেতে চেষ্টা করলে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সন্দেহে হলে তাকে আটক করেন তাঁরা (প্রথম রাতের খবর)। তবে, রেস্তোরাঁর কেউ কেউ এই হামলার সাথে জড়িত অথবা চাপে ছিল বলে মনে হচ্ছে। সমস্ত হত্যাকান্ড পরিচালনা করা হয়েছে, একেবারেই ইসলামি কায়দায় ১৯৭১ সালের পাকিস্তানি-রাজাকারি কায়দায় পবিত্র কোরান এর সুরা পড়িয়ে যেমনি হত্যা হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা করা হয়। উল্লেখ্য মি: করিম অবহিত করেন যে, ‘যাঁরা সুরা পড়তে পেরেছে, জঙ্গিরা তাঁদের কাউকে মেরে ফেলেনি। তবে, অন্যরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন’, কাউকে কাউকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়েছিল মুসলিম বলে! প্রথমত মাত্র ৯-১০ জন উর্তি বয়সি জঙ্গিরা বিদেশিদের জিম্মি করেছে বলে বিভিন্ন প্রচার মাধ্যম প্রচার করে। পরে ৬ জনের লাশ ও ১ জনকে সন্দেহ করা হয় উদ্ধার হওয়াদের মধ্য থেকে বলে প্রকাশ পায় (২রা জুলাই ২০১৬)। তবে, আহত শাওন নামক একজনের হাসপাতালে মৃত্যু হয় (০৮.০৭.২০১৬-বাংলাভিশন), পরবতীতে, অর্থাৎ ৩ রা জুলাই ২০১৬ এর খবর অনুযায়ি, আধুনিক ও ইংরেজি ভাষাভাষি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কলাস্টিকা থেকে, নর্থ সাউথ ও  ব্র্যাক বিশ^বিদ্যালয় থেকে লেখাপড়া করা বাংলাদেশি ছেলেরাও এ জঙ্গি সদস্য হিসেবে ছিল। ১লা জুলাই গুলশান-২ এর দুতাবাস বহুল এলাকার ৭৯ নং সড়কের হলি আর্টিজান স্প্যানিশ রেস্তোঁরায় অতর্কিত জঙ্গি হামলা চালিয়ে ৩৫-৪০ জন লোককে জিম্মি করে পৃথিবীকে অবাক করে দিল (০১.০৭.২০১৬), এখানেই খালেদা জিয়ার বাসা এবং তাঁর অফিস, রাশিয়া, জার্মানসহ অন্যান্য দুতাবাসসমূহ, অনেক শিল্পপতি ও নামকরা ব্যবাসায়িদের আবাসস্থল। ০৩.০৭.২০১৬ এ ৭১ টিভির ঝুমুর বারি অবহিতি করেন, গুলশানে এখন বিদেশিদের আনাগোনা নেই বলেই চলে। ইতালি ও জাপান তাঁদের জাতীয় পতাকা অর্ধ নমিত রেখেছিল। কারণ, ইতালির ৯ জন এবং জাপানের ৬ জনকে সরাসরি মেরে ফেলা হয়েছে, ভারতীয় ১ জন কিশোরী ও বাংলাদেশের ২ জন বাঙ্গালি একজন ছেলে ও একজন মেয়ে হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছেন। তাঁরা সকলেই মার্কিন দেশে লেখাপড়া করেছেন এবং সেখানকারও নাগরিক। গত  ০৩.০৭.২০১৬ এর সকাল ১১টার পর জাপানের উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী, বাংলাদেশের পরররাষ্ট্র মন্ত্রী এই রেস্তোরা পরিদর্শন করেন, তবে জাপানের মন্ত্রী কোন মন্তব্য করেননি। এবং বাংলাদেশের স্বররাষ্ট্রমন্ত্রীও পরিদর্শন করেন ইউনাইটেড হসপিটাল আহতদের দেখতে; ঘটনার দিন আইজিপি রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন, তিনি পরে ঘটনা স্থলে পৌঁছান এবং খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন বোমা হামলায় আহতদের কাউকে গুলি লাগেনি, স্পিøন্টারের আঘাতে ক্ষত হয়েছে। চিকিৎসায় কোন ত্রুটি হয়নি। গতকল্য বাংলাদেশ এ নির্মম ঘটনায় ৩ ও ৪ জুলাই ২০১৬ দুই দিনের জন্য রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়। ০৪.০৭.২০১৬ সকাল দশ টায় আর্মি স্টেডিয়ামে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ফুল দিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান, এর পর কারো কারো লাশ তাঁদের স্বজন বা পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয় (০৪.০৭.২০১৬ এর অন লাইন খবর)। গত ০২.০৭.২০১৬ অভিযান শেষে সেনানিবাসে সামরিক অফিসাররা সাংবাদিকদের ঘটনা ব্রিফ বা ব্যাখ্যা করেন। বাংলাদেশে এমন একটি আক্রমন হলো ঠিক অর্থ বছরের শুরু দিন, ১লা জুলাই ২০১৬ এর রাত ৮:৪৫ মি: এরদিকে, প্রথম দিকে খবর ছিল ৯:২০ মি: এর দিকের কথা (বিভিন্ন মিডিয়ার খবর), রেস্তোরাঁর অপর পার্শে¦র ভবনের এক ফ্লাটের জানালার কাঁচ গুলি অথবা স্পিøন্টারে ভেঙ্গে যায় সন্ধ্যা ৮:০০ দিকে। যাই হোক, অল্প সময়ের মধ্যেই সরকারের বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ হামলা মোকাবেলায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে, রাত ৯:০০ দিকে পুলিশ ও র‌্যাব চলে আসে ঘটনাস্থলে। এবং পুলিশের ওসি এবং এ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার রেস্তোরাঁর ভিতরে ঢুকতে চেষ্টা করলে জঙ্গিরা হোটেল থেকে ব্রাশ ফায়ার করে এবং বোমা নিক্ষেপ করে; ফলত: হাসপাতালে নেওয়ার পর দুজনই মারা যান। এ্যাসিস্টেন্ট কমিশনারের স্ত্রী সন্তান সম্ভবা সেটিও একটি কষ্টের প্রকাশ! পরবর্তীতে রাত ১১টার দিকে র‌্যাবের মহাপরিচালক ব্যারিষ্টার বেনজীর আহমেদ মিডিয়াকে বলেন, টিভি চ্যানেলগুলোর সরাসরি প্রচারণা জাতীয় স্বার্থে বন্ধ রাখতে, পরে দু’ এক’টি ছাড়া সবগুলোই সম্প্রচার বন্ধ রাখে। শেষ পর্যন্ত নৌবাহিনী, ডুবুরি, বিমান বাহিনী ও সেনাবাহিনী সম্পৃক্ত হয়ে কমান্ডো বাহিনী পরের দিন র‌্যাপিড অভিযান পরিচালনা করেন, যার সদস্য সংখ্যা ছিল ১০০ জন। অভিযানটি সকাল ৭:৪০ মি: থেকে সকাল ৮:৩০ মি: পর্যন্ত মাত্র ৫০ মি: এর ব্যাবধানে অভিযান সম্পূর্ণভাবে সফল করেন, তবে মূল উদ্ধারকাজে সময় লাগে সাড়ে ১১ মিনিট; তবে বিভিন্ন মিডিয়াতে ১২-১৩ মিনিট সময় লেগেছে বলে প্রচার রয়েছে।

ঘটনার দিন দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাতভর গুলশানের জঙ্গি হামলার খবর এর আপডেট জানার ও প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার নিকট বিষয়টি সময়মত অবহিত করা হয়, হোয়াইট হাউস দ্রুত মিটিং করে এবং বিবৃতি প্রদান করে, তারা তখনও জানতো না যে, সেখানে কোন মার্কিন নাগরিক আছে কিনা। মার্কিন দুতাবাসসহ বিভিন্ন দেশের দুতাবাসের কর্মকতা ও বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের স্বাভাবিক চলাফেরায় সতর্ক করে দেওয়া হয় এবং স্ব স্ব দেশ জানিয়ে দেন তাঁদের নাগরিকরা নিরাপদে আছেন। গত ০৮.০৭.২০১৬ এর খবরে জানা যায়, যে ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে অবস্থানরত তাঁদের নাগরিকদের চলাফেরায় বাড়তি সর্তকতা জারি করেছে’, এতে করে আশঙ্কা হয়, হোয়াইট হাউসের নিকট কোন ধরনের হামলার সম্ভাবনার খবর আছে নাকি! নাকি ডালাসের পরিস্থিতির কারণে বাড়তি সতর্কতা জারি। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের কথাই কেন মনে হলো, আরোও তো দেশ আছে। যুক্তরাষ্ট্র আগামী দিনগুলোতে সন্ত্রাসি হামলা প্রসঙ্গে জোর দিয়েই বলেছে, “আমাদের সরকার মনে করে, জঙ্গি হুমকির ওই খবর সঠিক ও বিশ^াসযোগ্য এবং বাংলাদেশে বিদেশিদের ওপর আরও হামলার ঘটনা ঘটতে পারে” (দৈনিক বজ্রশক্তি-০৯.০৭.২০১৬)। 


স্বররাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান গত ০৩.০৭.২০১৬ তারিখে বলেন, ‘জঙ্গিরা সবাই বাংলাদেশি এবং হয়ত দেশিয় কারো কোন নির্দেশে এ হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। এরা কেউ আইএস এর সাথে জড়িত নয়’। গত বছরের ২৮ সেটেম্বর ২০১৫ সালে গুলশানের বর্তমান জিম্মিস্থলের নিকটেই ইতালির নাগরিক ‘চেজারে তাভেল্লাকে’ গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা। ঐ ঘটনায় তখনও আইএস এর নামে দায় স্বীকারের বার্তা এলেও, সরকারের পক্ষ থেকে তা নাকচ করে দেওয়া হয়। উদাহরণ স্বরুপ বলতে চাই, এছাড়াও এর অনেক আগে গুলশানে এক সৌদি ক’টনৈতিককে রাজনৈতিক উদ্দ্যেশে গুলি করে হত্যা করা হয়; অন্যদিকে, রংপুরের কাউনিয়ায় এক জাপানি গবেষককে মোটরসাইকেল আরোহীরা গুলি করে মেরে ফেলে দাতাগোষ্ঠির সাথে বাংলাদেশের বর্তমান সুসম্পর্ক নষ্ট করতে চেয়ে। আসলে কোনটা সঠিক, তা মন্ত্রী আসাদুজ্জামানকে ভেবেচিন্তে সঠিক টা বলা উচিৎ। অন্যদিকে বর্তমান  আইজিপি (০৩.০৭.২০১৬) বলেন, এই ৬ জন জঙ্গির ৫ জনকেই পুলিশ খুঁজে আসছে, কারণ তারা তালিকাভুক্ত আসামী। গত ৬ মাস ধরে রেদোয়ান ইমতিয়াজ নামক একজন জঙ্গি নিখোঁজ, যে কি না ও বা এ লেভেল পরীক্ষার এক মাস পূর্বেই নিখোঁজ হয়ে যায়। আইজিপি মনে করেন, এটি বাইরের জঙ্গি সংগঠনের কাজ, আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা আছে। বিভিন্ন সুত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথাযথভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন, গুলশান এলাকায় ইন্টারনেট লাইন অফ থাকায় সন্ত্রাসিদের অবাধ যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক চক্র খুব একটা বাড়তি নেতৃত্ব দিতে পারেনি, ফলে বিশ^ ব্যাপি শিশু, নারী, গুরুতর অসুস্থ রোগি ও বয়োজ্যেষ্ঠদের প্যানিক তৈরি হয়নি।

অন্যদিকে, সরাসরি প্রচার করতে না পারায় সত্য ঘটনায় কেউ কেউ সন্দেহ করতে পারেন। কেন এগারোটার আগে বিল্ডিং এর বিভিন্ন স্থান থেকে কেটে বা উপর থেকে আক্রমণ করার ব্যবস্থা ছিল না। গুলশান লেকে রাত তিন টায় ডুবুরি ও নৌবাহিনী নানাভাবে স্পীড বোর্ডে টহল দিচ্ছিলো। রাত ৩:৩০ মি: এর দিকে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার এ সিলেট থেকে সেনাবাহিনীর বাড়তি টিম নিয়ে আসা হয়। সবকিছু মিলেই সকলের সামগ্রিক প্রচেষ্টায় জঙ্গি দমন করা সম্ভব হয়েছে, ঠিকই। সরাসরি সম্প্রচার যেহেতু হয়নি, সেহেতু কিলিং মিশনের আভ্যন্তরীণ ভিডিও বা অডিও রেকর্ড করে রাখলে আরো স্বচ্ছতার প্রমাণ থাকবে। এত বড় ঘটনায় থেকে গেলে এক ভয়ংকর ঝুঁকির সম্ভাবনা, আইএস আমাদের দেশে আছে এটা এখন প্রমাণিত, কারণ তারা তাদের টিমের সদস্যদের পোশাকি চেহারা দেখিয়ে দিয়েছে। এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, বিবিসির প্রচারণা ও আইএস জঙ্গিদের মিডিয়া প্রচার অনুযায়ি রাত ১১ টার আগেই কিলিং মিশন শেষ হয়েছিল। তাহলে, কেনই বা মি: বেনজীর আহমেদ সাহেবরা সময় নষ্ট করলেন, নাকি সিলেটের সেনাবাহিনীর অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে যৌথ পরিচালনার জন্য। তা না হলে শুধুই কি বুঝতেই ভুল হলো। এখনো অনেকে আলোচনা করেন, যে জঙ্গি নিয়ন্ত্রণে সময় বেশি নষ্ট হয়েছে। আর আমরা মনে করি, দ্রুত সব ম্যানেজ করতে গেলে হয়তো, এ ১৩ জনকেও জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হত না। 

কূটনৈতিক পারায় এত বড় ঘটনা ঘটতে চলেছে, গোয়েন্দা বিভাগ কিছুই কি আগে থেকে বুঝতে পারেনি। নাকি বুঝতে চেষ্টা করা হয়নি। জঙ্গিদের কোন একজনকে বাঁচানো সম্ভভ হলে এর রুট খুঁজে পেতে সুবিধা হতো। কিলিং মিশন যখন রাত ১১ টায় বাইরের প্রচার অনুযায়ি শেষ হয়ে যায়, তার পরই জনৈক্য বিরোধী দলীয় সিনিয়র মহাসচিব ঘোষণা করেন, বিরোধী দলকে ফাঁসানোর জন্য এসব করা হচ্ছে! গত ০৩.০৭.২০১৬ এ গুলশানে কোন এক বিরোধী দলের শীর্ষ নেতা দল মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাস মোকাবেলা করতে আহবান জানান (০২.০৭,২০১৬)। এ সব কি ‘ঠাকুর ঘরে কে রে? আমি কলা খাই না’ এমনটি সত্যিই হলে জাতি তাদের ক্ষমা করবে না, গোটা বিশ^বাসি বাঙ্গালিদের সেই মীর জাফরের পরিচয়ে পরিচিত করবে। আর যদি আইএসই করে থাকে, তাহলে সকল মানুষকে জেগে উঠতে হবে, বাংলার মাটিতে কোন জঙ্গিবাদের স্থান নেই, আমাদের সকল মানুষ লড়াই করে তা মোকাবেলা করে যে ভ্যাটিকানে মানুষের শোকের ঢল নেমেছিল (ক’দিনে); জাপানিরা যে ভদ্রতা দেখিয়েছে, এ ক্ষতি সত্বেও তারা বাংলাদেশকে সাহায্য করতে চায়, বাংলার মানুষ পশু হয়ো না, মানুষ হও; আমাদের উচিৎ সকল বিদেশির প্রতি সম্মান দেখানো। ঠিক তেমনি, প্রচন্ড শীতে যখন সাইবেরিয়ান বার্ডস আর সাইবেরিয়ায় থাকতে পারে না, হাজার হাজার মাইল পেরিয়ে সাইবেরিয়া থেকে আমাদের এই নাতিশোতোষ্ণ বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে আসে। তখন তাদের আশ্রয় প্রদান করা এবং শিকার না করা যেন সেই পাখিরা প্রয়োজনে নিজের দেশে সময়মত ও নিরাপদে বাড়ি ফিরে যেতে পারে। আমরা গরিব দেশ, আমাদের উচিৎ বিণিয়োগকারি দেশগুলোকে এবং প্রবাসীদের গভীরভাবে সম্মান প্রদান করা, তাঁদের ওপর আমাদের রুজি ও ভবিষ্যৎ নির্ভর করে। আর রুজি না হলে ব্যক্তির ও দেশের উন্নয়ণও হয় না। উন্নয়ণ না হলে খাদ্য জুটবে না, পেটের খাদ্য না জুটলে ধর্ম পালনও হয় না। তাই, দল মত নির্বিশেষে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জেগে উঠা এবং উন্নয়ণের জন্য কাজ করে যাওয়া। তা না হলে, ১৯৭১ সাল থেকে তিল তিল করে বাংলাদেশ যা অর্জন করেছে, তা ধবংস হয়ে যাবে। শত্রুরা ধবংস করে ফেলতে পারে, ‘বঙ্গবন্ধু সেতু’, পদ্মা সেতুর মত কষ্টার্জিত ‘পদ্মা সেতু’র কাজ,  দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের ভিত্তিকে নষ্ট করে ফেলতে পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে হামলা করতে পারে, ব্যাপক সংখ্যক শিশু, মহিলা বা সাধারণ মানুষকেও করতে পারে জিম্মি, তাই সরকারের উচিৎ হবে নিরাপত্তা ব্যাপকভাবে বাড়ানো, প্রয়োজনে নতুন করে আইন শ্খৃলা বাহিনীর সদস্য বাড়াতে নিয়োগ প্রদান করা। 

বিশেষ করে, দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করতে সরকার প্রধান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকারের অবস্থান তুলে ধরে বলেছেন, যে যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই কঠোর হবো (বিটিভি-১০.০৭.২০১৬)। আমরা সাধারণ মানুষ সেই আশায় বুক বাঁধবো, যেন সাধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা বজায় থাকে এবং ধর্ম ধর্ম খেলায় মত্ত হয়ে, আন্তর্জাতিক চক্রান্তের শিকার না হয় বাংলাদেশ। নিশা দেশাই বিসওয়াল, বাংলাদেশকে যে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে চান (বিটিভিসহ সকল গণমাধ্যম-১০-১১ জুলাই ২০১৬), সেই সহায়তার সুত্রপাত যেন বাংলাদেশের জন্য ধবংসের সুত্রপাত না হয়। গাছে চড়িয়ে দিয়ে, গাছ থেকে নামানোর লোক প্রয়োজনে থাকবে কি না! জাতি সেই অপেক্ষায় রইলো, গাছ থেকে নামানোর লোক যেন ঠিকমত থাকে। অন্যদিকে অভিজ্ঞতা বলে, ইসরাইল ছাড়া, আরব দেশের কোন দেশ সঠিকভাবে বলতে পারবে না, যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নিয়ে তাঁরা কেউ সঠিকভাবে ভাল আছে, বা শান্তিতে আছে। এ সব নানান সমস্যা জিইয়ে রেখে, সাহায্য করার নামে আমেরিকা ভবিষ্যতে আমাদের সমুদ্র সীমায় অবস্থান নিয়ে সামরিক ঘাটি করতে চায় কি না- সেটা মাথায় রাখতে হবে। সে এখানে কোন রকমে ঘাটি বানাতে পারলে বা সৈন্য পাঠাতে পারলে, তাকে দিবে অপার সুযোগ ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় অন্যান্য পাওয়ারকে হিসেবে রাখাতে। ‘যুক্তরাষ্ট্র ১৯৮০’র দশকের শুরুতে “তালপট্রি” লীজ চেয়েছিল, তখন আমেরিকাকে সেটি দেয়া হয়নি’ (ভ. প. পুচকভ, বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিকাশ-১৯৭১-১৯৮৫ (মস্কো-১৯৮৬), বইটি রুশ ভাষায় রচিত। একটু খতিয়ে দেখুন সারা দুনিয়ায় আমেরিকার কতগুলো ‘নাভাল বেইজ’ আছে এবং কাদের টাকায় এসব চলে। বিষয়গুলো বুঝতে সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের যেমন পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন, তেমনি চীন, জাপান ও ভারতের মত দেশগুলোর পরামর্শ গ্রহণ অব্যাহত রাখা- ভবিষ্যতের ইতিবাচক চিন্তায়। ব্যালেন্স করার জন্য রাশিয়ার সাথে সম্পর্ক অটুট রাখা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের সাথে কোনভাবেই প্যাসিভ সম্পর্ক তৈরি না করা। আমেরিকার সাথে বেশ ক’দশক ধরে আমাদের ভাল সম্পর্ক চরছে। বারাক ওবামা আমাদের প্রধানমন্ত্রীকেও খুব সম্মান করেন, দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দেখছে। ঢাকা-ওয়াশিংটন এমনিই ভাল সম্পর্ক বজায় রাখছে, গুলশান এ যখন এ সমস্যা শুরু হলো, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ইউএসএ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে অবহিত করেছেন, সাহায্য চেয়েছেন। এদিকে কূটনৈতিক পাড়ায় নিরাপত্তা আরো জোরদার করা। বিদেশিদের শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই কাজ নয়, বরং সন্দেহভাজন বিদেশিদের চলা ফেরায় নজর রাখা। মিডিয়াকে সরকার মূল্যায়ণ করছে এটা খুবই ভাল দিক, তেমনি স্বেচ্ছাচারিতা না করে সেটাও খেয়াল রাখতে হবে। সকল ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্টিং মিডিয়ায় সরকারের সহযোগিতাও অব্যবাহত রাখতে হবে। অন্য দিকে, মহাজোটকে আরো অনেক সমমনা রাজনৈতিক দল নিয়ে ঐক্য গড়ে তোলা। সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের ব্যাপ্তি ঘটানো, প্রয়োজনে সারা দেশে এসব রুচিশীল কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য সরকারি অনুদান সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো প্রদান করা। তাহলে সারা দেশে জঙ্গি, সন্ত্রাস ও আইএস বিরোধি ব্যাপক প্রচারণা ও গণসচেতনতা তৈরি হবে। ফলে, দেশে তৈরি হবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পরিবেশ, জঙ্গি ও সন্ত্রাসমুক্ত দেশ।  

উপসংহারে বলতে পারি,  যে,  কি গরীব কি ধনী কোন পিতা-মাতাই চান না তাদের সন্তানরা বিপথগামি হোক, সন্ত্রাসী হিসেবে গড়ে উঠুক, জঙ্গি হোক। গুলশান এর অংক খুব কঠিন বা জটিল অংক নয়, এটি আভ্যন্তরীণ রাজনীতির সাথে আন্তর্জাতিক রাজনীতির মিল মিল খেলা, তা যেমন অদৃশ্য ও বিশ^াসী হয়েই ভেবে যেতে হবে। রাশিয়া ও আমেরিকা চাইলেই গোটা বিশ^ যেমন ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত হতে পারে, তেমনি অস্ত্র উৎপাদন ও অস্ত্র ব্যবসা বন্ধ না করলে, কেউই নিরাপদ থাকবো না, কোন দেশই নিরাপদ আবাসভ’মি হতে পারে না। সন্ত্রাসবাদ গোটাবিশ^কে ধবংস করে দিচ্ছে। ধর্মকে রাজনীতির স্বার্থেই ব্যবহার করে আসা হয়েছে এবং হচ্ছে। কিন্তু রাজনীতি ধর্মের স্বার্থে তেমন একটা ব্যবহার হয় না, যা হয় তা প্রভাবিত অংশের প্রতিফলন মাত্র। ‘ইসলামিক টেরোরিজম’ যতটা না আরব বিশে^র কারণে হয়েছে, তার চেয়ে বেশি হয়েছে পশ্চিমা বিশে^র মদদে। ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এ ঘটনার মাত্র ক’মাস আগেই বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশে আইএস আছে’, বাংলাদেশ এ কথায় পাত্তা দেয়নি, ইউএসএ’ও এ সত্যতার কোন তালিকা দেয়নি। ‘গুলশান জিম্মি সংকট’ এটা কি তারই কথার সত্যতা, যে আমেরিকা আগে থেকেই জানতো! গুলশান এ জিম্মি হত্যা হয়ে আইএস যখন জঙ্গিদের ছবি ইন্টারনেটে / ফেসবুকে ছেড়ে দেয়, তার পরে বাংলাদেশ ভাবতে শুরু করে আইএস এর বিষয়ে। আইজিপিও মনে করেন, যে এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা আছে। পরবর্তীতে কিছু জঙ্গি সংগঠনের কথা প্রকাশ করছেন (১০.০৭.২০১৬), সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে দু’ধরনের স্টেটমেন্ট থাকা উচিৎ না। সরকার বরাবরই বলে আসছে, আইএস নেই বাংলাদেশে। তাহলে এ সত্য মিথ্যার তর্কে, বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ কোন প্রকার আপোষ না করে, আইএস থাক বা না থাক, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তা শক্ত হাতে তা দমন করা। রোগকে লুকিয়ে রাখার বিষয় নয়, বরং তার চিকিৎসা জরুরী করা। নচেৎ, ঐ জঙ্গি গোষ্ঠী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি, বেসরকারি স্থাপনাসহ অনেক কিছু আক্রমণ করে মানুষ জিম্মি করে সরকারের পদত্যাগ চাইতে পারে। কিংবা আমেরিকা, রাশিয়া, ‘মেজোর পাওয়ার স্টেটগুলো’ নিজেদের মধ্যে  রাজনীতির খেলায় আইএস দমনের নামে বাংলাদেশকে সিরিয়া, ইরাক, পাকিস্তান, আফগানিস্তানের মত ব্যর্থ রাষ্ট্র বানাতে পারে। ধবংসের পরে অনেকে অনুশোচনা করে, এটা করা ঠিক হয়নি। ঠিক তেমনি, ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী, ফিলিপ হ্যামন্ড বলেছেন, ‘মার্কিন পরিকল্পনার কারণে আইএস’র উত্থান ঘটেছে’ এবং ইরাকে পশ্চিমা শক্তির আক্রমন সঠিক ছিল না বলে মনে করেন, তাই পরবর্তীতে ইরাক থেকে ব্রিটিশ সৈন্য প্রত্যাহার করা হয় (দৈনিক বজ্রশক্তি-০৯.০৭.২০১৬), পরিক্ষিত বন্ধুরা হয়ত সঠিকভাবে মূল্যায়ণ করবে বাংলাদেশকে কিভাবে সাহায্য করা যায়। আওয়াজ উঠুক বিশ^ময়, আইএস নয়, জঙ্গি নয়, সন্ত্রাস নয়, মৌলবাদ নয়, অস্ত্র উৎপাদন ও অস্ত্র ব্যবসা নয়। চাই শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থান ও মানব মুক্তির জয়গান এবং সকলের জন্য নিরাপদ আবাসভ’মি। মন্ত্রী সভা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে নতুন করে ঢেলে সাজিয়ে, প্রগতিশীল এবং সমমনা রাজনৈতিক সংগঠনগুলোকে সুসংহত করে সারা দেশে লাগাতার জঙ্গি ও সন্ত্রাস বিরোধি কর্মসূচি পালন করে গণসচেতনতা তৈরি করা; এতে অবদান রাখবে, বাংলার মুক্তিকামি সকল শ্রেণি পেশার মানুষ। বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকার প্রতিরক্ষা  জোরদার করা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বিশ^ময় শান্তির জন্য আন্দোলন গড়ে তোলা হোক। শত্রুদের নজরে রাখার ব্যবস্থা রাখা। সুপার ও মেজর পাওয়ারগুলোর সাথে যোগাযোগের পাশাপাশি ১৯৭১ সালের বন্ধু প্রতিম রাষ্ট্রগুলোর সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়ণ ও উত্তরণের বিষয়ে সরকারের আন্তরিক অবস্থান থাকতে হবে। তা না হলে, দুর্দিনে কোন পাওয়ার বিট্রে করলে বাংলাদেশ যেন নিজেকে সামাল দিয়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে, বাংলাদেশ নিকটবর্তী যে কোন পরিক্ষিত, বড়, এবং কাছের বন্ধু রাষ্ট্রের সাথে একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি করে রাখতে পারে। চুক্তিতে স্বাক্ষরকারি যে কোন রাষ্ট্রকে অন্য কোন দেশ আক্রমণ করলে, সার্বিকভাবে অন্যপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে যথাসম্ভব সেই দেশটির পাশে দাঁড়াবে। বিদেশিরা যারা গুলশান জঙ্গি আক্রমনে নিহত হয়েছেন, আমরা তাঁদের দেশ ও পরিবারের প্রতি জানাই গভীর সমবেদনা ও বিন¤্র শ্রদ্ধা। আজ ‘গুলশান জঙ্গি জিম্মি আক্রমন’ ও ‘শোলাকিয়া আক্রমন’ গুলো ঘটিয়ে জঙ্গিরা পাইলটিং করছে, বড় কোন অদৃশ্য আক্রমনের জন্য বৈকি। গুলশান হামলায় ২০ নিহত জিম্মি (দেশি-বিদেশি) জঙ্গি ও সন্ত্রাসিদের হাতে এবং অন্য অনেকে যাঁরা সন্ত্রাসবাদ বিরোধি কর্মকান্ডে যারা শহীদ হয়েছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গুলশান হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁর সামনে সরকারিভাবে একটি ‘‘আন্তর্জাতিক স্মৃতি সৌধ’’ গড়ে তোলা হোক। জাতির এই শোককে, আমাদের শক্তিতে পরিণত করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলে দেশের অভ্যন্তরে ও বিশ^ব্যাপি গণসচেতনতা বাড়িয়ে শান্তি ও প্রগতির পথে এগিয়ে যেতে হবে, সে পথ বহুদুর, কিন্তু অর্জনযোগ্য।   

 লেখক: 
ড. এস এম আরিফ আলম
     বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক, মানবাধিকার ও উন্নয়ন কর্মী

সকল মন্তব্য

মন্তব্য দিতে চান তাহলে Login করুন, সদস্য না হলে Registration করুন।

সকালের আলো

Sokaler Alo

সম্পাদক ও প্রকাশক : এস এম আজাদ হোসেন

নির্বাহী সম্পাদক : সৈয়দা আফসানা আশা

সকালের আলো মিডিয়া ও কমিউনিকেশন্স কর্তৃক

৮/৪-এ, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত

মোবাইলঃ ০১৫৫২৫৪১২৮৮ । ০১৭১৬৪৯৩০৮৯ ইমেইলঃ newssokaleralo@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Developed by IT-SokalerAlo     hit counters Flag Counter