Friday, November 16, 2018
Login
Username
Password
  সদস্য না হলে... Registration করুন
সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির সৃষ্টি করেছে সংলাপ                 ভোটের ঢোল বেজে উঠল                

উপ- সম্পাদকীয়


বন্যা সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে
মো. শরীফুর রহমান আদিল :
সময় : 2016-07-31 10:08:36

বৃষ্টিপাত হোক আর না হোক, বর্ষা মৌসুমে বাংলাদেশে বন্যা যেন অপরিহার্য। পানির প্রক্রিয়া, জলবায়ুর প্রভাব আর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ প্রাকৃতিকভাবে বন্যাপ্রবণ দেশ। আর এ কারণেই পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো বাংলাদেশ আর বন্যা শব্দ দুটিকে সমার্থক মনে করে। বাংলাদেশ ভাটির দেশ হওয়ায় তারা এমনটি মনে করে। তবে এবার অতিবৃষ্টির ফলে বন্যা হওয়ার চেয়ে ভারতের উজানের পানিই এই বন্যার জন্য দায়ী বলে অনেকে মনে করেন। উজানের পানির ফলে উত্তরাঞ্চলসহ অনেক স্থানে এর প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। এবার পাহাড়ি ঢল আর ভারতের উজানের পানির প্রভাব এতই বেশি যে, প্রতিদিনই নিত্যনতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে আর পানিবন্দি হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। এসব মানুষ তাদের বসতবাড়ি ও সম্পদ হারিয়ে আশ্রয় নিচ্ছে বাঁধের ওপর উঁচু স্থানে কিংবা খোলা আকাশের নিচে কোনো সড়কের পাশে। সবকিছু হারিয়ে এসব বানভাসি মানুষ এখন অসহায় হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। গত এক সপ্তাহ পানির প্রভাব বাড়ছে আর একেকটি করে বাঁধ ভাঙছে।
উজানের ভারতীয় পানি দ্বারা দেশের অন্যতম নদী যেমন পদ্মা, যমুনা, তিস্তা, আত্রাই, ধরলা, মুহুরি ইত্যাদি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতিদিনই বাড়ছে পানির চাপ। ফলে বন্ধ হচ্ছে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগ। পানির নিচে ডুবে গেছে সড়ক, মহাসড়ক ও রেলপথ। পানির প্রভাব এতই যে, দেখে বোঝা যায় না কোনটি সড়ক কিংবা জলাধার। পানির কারণে মানুষ তাদের ঘরের চালেও আশ্রয় নেয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। এ সব বানভাসি মানুষের টিউবওয়েল পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় তারা বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছে আর এর প্রভাবে শিশু-বৃদ্ধরা আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন রোগে। একদিকে রোগ আর অন্যদিকে বন্যা- এই দুয়ে এসব অঞ্চলের মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
বন্যার পানিতে এসব এলাকার ৪০ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে নারী ও শিশুদের অবস্থা বেশি যন্ত্রণাদায়ক। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে খুলনায় ২২ হাজার হেক্টরের বেশি ফসলি জমি, মাছের ঘের, পুকুর, বীজতলা প্রভৃতি নষ্ট হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ বছর বন্যার ক্ষতি হতে পারে ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হয় প্রতি বছর সৃষ্ট বন্যায়। তাই বন্যা নিয়ন্ত্রণে এবং এ ধরনের ক্ষতি এড়াতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর জোর তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। দেশে জঙ্গিবাদ ইস্যু নিয়ে এখন সবার মাথাব্যথ্যা, তাই এ সব অঞ্চলের লাখ লাখ বন্যার্ত মানুষের খবর রাখার কোনো সময় নেই নীতিনির্ধারকদের।
বন্যার্ত মানুষদের সহায়তায় এখন পর্যন্ত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা প্রশাসন কাউকেই যথাযথ পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। সরকার এখন পর্যন্ত বন্যাকবলিত মানুষদের রক্ষায় বা করণীয় সম্পর্কে কোনো বিবৃতি পর্যন্ত দেয়নি। এ বিষয়ে সরকারের একজন মন্ত্রী থাকলেও তার তৎপরতা এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি। এ অবস্থার পরিবর্তন হওয়া জরুরি। মনে রাখতে হবে, উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষের জীবিকার অন্যতম মাধ্যম হল গবাদি পশু। বন্যার কারণে মানুষ তাদের গবাদি পশুকে খাদ্য খাওয়াতে পারছে না।
সরকার গত ৭ বছরে দেশের ব্যাপক উন্নয়ন করেছে, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এসব অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে নদ-নদীতে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়নি, যা সত্যিই দুঃখজনক। সরকারের উচিত, বন্যার্তদের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে যা যা করণীয়, সবই করা। প্রথমত, ত্রাণের ব্যবস্থা করতে হবে। ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে এড়িয়ে গেলে চলবে না। আমরা মনে করি, সরকার যে পরিমাণ ত্রাণ বিতরণ করছে, তা অপ্রতুল। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একটি গ্রামে বন্যার্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার এবং এরা পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে পাঁচ দিন। কিন্তু সাহায্য এসেছে মাত্র ১০০ কেজি চাল! মনে রাখতে হবে, বন্যার স্থায়ী সমাধান না হলে তা বাংলাদেশের উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে। দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হলে অবশ্যই এ সব এলাকার বীজ, ক্ষেত-খামার, ফসলি জমি ইত্যাদি রক্ষা করতে হবে।
মনে প্রশ্ন জাগে, উত্তরবঙ্গসহ এ সব অঞ্চলের মানুষ শুধুই কি কষ্ট আর যন্ত্রণা সহ্য করবে? তাদের এ সমস্যার স্থায়ী কোনো সমাধান কি কখনও হবে না? এসব মানুষের জন্য আমাদের কি কোনো দায়বদ্ধতা নেই। বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও বন্যার্ত মানুষের কল্যাণে কিছু পদক্ষেপ নেয়া বেশ জরুরি যেমন- ১. বন্যা নিয়ন্ত্রণে স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া। ২. বন্যার্ত মানুষের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করা এবং এ ক্ষেত্রে শুধু সরকার নয়, চাই বেসরকারি সংস্থা এবং বিত্তশালী লোকদের সহায়তা। ৩. যেহেতু বন্যা প্রতি বছরই আমাদের দেশের কোনো না কোনো অঞ্চলে আঘাত হানে, সুতরাং বন্যাকবলিত বানভাসি মানুষের জন্য একটি সার্বজনীন ফান্ড গঠন করতে হবে। ৪. বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের জন্য নষ্ট হওয়া সড়ক-মহাসড়ক বা যোগাযোগ ব্যবস্থা মেরামতের কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হাতে নেয়া। ৫. ভারতের সঙ্গে গ্রহণযোগ্য পানি বণ্টন চুক্তি সম্পন্ন করা, অন্যথায় আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়া। ৬. বন্যা-পরবর্তী বিভিন্ন ধরনের অসুখ মোকাবেলার জন্য আগাম ব্যবস্থা নেয়া। ৭. বন্যা-পরবর্তী সময়ে কৃষকদের জন্য বীজ ও প্রয়োজনীয় সবকিছুর ব্যবস্থা করা। ৮. বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ব্যাংক ঋণ মওকুফের ব্যবস্থা করা। ৯. অত্যধিক ক্ষতিগ্রস্তদের ফসলি জমির ক্ষতির জন্য কিছু ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা। ১০. প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় সরকারের টেকসই পরিকল্পনা হাত নেয়া। ১১. জলাশয় ও পাহাড় সংরক্ষণ আইন আরও কঠোর করা। ১২. অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট ও বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। ১৩. বাংলাদেশের প্রতিটি নদী-খাল-বিল প্রভৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয়া। ১৪. যতই ব্যয়বহুল হোক, প্রতি বছর নদী খননের কাজ হাতে নেয়া। ১৫. উপদ্রুত এলাকার মানুষদের দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা। ১৬. প্রয়োজনীয় আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা। ১৭. বন্যাকবলিত মানুষ যাতে সুপেয় পানি পায়, সে দিকে লক্ষ্য রেখে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ১৯. বন্যার পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কতামূলক অবস্থা আরও দ্রুত, শক্তিশালী ও আধুনিক করা। ২০. বন্যার্ত মানুষের সহায়তায় দক্ষ, সৎ ও একনিষ্ঠ স্বেচ্ছাসেবী, কর্মী ও ব্যবস্থাপক নিয়োগ দিতে হবে। ২১. পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে আরও কার্যকরী ও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিতে হবে।
মো. শরীফুর রহমান আদিল : শিক্ষক, গবেষক
adil-jnu@yahoo.com
 

সকল মন্তব্য

মন্তব্য দিতে চান তাহলে Login করুন, সদস্য না হলে Registration করুন।

সকালের আলো

Sokaler Alo

সম্পাদক ও প্রকাশক : এস এম আজাদ হোসেন

নির্বাহী সম্পাদক : সৈয়দা আফসানা আশা

সকালের আলো মিডিয়া ও কমিউনিকেশন্স কর্তৃক

৮/৪-এ, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত

মোবাইলঃ ০১৫৫২৫৪১২৮৮ । ০১৭১৬৪৯৩০৮৯ ইমেইলঃ newssokaleralo@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Developed by IT-SokalerAlo     hit counters Flag Counter