Sokaler Alo
April 27, 2018
Login
Username
Password
  সদস্য না হলে... Registration করুন
২৪ এপ্রিল দেশের পোশাক শিল্প খাতের এক শোকাবহ দিন                 উদ্ধার হচ্ছে না অসাধুচক্রের কবলে থাকা দেশের সম্পদ সরকারের খনন করা কপোতাক্ষ নদ                

উপ- সম্পাদকীয়


দু’হাজার চৌদ্দ’র এক খন্ড স্মৃতি
শামীম আজাদ :
সময় : 2017-11-30 14:46:15

ঘুম ভাঙলেই মনে হয় কি কি কাজ বাকি রয়ে গেছিলো কাল রাতে । সেইসব লেফট ওভার কাজ। আজ ঘুম ভাঙতেই মনে হল কাল আমার ‘ব্রিকলেইন, মেইড ইন বাংলাদেশ’ লেখাটা দুজনকে লেখা ট্যাগ করা হয়নি। একজন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউস অব লর্ডস এর এক মাত্র বাঙালি ব্যরোনেস উদ্দিন। আরেকজন আমাদের পাঠচক্র’র সদস্য রাসেল। ওদের দু’জনের কথাই সে লেখায় উল্লেখ আছে। লেখাটা পড়লে তাদের ভাল লাগবে। গরম গরম চা বানিয়ে হাতের কাছে ধরলে যেমন।
ওদের ভালো লাগবে আমার ভাবনাও। এদেশে নানান অর্জন বা আয়ত্ব হয়েছে এমন কোন কৌশলের গল্প লিখতে গেলেই মনে আমরা এখানে এক নামে পরিচিত- সে হচ্ছে ব্রিকলেইন। আমি যেকোন স্থানে এদেশী মানুষের সামনে নিজেকে উপস্থাপন করতে- সে মঞ্চে বা সামজিক আনন্দ যজ্ঞই হোক- মাইক্রোফোনে বা হাত বাড়িয়েই হোক বলি, আই এ্যাম শামীম আজাদ এ্যা পোয়েট ফ্রম ব্রিকলেইন। 
আর এই আমাদের ব্রিকলেইন এটা এখন এক উপমা। এর নামোচ্চারনেই এদেশে বাংলাদেশের মানুষের শক্তিটা লাফিয়ে বেরোয়। শিল্প শিক্ষা রাজনীতি বানিজ্য বেসাত সবই। আর এ ব্রিকলেন হচ্ছে মেইড ইন বাংলাদেশ। ওটা ইংল্যান্ডে আমাদের ক্যাপিটাল। মন ভাল নেই চলে যাও ব্রিক লেইন। মন ভালো? চলে আসো আড্ডা দিতে। কাউকে না কাউকে পাবেই। চা নিয়ে চলছে খালেদা- হাসিনা চর্চা। আর এখন যে আজাদের শরীর ভালো না- সব জায়গায় বেড়াতে যেতে পারি না। কিন্তু মন ভালো করার জন্যতো কোথাও যেতে হয়? আমি যাই ক্যাফে গ্রিলে, গ্রাম বাংলায়, আমার গাঁও এ বা স্বাদে। আর সজীবতো থাকেই ওখানে। কাছে। আমরা দুজন পোক মরিচে বাগার দেয়া প্রাণহরা গরম ডালে ও জুঁইফুল মার্কা ভাতে টাকি মাছের ভর্তা মেখে মেখে খাই আর সে তার সাইকেল রেখে আমাদের পাশে বসে মিনি পেঁয়াজু খায়। আমি বুঝি সে আসলে খায়না- আমাদের দেখে। ভাবে আর কতদিন এভাবে দেখা যাবে!

বিছানা থেকে উঠতে গেলে এই নতুন ম্যাট্রেস আর তার ওপরে পুরোনো লাল ম্যাট্রেস মিলে কেমন স্কুইজি একটা শব্দ করে, আজ ও করলো। আজাদ হলে কবে এটি তুলে, ওটি খুলে, কোনটা ফেলে এই বিছানার ডাকাডাকি বন্ধ করে ফেলতো। তুই ব্যাটা বিছানা, তোর খালি চিৎ’ হয়ে বুক পেতে থাকার কথা। কোন শব্দ করার কথা না, শামীম আনো টুল বক্স এরে টাইট দিতে হবে।

আহারে আজাদ এখন জানেও না কবে আমি এই বিছানাটা কিনেছি, তার জন্য কালো এক জোড়া কালো টি শার্ট কিনেছি কিংবা এখন সকাল না বিকেল। এখন প্রায়ই দুপুর বেলার ঘুম সেরে সন্ধ্যায় উঠে ওষুধ খাবার পর রাতের ভাত খেতে চায় না। এত সকালে কেউ ভাত খায়? কিছুতেই বিশ্বাস করে না এটা বিকেল। তবে দিবস ও রাত্রির সংযোগ সময়টা এমনি, সনাক্ত করা কঠিন। আমি দুপুরে ঘুমুই না ঘুমুলে আমারো এমন লাগতো। তাছাড়া এই যে দিন রাত্রি, সময়, বার, বেলা সবইতো মানুষের কর্ম যজ্ঞের কারণেই চিহ্নিত হয়, হতে পারে। প্রয়োজন না থাকলে সবইতো সমিল। সবই চিহ্নবিহিন।

বাথরুমে জলের শব্দ পেয়ে বুঝি আবার ঘুমুবার আগে বাথ্রুমের প্রয়োজন সারতে গেছে। আমি তাই পূর্ণ করার পর নক করে বললাম, চা আনি! বলেই বুঝলাম ভুল করেছি। সে তো, না বলবে। আজকাল সব কিছুতেই প্রবল অনিহা, শুধু না না অথবা চোখ বন্ধ করে চুপ করে থাকে। আসলে আমার উচিত ছিল চা বানিয়ে ট্যাগ করা। তাহলে অন্তত আধ কাপ চা খেত, তারপর গতকালের ইন্ডিপেন্ডেন্ট আই পত্রিকাটা চোখের সামনে মেলে আবার ঘুমোতো। পত্রিকা ওর ঘুমের ওষুধ। আর আমার ওর নিঃশ্বাসের শব্দ।

কিন্তু কি আশ্চর্য আজ তার কিছুই করলো না। লাঠি হাতে উলের টুপি, গলাবন্দ পরা বাথরুম থেকে বেরিয়ে একটা হাসি দিল! এইতো এই হাসিটার কথাই বলে আমাদের ওয়ানস্টেড হাসপাতালের প্যাথোলজির ছেলেটা । মিস্টার আজাদ, ইউ হ্যাভ সাচ এ্যা লাভলী স্মাইল। কিপ স্মাইলিং এ্যান্ড দা ওয়ার্ল্ড ইজ ইয়োর্স। আর আমি বলি, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মেকাপ হাসি।। হি ক্যান মেইক ইট আপ এ্যনি রং ডুইং উইথ দ্যাট।

-একটু ব্ল্যাক কফি দাও। হুররে, আজাদ আগের মত আমের ডালে মুকুল নিয়ে এসেছে, আজ এ ঘরে আবার জমবে মেলা বটতলা হাঁটতলা। আবার বেতার বাংলায় সকাল বাজবে বন্যার রবীন্দ্রসঙ্গীতে। আমি লেখা বাদ দিয়ে ইন্টারনেট বাদ দিয়ে দুকাপ চা’র জল চাপিয়ে মিঃ মুক্তর জন্য পাকা পেঁপেঁ কেটে কাটতে গেলাম। মাইক্রোওয়েভে সয়াদুধে পরিজ সেদ্ধ করে আধ খানা মর্তমান কলা ম্যাশ করে গ্লুটেন ফ্রি ব্রাঊন ব্রেডের এক টুকরো টোস্টারে ফেলে তার ওপরে হাত সেঁকতে থাকলাম। আজ ফ্লাডে ডুবে যাওয়া দেশের প্রাইমিনিস্টার ডেভিড ক্যামেরুনের খবর আছে, খবর আছে চ্যান্সেলর জর্জ অসবোর্নের ও।কারণ আমার নিউজ এ্যাডিক্ট হ্যাসবেন্ড জেগেছে। আজ সারাদিন খবর দেখবে আর ক্যামেরুন থেকে শুরু আমাদের দেশের করিমনের যারই হোক সে খবরে রি এ্যাক্ট করবে।

আমি নাস্তা আর সকালের চারটা ওষুধের বড়ি নিয়ে ঢুকলেই বলবে, “বুঝলে শামীম এই বেটাদের মাথায় ঠিক আমাদের দুই মহিলার মত গোবর ভরা। দেশটার সর্বনাশ করে ফেল্ল।“ আর আমি ঠিকই বুঝবো ও কাদের কথা বলছে।
১৭।২।১৪
লন্ডন

সকল মন্তব্য

মন্তব্য দিতে চান তাহলে Login করুন, সদস্য না হলে Registration করুন।

সকালের আলো

Sokaler Alo

সম্পাদক ও প্রকাশক : এস এম আজাদ হোসেন

নির্বাহী সম্পাদক : সৈয়দা আফসানা আশা

সকালের আলো মিডিয়া ও কমিউনিকেশন্স কর্তৃক

৮/৪-এ, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত

মোবাইলঃ ০১৫৫২৫৪১২৮৮ । ০১৭১৬৪৯৩০৮৯ ইমেইলঃ newssokaleralo@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Developed by IT-SokalerAlo     hit counters Flag Counter