সর্বশেষ সংবাদ নদী ও নারী                  ১০ জুন দ্বীপায়ন দাশ অর্নব এর ৭ম শুভ জন্মদিন                 শতভাগ ‘মুডি শিল্পী’আয়েশা আরিয়ানা                  সাহিত্যপ্রেমী বজলুর রহমান (খোকন)                  উপলব্ধি                  বিবর্তনে ভিন্নমাত্রার বিশ্বসভ্যতা ও আমরা : আবু রায়হান মিসবাহ                 কোথায় কি পরিস্থিতিতে আছেন হুমায়ূন আহমেদের ৮ সন্তানেরা ?                 গুগলের কাণ্ডে নুহাশের কান্না!                 উন্মোচিত হলো ‘নাবিলা জানো?’ পোষ্টারের রহস্য!                 বয়স তার মাত্র ১২ বছর,৮০ ভাষায় গান গাইতে পারে !!                 মানবতা বেঁচে থাকুক                 আপনার আজকের রাশিফল                  দেশবাংলা                  রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচানোর কাজে সবার সম্পৃক্ত হওয়া উচিৎ                 যৌনপল্লীর অতীত পেছনে ফেলে আইনজীবী হওয়ার লড়াই                

Thursday, April 15, 2021
Login
Username
Password
  সদস্য না হলে... Registration করুন


ডানপিটেদের আসর


বিবর্তনে ভিন্নমাত্রার বিশ্বসভ্যতা ও আমরা : আবু রায়হান মিসবাহ
আবু রায়হান মিসবাহ :
সময় : 2020-05-27 03:25:30

রং বদলানোর মত মানব সভ্যতা কখনো স্থির থাকে না, এগিয়ে চলে। কখনো এর গতি হয় মন্থর, কখনো তা দ্রুত থেকে দ্রুততর। বর্তমান দিনগুলোতে মানব সভ্যতার দিকে তাকানো যায়, তবে লক্ষ্য করা যাবে, অপসৃয়মাণ দৃশ্যপট যেন পাল্টে যাচ্ছে অতি দ্রুত। অকল্পনীয়, অসম্ভব বলে গতকালও যা মনে হয়েছে, তা যেন সম্ভব হয়ে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক সব ক্ষেত্রে পরিব্যাপ্ত। পরস্পর সম্পর্কিত ক্ষেত্রগুলোর একটাতে যখন পরিবর্তন ঘটছে, তখন অন্য ক্ষেত্রও দ্রুত পরিবর্তনের পথে যাচ্ছে। ক্রমেই যেন আরো নতুন হয়ে উঠছে এই পৃথিবী। মানুষের চিন্তা ধ্যান-ধারণা মনোভাব দৃষ্টিভঙ্গি অভ্যাস রীতিনীতি যোগাযোগ সম্পর্ক প্রভৃতি সব বিষয়ই পরিবর্তনের জোয়ারের মধ্যে পড়েছে। মানুষ ব্যস্ত পরিবর্তনে- বিবর্তনে। এখানে ভিন্নমাত্রায় যোগ হয়েছে যাত্রিকতা। দিন যাচ্ছে মানুষ যান্ত্রিক হচ্ছে- সেখানে পথের কাটা হিসেবে আবেগটুকু মেরে ফেলছে।
 
 
বিবর্তনের হাত ধরে এগিয়ে যাচ্ছে পৃথিবী। শিক্ষা, সংস্কৃতি, চিকিৎসা-বিজ্ঞান, সংস্কার-সাহিত্য, শিল্প- প্রযুক্তি, চিন্তা চেতনায় ভিন্নমাত্রা পেয়েছে বিশ্বসভ্যতা। তবে এ সকল আধুনিক সভ্যতার দৌঁড়ে হারিয়ে যাচ্ছে প্রচলিত নীতি, নৈতিকতা ও নূন্যতম মানবিক মূল্যবোধ। যার ফলে ক্রমশই বাড়ছে সামাজিক অবক্ষয়। নষ্ট হচ্ছে সামাজিক শৃঙ্খলা কিংবা ছিন্ন হচ্ছে সামাজিক পারষ্পরিক সম্পর্ক। দিনকে দিন অস্থির হয়ে উঠছে সামগ্রিক সমাজব্যবস্থায়। চলছে নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চরম দুর্ভিক্ষ। কমে আসছে পরষ্পরের প্রতি বিশ্বাস ও শ্রদ্ধাবোধ। অন্যদিকে নারীর প্রতি বাঁকা দৃষ্টিতে তাকানো এটা আদিকাল থেকে চলে আসছে। একশ্রেণীর পুরুষতান্ত্রিক সমাজ এখনো নারীকে ভোগ্যপণ্য কিংবা যৌনদাসী হিসেবে বিবেচিত করা হয়। যা সত্যিই পরিতাপের।
 
 
সমাজ ও রাষ্ট্রের সুখ-সমৃদ্ধির নিয়ন্ত্রক আমরাই। পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সংহতি শান্তিপ্রিয় মানুষের কাম্য। সেখানে মানুষ নিজেকে যান্ত্রিক হিসেবে তৈরি করতে উঠে পড়ে লেগেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিবার-সমাজ, অফিস-আদালত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও  চিন্তা-চেতনায় বিরাজ করছে চরম অস্থিরতা। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও বিশ্বাস প্রায় শূন্যের কোঠায়। মানুষের মধ্যে প্রাণ আছে কিন্তু মন নেই। আবেগ অনুভূতি নিরুদ্দেশ। মানুষের অবচেতন হৃদয় শান্তির সন্ধানে ঘুরপাক খাচ্ছে। পারিবারিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সমাজ নিষ্ক্রিয়। নৈতিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে প্রজন্ম যেনো কেমন উদাসীন।
 
 
অন্যদিকে যান্ত্রিকতা ও মানবিকতা দুই মেরুকরণে ব্যস্ত। তবে পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি। অথচ আমাদের মাঝে মানবিক মূল্যবোধ পরিবর্তনে নূন্যতম আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। যার দরুন রোজ প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রিক মিডিয়ায় ধর্ষণ কিংবা গণধর্ষণের মত রসাত্বক গল্পের হেডলাইন হচ্ছে। দোষ খোঁজা হচ্ছে- এতেই দায় সারা। অনেকে আবার স্বয়ং ধর্ষিতাকে দোষী সাবস্ত করতে উঠে পড়ে লেগে যায়। এভাবে করে রোজ ধর্ষণের মত লোমহর্ষক ঘটনাগুলো সময়ের দুষ্টু দহনে গ্রাস করে ফেলছে। ফলে দিনদিন তা মাত্রা থেকে মাত্রাতিরিক্ত আকার ধারণ করছে।
 
 
ধর্ষণ বা শীলতাহানী নিয়ে বিভিন্ন জনকে বিভিন্ন রকম মন্তব্য করতে দেখা যায়। আমাদের সকলের উচিৎ বস্তুনিষ্ঠ এসব মন্তব্যকারীকে সাধুবাদ জানানো। কেননা প্রত্যেকটি মন্তব্য এক একজন ব্যক্তির অভিরুচি পরিষ্কার ভাবে ফুটে উঠে। যে যেমন তার থেকে অনুরূপ মন্তব্য আসা করাটাই স্বাভাবিক। এখানে দোষাদোষি কিংবা রসারসিতে যাওয়া যাবে না। সমস্যা যেহেতু নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও শীলতাহানি- এখনই এর কার্যত সমাধান চাই। এখানে পোষাক না মানসিকতার পরিবর্তন, নাকি দুটোরই পরিবর্তন সে ধাধায় যাওয়ার অবকাশ নেই। এখানে পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই- নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও শীলতাহানি বন্ধে কঠিন আইন চাই। পরিবার সমাজ রাষ্ট্র নারীর নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ। অথবা শর্ষের মাঝে ভূত ডুকে পড়েছে। তেতুলতত্ত্বের অবসান চাই। নারী কোনো মুখরোচক চাটনি আচার না যে জ্বিবে জল চলে আসতে হবে। বলাবাহুল্য শুধুমাত্র পর্দার মাঝে এর সমাধান সম্ভব নয়। আবার নারীকে খোলাবাজারের পণ্য হতেও দেওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন। পাশাপাশি চাই আইনের সুশাসন। অন্যথায় এর দায় রাষ্ট্র এড়িয়ে যেতে পারে না।
 
 
 
কবি ও লেখক

সকল মন্তব্য

মন্তব্য দিতে চান তাহলে Login করুন, সদস্য না হলে Registration করুন।

সকালের আলো

Sokaler Alo

সম্পাদক ও প্রকাশক : এস এম আজাদ হোসেন

নির্বাহী সম্পাদক : সৈয়দা আফসানা আশা

সকালের আলো মিডিয়া ও কমিউনিকেশন্স কর্তৃক

৮/৪-এ, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত

মোবাইলঃ ০১৫৫২৫৪১২৮৮ । ০১৭১৬৪৯৩০৮৯ ইমেইলঃ newssokaleralo@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Developed by IT-SokalerAlo     hit counters Flag Counter