Wednesday, October 17, 2018
Login
Username
Password
  সদস্য না হলে... Registration করুন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দিনের সফরে রিয়াদে পৌঁছেছেন                 সাংবিধানিকভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য করণীয় সব কিছুই করবে নির্বাচন কমিশন                 যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায়ের দিন ধার্য করা বেআইনি                 বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে গেল ন্যাপ-এনডিপি                 গণমাধ্যম সম্পর্কে দুটি আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা                 ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সবাই নিজেদের অধিকার নিয়ে মাথা উঁচু করে বসবাস করবে                 নিসচা টঙ্গীবাড়ী শাখার উদ্যোগে পরিবহণ শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ ও সনদ বিতরণ                  মাধবদী ও শেখেরচরের জঙ্গি আস্তানায় সোয়াত                 সৌদির সঙ্গে প্রতিরক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে দুটি সমঝোতা স্মারক সই হতে যাচ্ছে                 কামাল হোসেন গংরা খুনিদের সাথে ঐক্য করেছে- প্রধানমন্ত্রী                 আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে প্রথম পর্যায়ে ৮৪ হাজার ইভিএম কিনতে চায় ইসি                 স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে উন্নীত হবে                  মাওয়া গোলচত্বরে পদ্মা সেতুর নামফলক ও রেলপ্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী                 

মূল সংবাদ


আগামী ৩০ জুলাই রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন
সকালের আলো প্রতিবেদক :
সময় : 2018-05-30 08:08:27

 

আগামী  ৩০ জুলাই রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ করে নির্বাচনী সময়সূচি অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এ তিন সিটিতে আগামী ১৩ জুন থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হবে। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ আগামী ২৮ জুন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১ ও ২ জুলাই এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ জুলাই। আগামী ১০ জুলাই এ সিটি নির্বাচনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হবে নির্বাচনী প্রচার। 

মঙ্গলবার ইসি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত কমিশনের ৩০তম বৈঠকে এ সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ওই বৈঠকে পাঁচটি উপজেলা, পাঁচটি পৌরসভা ও অর্ধশতাধিক ইউনিয়ন পরিষদে আগামী ২৫ জুলাই ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বৈঠকের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা সাংবাদিকদের এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান।

 খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে কারচুপি নিয়ে বিএনপির নানা অভিযোগের মধ্যে তিন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের ঘোষণা এলো। যদিও তিন সিটি নির্বাচন নিয়ে সিইসির ব্রিফিংয়ের ঘণ্টা দেড়েক পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকের পর বিএনপি প্রতিনিধি দল তিন সিটি নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি। তবে কমিশনের ওপর অনাস্থার কথা জানিয়ে যান।

এদিকে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার পরপরই তিন সিটির বিভিন্ন স্তরের মানুষের আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল এই নির্বাচন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা গতকালই শুরু করেছেন নানা তৎপরতা।

নির্বাচনের সময়সূচির বিষয়ে সিইসি বলেন, একইদিনে তিন সিটি কর্পোরেশনে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। এ তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আমাদের জানিয়েছে, এগুলোতে সীমানা বা আইনগত জটিলতা নেই।

এছাড়া আগামী ২৫ জুলাই পাঁচ উপজেলা, পাঁচ পৌরসভা ও কিছু ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। রোজার কারণে নির্বাচনে কোনো সমস্যা হবে না বলেও জানান তিনি।

এ সময় সিইসির পাশে থাকা নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, আগামী ১৩ জুন তিন সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। ওইদিন থেকে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।

১৩ জুনের আগে সিটি কর্পোরেশন (নির্বাচন আচরণ) বিধিমালা সংশোধন না হলে এমপিরা এসব নির্বাচনে প্রচারে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন না বলেও জানান সিইসি। এ সময় অপর কমিশনাররা ও ইসির সচিব উপস্থিত ছিলেন।

ইসির কর্মকর্তারা জানান, আগামী ২৬ জুন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দিন আগেই নির্ধারিত আছে। ওই নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে তিন সিটি কর্পোরেশন ও অর্ধশতাধিক উপজেলা, পৌরসভা ও ইউপিতে ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হল।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এগুলোই সবচেয়ে বড় আকারের নির্বাচন। স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠানে মেয়র ও চেয়ারম্যান পদে রাজনৈতিক দলের প্রতীকে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর জনপ্রিয়তার যাচাই হবে এসব নির্বাচনে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের গ্রহণযোগ্যতা ও সক্ষমতার প্রমাণ মিলবে। সব মিলিয়ে ইসি ও রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এসব নির্বাচন বড় চ্যালেঞ্জ। ইতিমধ্যে নির্বাচনী এলাকাগুলোতে সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রচার চালাচ্ছেন।

জানা গেছে, কমিশনের সভায় তিন সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হলেও রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়নি। গতকাল তিন সিটির নির্বাচনের তফসিলের প্রজ্ঞাপন ও গণবিজ্ঞপ্তি কোনোটি প্রকাশ করেনি কমিশন।

তবে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের তফসিলের প্রজ্ঞাপন জারির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

কমিশন সভার কার্যপত্রে দেখা গেছে, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২১ হাজার ৪৬ জন। এ সিটিতে পুরুষের চেয়ে মহিলা ভোটার ৪ হাজার ৭২০ জন বেশি।

পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজার ১৬৩ জন ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৮৮৩ জন। এ সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড ৩০টি ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১০টি। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও ৩০টি সাধারণ ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে।

এ সিটিতে ভোট ২ লাখ ৪১ হাজার ৯৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২১ হাজার ৩৩২ জন ও মহিলা ভোটার ১ লাখ ২০ হাজার ৬২৭ জন। অপরদিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনে ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড রয়েছে।

এ সিটি কর্পোরেশনে ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২১ হাজার ২০০ জন। সর্বশেষ ২০১৩ সালের ১৫ জুন এ তিন সিটি কর্পোরেশনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে তিনটিতেই বিএনপি সমর্থিত মেয়র নির্বাচিত হন।

বৈঠকের কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সীমানা, ওয়ার্ড বিভক্তিকরণ, কোনো আদালতের নির্দেশনা/পর্যবেক্ষণ/স্থগিতাদেশ নেই মর্মে জেলা প্রশাসকের বরাত দিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ মতামত দিয়েছে।

তিন সিটি কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি নির্বাচনে ২০১৩ সালের ১৫ জুন ভোট গ্রহণ হয়েছে। তিনি সিটি কর্পোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন তারিখে। এ হিসাবে আগামী ৫ অক্টোবর রাজশাহী সিটির, ৮ অক্টোবর সিলেট ও ২৩ অক্টোবর বরিশাল সিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে বিদ্যমান আইনে।

ইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে ৬টি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও ইভিএম ব্যবহার করা হবে।

যদিও বিএনপি বরাবরই ইভিএম ব্যবহারে আপত্তি জানিয়ে আসছে। তবুও কমিশন এসব নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তিন সিটি কর্পোরেশনে কতটি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহার করা হবে তা নির্ধারণ করা হয়নি। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করার কথা সিইসিও নিশ্চিত করেছেন।

পাঁচ উপজেলা, পাঁচ পৌরসভা ও অর্ধশতাধিক ইউপিতে ভোট ২৫ জুলাই : ইসি সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে পাঁচটি উপজেলা, পাঁচটি পৌরসভা ও অর্ধশতাধিক ইউপিতে ২৫ জুলাই ভোট গ্রহণ করা হবে।

পৌরসভাগুলো হচ্ছে- গাজীপুরের কালীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার ও গোপালদী, কক্সবাজার জেলার কক্সবাজার ও নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পৌরসভা। একইদিন জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়াইল ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লালুলা ইউনিয়ন পরিষদে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন ৫২টি ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন পদে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর পাঁচ উপজেলা পরিষদের নামের তালিকা পাওয়া যায়নি।

এদিকে বরিশাল ব্যুরো জানায়, সোমবার নির্বাচনী তারিখ ঘোষণার পরপরই বরিশালে বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল সিটি নির্বাচন। আগামী ৩০ জুলাই নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ ঘোষণা হলেও বরিশালে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা বেশ কয়েক বছর ধরেই আছেন প্রচারণার মাঠে।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগসহ মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের সভাপতি/সাধারণ সম্পাদকসহ দলের স্থানীয় পর্যায়ের সব নেতাকর্মীই রয়েছেন তার পক্ষে। এছাড়া জাহিদ ফারুক শামিম নামে আরেক সাবেক সেনা কর্মকর্তা আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী হলেও মাঠ পর্যায়ে তার তেমন কোনো অবস্থান নেই।

আওয়ামী লীগের এমন সুবিধাজনক অবস্থানের বিপরীতে বিএনপিতে চলছে মনোনয়নকেন্দ্রিক কোন্দল। ভোটের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত বরিশালে বর্তমান মেয়র আহসান হাবিব কামাল ছাড়াও এখানে মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী আছেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন, বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সভাপতি এবায়েদুল হক চাঁন, একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আবুল কালাম শাহিন, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউদ্দিন সিকদার এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আফরোজা নাসরিন। এছাড়া বিএনপির সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে সাবেক মেয়র, হুইপ, এমপি দলের যুগ্ম মহাসচিব অ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ারকে হিসাব করা হলেও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া না হওয়া নিয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু বলছেন না।

আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির পাশাপাশি এখানে মেয়র পদে নির্বাচনী মাঠে আছেন জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপস। দলীয় মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত হওয়ায় ইতিমধ্যে কোমর বেঁধে মাঠে নেমে পড়েছেন তিনি।

রাজশাহী ব্যুরো জানায়, সিটি কর্পোরেশন ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর রাজশাহীতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ এবং উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। ইসির তফসিল ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। পক্ষান্তরে বিএনপি নেতাকর্মীরা ছিলেন অনেকটাই নির্লিপ্ত। তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার ভিন্নতা সম্পর্কে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল বলছেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে বছরখানেক আগেই আওয়ামী লীগ হাইকমান্ড তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এ কারণে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা আগে থেকেই লিটনের পক্ষে মাঠে নেমেছেন।

অপরদিকে বিএনপির প্রার্থী নিয়ে এখনও দ্বিধা-দ্বন্দ্বে আছেন নেতাকর্মীরা। দলটির হাইকমান্ড এখনও প্রার্থী হিসেবে স্পষ্টত কারও নাম ঘোষণা করেননি। এ কারণে নির্দিষ্টভাবে কোনো প্রার্থীর পক্ষে মাঠে নামতে পারেননি বিএনপির নেতাকর্মীরা।

এছাড়া মাসছয়েক আগেই বিএনপির প্রধান রাজনৈতিক মিত্র জামায়াত তাদের নেতা সিদ্দিক হোসাইনকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। এসব মিলিয়ে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে বেকায়দায় পড়েছে বিএনপি।

এছাড়া প্রার্থী হিসেবে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনুর নামও শোনা যাচ্ছে। মিনুর সমর্থকরা তাকে মেয়র পদে দেখতে চাইছেন।

তবে নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না বলে সম্প্রতি গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি জানিয়েছেন মিনু। এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে রাজশাহী মহানগর সভাপতি শাহাবুদ্দিন বাচ্চুর নামও শোনা যাচ্ছে।

এর বাইরেও নাগরিক কমিটির ব্যানারে গত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী হাবিবুর রহমান এবং সাবেক বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট এনামুল হককেও নির্বাচনের ময়দানে দেখা যেতে পারে।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল বলেন, দলের প্রধান শেখ হাসিনা আমাদের প্রার্থী হিসেবে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের নাম ঘোষণা করেছেন।

আমরা অনেক আগে থেকেই লিটনের পক্ষে মাঠে নেমেছি। লিটন এর আগে মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে যে উন্নয়ন করেছেন, তা দৃশ্যমান। আমরা আশা করছি; যোগ্য, মেধাবী এবং পরিশ্রমী নেতা হিসেবে লিটনকে রাজশাহীর মানুষ মেয়র নির্বাচিত করবেন।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী মহানগর বিএনপির একজন নেতা বলেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন নিয়ে বিএনপি সমস্যার মধ্যে আছে। কারণ এখনও কে প্রার্থী হচ্ছেন বিষয়টি স্পষ্ট নয়। এছাড়া বর্তমান মেয়র বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলও সিটি কর্পোরেশনের অভ্যন্তরীণ চাপ এবং দলীয় কোন্দল নিয়ে জটিলতায় আছেন।

নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হলেও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা এখনও হাইকমান্ড থেকে কোনো নির্দেশনা পাননি। এ কারণে বিএনপি নেতাকর্মীরা চুপচাপ রয়েছেন। নেতারা নির্দেশ দিলে কর্মীরা হয়তো তখন মাঠে নামবেন।

সিলেট ব্যুরো জানায়, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন সিলেটের বতমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী ও সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরান।

গত নির্বাচনের মতো আসন্ন নির্বাচনেও তারা হচ্ছেন মূল প্রতিদ্বন্দ্বী। বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। ক্ষমতাসীন দলের আস্থা সাবেক টানা দু’বারের মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের ওপর।

এর মধ্যে দলীয় প্রতীকে প্রথমবার এই নির্বাচন হওয়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বিষয়টি দেখছে মর্যাদার লড়াই হিসেবে। বিএনপি নগর পিতার চেয়ার দখলে রাখতে চায়। ক্ষমতাসীন দল চেয়ার পুনরুদ্ধারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

নির্বাচন সামনে রেখে বেশ কিছুদিন ধরে মাঠে রয়েছেন দুই শতাধিক মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী। মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে উভয় দলের একাধিক নেতা মাঠে নেমেছেন। গত নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান এবারও দলের মনোনয়ন পেতে পারেন। হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পেয়ে তিনি প্রচারে নেমেছেন বলে দাবি করছেন।

এছাড়া দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আসাদ ও টানা তিনবারের কাউন্সিলর নগর আওয়ামী লীগ নেতা আজাদুর রহমান আজাদ।

অন্যদিকে এবারও বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন বর্তমান মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। যদিও সম্প্রতি মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় মাঠে নেমেছেন।

এছাড়া জাতীয় পার্টির দলীয় প্রার্থী হিসেবে এককভাবে মাঠে রয়েছেন সাবেক পৌর কমিশনার আবদুস সামাদ নজরুল। নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার আগাম ঘোষণা দিয়ে মাঠে আছেন মহানগর জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবের, খেলাফত মজলিশ প্রার্থী একেএম আবদুল্লাহ মামুন। আর জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও ইসলামী ঐক্যজোট পৃথক প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা দিলেও নাম ঘোষণা করেনি।

যুগান্তর।

সকল মন্তব্য

মন্তব্য দিতে চান তাহলে Login করুন, সদস্য না হলে Registration করুন।

সকালের আলো

Sokaler Alo

সম্পাদক ও প্রকাশক : এস এম আজাদ হোসেন

নির্বাহী সম্পাদক : সৈয়দা আফসানা আশা

সকালের আলো মিডিয়া ও কমিউনিকেশন্স কর্তৃক

৮/৪-এ, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত

মোবাইলঃ ০১৫৫২৫৪১২৮৮ । ০১৭১৬৪৯৩০৮৯ ইমেইলঃ newssokaleralo@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Developed by IT-SokalerAlo     hit counters Flag Counter