সর্বশেষ সংবাদ কোভিড-১৯ বদলে দিবে বিশ্ব পরিস্থিতি                 দেশে করোনা সংক্রমণ কোথায় যাবে                 বাঙালির মুক্তির সনদ ৬-দফা                  নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন                 একজন ডায়াবেটিস রোগীর জীবনের অবিশ্বাস্য অধ্যায়                 প্রেক্ষিতঃ স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহণ চালু                  ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়                 আগামী ১লা জুন ২০২০ থেকে 'সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮' পুরোপুরি কার্যকরের দাবি                 ফেসবুক মেসেঞ্জারে চ্যাটের মাধ্যমে সুখের প্রদীপটাকে নিভাতে চায়                 

Saturday, July 11, 2020
Login
Username
Password
  সদস্য না হলে... Registration করুন


উপ-সম্পাদকীয়


প্রেক্ষিতঃ স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহণ চালু
এস এম আজাদ হোসেন :
সময় : 2020-05-29 13:09:35


টানা ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি শেষে শর্তসাপেক্ষে প্লেন ও গণপরিবহন চালুর অনুমতি দিয়েছে সরকার।৩১ মে থেকে আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত চলাচল সীমিত করে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বেশকিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। উক্ত সময়ে শর্তসাপেক্ষে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত বিধি নিশ্চিত করে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান ও রেল চলাচল করতে পারবে। তবে সর্বাবস্থায় মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগ এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা জারি করবে।অভ্যন্তরীণ প্লেন চলাচলেও বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, উড়োজাহাজ কর্তৃপক্ষ নিজ ব্যবস্থাপনায় প্লেন চলাচলের বিষয় বিবেচনা করবে। 
এদিকে বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তাঁর সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন,৩১ মে থেকে সরকার গণপরিবহন চালুর বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে বিআরটিএ'র সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একটি পরিকল্পনা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।
তিনি বলেন, গণপরিবহন পরিচালনায় যাত্রী,পরিবহন ও চালক-শ্রমিকদের সুরক্ষা সুনির্দিষ্টভাবে নিতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, এছাড় যেন বিষাদে রূপ না নেয়, মালিক, শ্রমিক, যাত্রী সাধারণ সকলের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
শুক্রবার পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনসমূহকে নিয়ে বিআরটিএ'র সাথে মিটিং করে এসকল বিষয়ে চূড়ান্ত করতে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

এদিকে রেলপথমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, সীমিত পরিসরে আগামী রোববার (৩১ মে) থেকেই ট্রেন চালু করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে একটি সিট বাদ দিয়ে টিকিট বিক্রি করা হবে। একটি ট্রেনের ৫০ শতাংশ টিকিট বিক্রি করা হবে।


অপরদিকে বৃহস্পতিবার  কোভিড-১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির ষষ্ঠ সভায় কমিটির সদস্যরা তিন দফা সুপারিশ করেছেন।কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ সহিদুল্লা ও সদস্য সচিব অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা স্বাক্ষরিত এই সুপারিশে বলা হয়, কোভিড-১৯ একটি সংক্রামক রোগ, যা হাঁচি-কাশি ও সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। জনসমাগম এ রোগের বিস্তার এর জন্য সহায়ক। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা এই যে, রোগ সংক্রমণের হার সুনির্দিষ্টভাবে না কমার আগে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চালু করলে রোগের হার বাড়ার আশংকা থাকে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রযোজ্য বিধি বিধানসমূহ সঠিক পদ্ধতিতে প্রয়োগ না করে শিথিল করা হলে রোগীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
 

লক্ষ্যণীয় যে,মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ বলছে শর্তসাপেক্ষে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত বিধি নিশ্চিত করে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান ও রেল চলাচল করতে পারবে। অন্যদিকে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন,সরকার গণপরিবহন চালুর বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এজন্য তিনি পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে বিআরটিএ'র সাথে আলাপ আলোচনা মাধ্যমে একটি পরিকল্পনা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।এখানে 'সীমিত পরিসরে' কথাটি কিন্তু সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর বক্তব্যে আসেনি।   
আমাদের অতীতের অভিজ্ঞতায় বলে আমাদের দেশের যাত্রী এবং গণপরিবহনকে আইন মানানো এক কঠিন চ্যালেঞ্জ।এদিকে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত বিধি নিশ্চিত করে গণপরিবহন চালু করতে বল্লেও এসবের কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে।৪০ সিটের বাসে কতজন নেয়া যাবে,সে ক্ষেত্রে ভাড়া কি হবে,যাত্রীরা সিটিং ভাড়া দেবে নাকি বেশী ভাড়া গুণতে হবে এসবের কিছুই খোলসা হয়নি।সেটা জানার জন্য হয়তো বিআরটিএ'র সাথে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর আলোচনা ও সিদ্ধান্ত কি হয় সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। 
একথা অনস্বীকার্য যে, দীর্ঘ ৬৬দিন বন্ধের কারণে আয় বঞ্চিত থাকায় পরিবহনের শ্রমিক ও মালিক উভয় পক্ষ বিশেষ করে শ্রমিক ভাইয়েরা এক অবর্ননীয় আর্থিক সংকটে পতিত। ফলে তাদের কাছে বেঁচে থাকাই এখন মূখ্য বিষয়। 
সবচেয়ে বড় সত্য হলো রাজধানীর প্রায় সব রুটের বাস দৈনিক ইজারা ভিত্তিতে চলে।বাসের চালক বা কন্ডাকদার দিন শেষে মালিককে নির্দিষ্ট টাকা জমা দেবে এই শর্তে বাস রাস্তায় নামায়,ফলে গণপরিবহনগুলো মালিকের নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে স্ব-স্ব গণপরিবহনের শ্রমিকের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়।এতে করে মালিকের জমার টাকা উঠিয়ে তাদের পারিশ্রমিক তোলার প্রতি মনোযোগ থাকে বেশী।যেকারণে রাস্তায় অসুস্থ্য প্রতিযোগিতা দেখা যায়। কার আগে কে বেশী যাত্রী উঠাবে, বেশী আয় করবে সে প্রতিযোগিতা চলে। উপরন্ত রয়েছে ঘাটে ঘাটে চাঁদা তোলার ব্যাপার। এমতাবস্থায় সরকারের পক্ষেও পরিবহনের মালিক, শ্রমিক ও যাত্রী সাধারনের জন্য আরোপিত স্বাস্থ্যবিধি মানানো এবং নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।রেলপথমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী যদি ৫০ শতাংশ টিকেট বিক্রি করা হয় তবে সেটি মনিটরিং এবং বাস্তবায়নের কি পরিকল্পনা নিয়েছেন তা জানানো হয়নি। ট্রেনের স্টারটিং পয়েন্ট ও শেষ গন্তব্যের মাঝে যেসব স্টেশন আছে সেখানে রেলপথমন্ত্রী ঘোষিত নিয়ম কিভাবে মানা হবে? নৌ-পরিবহণ ও বেসামরিক বিমান চলাচল কতৃপক্ষের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায় নি। 
উপরন্তু আমাদের দেশের জনগন ড্যামকেয়ার ভাব নিয়ে চলে।কোন কিছুর তোয়াক্কা ছাড়াই।
কোভিড-১৯ সংক্রমণের প্রাক্কালে দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণার সময় এবং আগে পরে বহুবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,মন্ত্রীবর্গ,এমপি, জনপ্রতিনিধি,দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ জনগণের উদ্যেশে শারীরিক বা সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে, মুখে মাস্ক পরতে,ঘরের বাইরে না যেতে বললেও তা কতটুকু মানা হয়েছে তা দেখেছি। গার্মেন্টস চালুর আগে,মার্কেট-বিপণীবিতান খোলার আগে সরকারের তরফ থেকে স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা বলা হলেও তা কতটুকু মানা হয়েছে সেটাও মিডিয়ার কল্যাণে দেশবাসী দেখেছে।
তাই সন্দেহ জাগে, ভালো করতে গিয়ে আবার সবকিছু লেজেগোবরে না হয়ে যায়। 



এমতাবস্থায়, করোনা সংক্রমণ বিস্তার রোধে কতিপয় সুপারিশ-
# পরিবহণে মোট সিটের অর্ধেক যাত্রী নিতে হবে।
# নির্দিষ্ট স্টপেজ ব্যতিত যাত্রী ওঠা-নামা করানো যাবেনা।
# সকলকেই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।
# যাত্রী ওঠা-নামার পর বাসের দরজা বন্ধ রাখতে হবে। 
# যাত্রীর কাছ থেকে সরকার ঘোষিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না। 
#  প্রয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে গণপরিবহন চালানো হোক। 

লেখকঃ সাংবাদিক, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক-নিরাপদ সড়ক চাই। সম্পাদক-সকালের আলো। 

সকল মন্তব্য

মন্তব্য দিতে চান তাহলে Login করুন, সদস্য না হলে Registration করুন।

সকালের আলো

Sokaler Alo

সম্পাদক ও প্রকাশক : এস এম আজাদ হোসেন

নির্বাহী সম্পাদক : সৈয়দা আফসানা আশা

সকালের আলো মিডিয়া ও কমিউনিকেশন্স কর্তৃক

৮/৪-এ, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত

মোবাইলঃ ০১৫৫২৫৪১২৮৮ । ০১৭১৬৪৯৩০৮৯ ইমেইলঃ newssokaleralo@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Developed by IT-SokalerAlo     hit counters Flag Counter