সর্বশেষ সংবাদ কোভিড-১৯ বদলে দিবে বিশ্ব পরিস্থিতি                 দেশে করোনা সংক্রমণ কোথায় যাবে                 বাঙালির মুক্তির সনদ ৬-দফা                  নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন                 একজন ডায়াবেটিস রোগীর জীবনের অবিশ্বাস্য অধ্যায়                 প্রেক্ষিতঃ স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহণ চালু                  ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়                 আগামী ১লা জুন ২০২০ থেকে 'সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮' পুরোপুরি কার্যকরের দাবি                 ফেসবুক মেসেঞ্জারে চ্যাটের মাধ্যমে সুখের প্রদীপটাকে নিভাতে চায়                 

Monday, July 6, 2020
Login
Username
Password
  সদস্য না হলে... Registration করুন


উপ-সম্পাদকীয়


একজন ডায়াবেটিস রোগীর জীবনের অবিশ্বাস্য অধ্যায়
ডাঃ এজাজ বারী চৌধুরী :
সময় : 2020-05-29 22:54:19


॥ ১ ॥
রোগীর বয়স ৪৩৷ মধ্যবয়স্ক হাসিখুশী ভদ্রলোক৷ আমার কাছে আসতেন তার মেয়েকে সাথে নিয়ে৷ বাবা-মেয়ের ভালোবাসা আর আত্মিক টান চোখে পড়ার মতো৷ মেয়েটা এতো যত্ন করতো তার বাবার, যে আমারই বুকটা ভরে যেতো, মাঝে মধ্যে চোখের পানিও লুকাতে হয়েছে, আমার মেয়েরও আমার প্রতি একই রকম ভালোবাসা আছে দেখে!
সমস্যাটা ছিলো অন্য যায়গায়৷ বিভিন্ন রকম চিকিৎসা প্রয়োগ করেও উনার ডায়াবেটিস আমি নিয়ন্ত্রনে আনতে পারছিলাম না৷ জিজ্ঞাসা করতাম,  প্রেসক্রিপশন ঠিকমতো ফলো করছেন তো, ঔষধ এবং ইনসুলিনগুলো সময়মতো নেন তো? উনি হাসতেন, আর বলতেন, সব ঠিক হয়ে যাবে ডাক্তার সাহেব, আপনি চিন্তা করবেন না৷ উনার একটা সাড়ে তিন বছরের ছেলেও ছিলো, যাকে উনি প্রানের চেয়েও বেশী ভালোবাসতেন, আদর করতেন.... যত্ন করতেন৷ সেই ছেলেটির কথাও বলতাম তাকে, ছেলেটার বিয়ে দিয়ে যেতে হবেনা আপনার? তাকে মানুষ করতে হবেনা?? ভদ্রলোক কেমন উদাস হয়ে যেতেন৷
একদিন চেম্বারে এলো শুধু ভদ্রলোকের মেয়েটা৷ এসেই কথা বলবে কি, শুধু কাঁদতে থাকলো৷ আমার বুকটা অজানা আশঙ্কায় কেঁপে উঠলো৷ অনেক বুঝিয়ে সুঝিয়ে মেয়েটার কাছ থেকে যেটা জানতে পারলাম, সেটা হলো, তার বাবা ডায়াবেটিসের কোন ঔষধ বা ইনসুলিন কিছুই নেননা৷ স্বেচ্ছামৃত্যুকে বেছে নিয়েছেন তিনি এবং সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছেন৷ জিজ্ঞাসা করলাম, এর কারন সম্পর্কে তুমি কি কিছু জানো? মেয়েটি বললো, আমার আব্বু সংসারিক জীবনে খুবই অসুখী একজন মানুষ৷ আম্মুকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলো৷ কিন্তু আম্মু আব্বুকে কোনরকম ভালোবাসা, যত্ন নেয়া, দুটো স্নেহ ভালোবাসার কথা বলা কিছুই করেনা৷ এমনকি সে তার জন্মের পর থেকে কখনো আব্বু আম্মুকে এক বিছানায় ঘুমাতে কিংবা কোন মধুর সময় কাটাতে পর্যন্ত দেখেনি৷
আব্বু সারাদিন হাড়ভাঙা খাঁটুনি খেটে এসে তার ছেলেমেয়েকে নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েন৷ ছোট ভাইটা তো বোঝেনা, আব্বু সকাল থেকে এই গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত ছিলো৷ তবুও আব্বুকে দেখা মাত্রই সে ঝাঁপিয়ে কোলে উঠে যায়, আর রাজ্যের যতো খেলনা আছে, সব খেলার বায়না করে৷ তার দুই তিন ড্রাম খেলনা সব বের করে, আব্বুকে নিয়ে খেলা শুরু করে, আব্বুর সাথে দৌঁড়াদৌড়ি করে.... আব্বুর হাতে ছাড়া রাতের ভাত খেতে চায়না, আব্বু ঘুম পাড়িয়ে না দিলে ঘুমায়না...., এবরকম আরো কতো কি? ভাইয়ের আব্দার মেটাতে আব্বু সারাদিন ক্নান্ত ক্ষুধার্ত থেকেও বেশীরভাগ দিনই নাস্তা করারও সুযোগ পায়না, কেবল একগ্লাস পানি হয়তো খেতে পারে৷
আর মেয়েকেও তার আব্বু বন্চিত করেনা৷ ভাইয়ের সাথে খেলা করার পাশাপাশি মেয়েকেও অনেক আদর করে, তার সারাদিনের খোঁজখবর নেয়, সুন্দর সুন্দর শিক্ষামুলক গল্প বলে, ভাইকে খাওয়ানো হয়ে গেলে, তাকে নিয়ে খেতে বসে৷ নিজ হাতে মেয়ের প্লেটে খাবার তুলে দেয়৷ আব্বু যেসব মাংস বা খাবারগুলো পছন্দ করে, মেয়েরও সেগুলোই পছন্দ বলে, আব্বু অনেক আগেই সেগুলো খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে৷ মেয়েকে মুরগীর রান, গরুর রান, মাছের মজাদার পেটিগুলো প্লেটে তুলে দিয়ে মুগ্ধ হয়ে মেয়ের তৃপ্তি নিয়ে খাওয়া দেখে৷ 
মেয়ে প্রতিদিন ঘুমানোর আগে আব্বুকে সারা মুখে চুমু দিয়ে গুডনাইট না দিয়ে ঘুমাতে পারেনা৷ আব্বুও তাকে দ্বিগুন পরিমান চুমু এবং আদর দিয়ে তাকে ঘুম পাড়াতে পাঠায়৷ আব্বুর রাতে পানির তেষ্টা পায়, এজন্য মেয়ে প্রতিদিন জগ ভরে গ্লাস দিয়ে আব্বুর মাথার কাছে রেখে আসে৷
॥ ২ ॥
আমি মেয়েকে বারবার করে বলে দিলাম, তোমার আব্বুকে অবশ্যই আগামীকাল আমার সাথে দেখা করতে বলবে৷ উনার সিডিউলের এক ঘন্টার মধ্যে অন্য কোন রোগীর সিডিউল রাখলাম না৷
পরদিন ভদ্রলোক আসলেন৷ আমার প্রশ্নগুলো আঁচ করতে পেরেই কেমন যেন বিধ্বস্ত দেখাচ্ছিলো তাঁকে৷ আমি তাঁকে সময় দিলাম৷ জানতে চাইলাম, তার জীবনের গল্প এবং নিজেকে নিজেই শেষ করে দেবার ইচ্ছের কারণ৷
উনি শুরু করলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে, ভালোবেসে আমার বউকে আমি বিয়ে করেছিলাম৷ এনগেজমেন্টের পর থেকেই সে পুরোপুরি পাল্টে যায়..,, অচেনা একজন মানুষ হয়ে যায়৷ দিনরাত সবকিছু নিয়ে, সবাইকে নিয়ে আমাকে সন্দেহ করা শুরু করে৷ ক্লাশ সেভেনে পড়ুয়া মেয়ে থেকে আমার চেয়ে দশ বারো বছরের মেয়েরাও তার সন্দেহ থেকে বাদ যেতোনা৷ আমাদের অভিভাবকরা বললেন, তোমাকে অনেক ভালোবাসে তো, তাই এমন করছে৷ বিয়ের পর সব ঠিক হয়ে যাবে৷ 
এখানে আরো বলা প্রয়োজন, সে ধার্মিক ছিলো বলে, প্রেমের জীবনেও আমাদের মধ্যে কোন রোম্যান্স ছিলোনা৷ একসঙ্গে হাত ধরে হাঁটা তো দূরের কথা, সে আমার পাশেও হাঁটতে চাইতোনা৷ বলতো, তোমার জন্য ভালোবাসার সমস্ত মনি মানিক্য আমার হৃদয়ের সিন্দুকে জমা করে রেখেছি৷ বিয়ের পর সুখ আর আনন্দ দিয়ে তোমাকে ভরিয়ে দেবো.... আর এখনকার সব বন্চনাও পুষিয়ে দেবো৷
যাইহোক, আমার মা আমাদের এনগেজমেন্ট পরবর্তি ঘটনাগুলো থেকে এবং আমাদের মধ্যে বিরামহীনভাবে চলতে থাকা ঝগড়া গুলোর কারণে বুঝে গিয়েছিলেন, এই মেয়ের সাথে আমি সুখী হবোনা৷ তবুও আমার মায়ের মতের বিরুদ্ধে আমি তাকে বিয়ে করলাম৷
॥ ৩ ॥
বিয়ের পর দেখলাম sex এর প্রতি তার দারুন অনীহা এবং আমি তার কাছে গেলে তার ভেতর কেমন ঘৃণা চলে আসে৷ এমনও হয়েছে, সে আমাকে কিসই করতে দিতোনা বা কিস করলেও বারবার যেয়ে কুলি করে আসতো৷ কোনরকম কোলবালিশের মতো পাশে শুয়ে থাকতো এবং কতো তাড়াতাড়ি ঘটনাগুলো শেষ হবে, সেই অপেক্ষায় থাকতো৷ Sex শেষ হওয়ামাত্র আমাকে এক মুহুর্তও জড়িয়ে না ধরে, সে লাফ দিয়ে বাথরুমে যেতো এবং প্রায় আধা ঘন্টা ধরে নিজেকে পরিস্কার করতো৷ তারপর এসে বিছানার চাদর এমনভাবে পরিস্কার করতো যেন সেখানে বিষ্ঠা লেগে রয়েছে৷
নতুন বিয়ে হলে নাকি মানুষ বহুবার পাশাপাশি আসে৷ আর আমরা আসতাম মাসে এক দুইবার৷ আমার বউ ঘুমাতে খুব পছন্দ করতো এবং জীবনের তিন থেকে সাড়ে তিনভাগ সময়ই সে ঘুমিয়ে কাটিয়েছে৷ আমার কোনরকম যত্ন বা সেবা কখনোই তাকে করতে হয়নি৷ নিজের কাপড় কাঁচা, ব্যাগ গোছানো, দোকান-বাজার করা ইত্যাদি সব ধরণের কাজ আমি করতাম৷ 
আমি প্রতিদিন সকালে অফিসে যেতাম নাস্তা না খেয়ে৷ সে শুধু ঘুম থেকে উঠে দরজার সিটকিনিটা লাগাতো৷ আবার সন্ধ্যায় যখন ফিরতাম তখন একগ্লাস পানিও না দিয়ে ঝগড়া শুরু করতো, অফিস ছুটি ছয়টায়, আর আমার আসতে সাতটা সাড়ে সাতটা বাজলো কেন? কোনভাবেই বোঝাতে পারতাম না প্রাইভেট চাকরীতে সময় শুধু কাগজে কলমে থাকে, বাস্তবটা ভিন্ন হয়৷ সে সন্দহ করতো আমি অফিসের কলিগের সাথে প্রেম করে বেড়াচ্ছি এবং এজন্যই আমার দেরি হয়৷ 
একদিন তো সে আমার অফিসে যেয়ে হাজির৷ এবং তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে আমার বুকে বড়ো একটা খামচি দিয়ে রক্ত বের করে দিলো৷ যায়গাটা ছিলো বোতামের উপরে৷ বোতাম আটকেও ঢাকা যায়নি৷ সেদিন অফিসে ফিরে আমি যে কি সংকোচ নিয়ে সময়গুলো পার করেছি, সেটা কেবল আমিই জানি৷
॥ ৪ ॥
তারপরও আল্লাহর ইচ্ছেয় আমার মেয়ে হলো৷ বিশ্বাস করবেন না ডাক্তার সাহেব, মাত্র একবার মিলিত হয়েছিলাম সেই মাসে৷ তাতেই আমার মেয়ে চলে আসলো৷
মেয়ে হবার পর আমি বেঁচে থাকার একটা নতুন অবলম্বন পেলাম৷ অফিসের সময়টুকু ছাড়া সারাটা দিনই কাটাতাম মেয়ের সাথে৷ তাকে খাওয়ানো, কথা শেখানো, গোসল করানো, পটি করানো, তার সাথে ঘুমানো সব৷ এমনকি রাতে যখন আমার মেয়ে ক্ষুধার জ্বালায় কাঁদতো, তখনো বউকে ঘুম থেকে ডেকে তোলা আমার কাজ ছিলো৷ এজন্যই টেনশনে সারা রাত আমি ঘুমাতে পারতাম না৷ আর বউকে গভীর ঘুম থেকে যদি ডেকে তুলতে না পারতাম, তাহলে অনেক কায়দা করে তার ঘুমের মধ্যেই আমার মেয়েকে দুধ খাওয়াতাম৷ 
আমার ধৈর্য্যশক্তি বেড়ে গেলো বহুগুন৷ বউয়ের কথা বা ঝগড়া আমার গায়েই লাগতো না৷ এমনকি sex demand ও আমার চলে গেলো৷
॥ ৫ ॥
মেয়ের দুবছর হবার পর থেকে, এই চৌদ্দ বছর আমি একা এক বিছানায় ঘুমাই৷ কবরের নিস্তব্ধতা যে কি বা একা একা কবরে শুয়ে থাকতে কেমন লাগে, সেটা আমি প্রায় প্রতিদিনই অনুভব করি৷ এতোটা দিন, আমার বউ এক ঘন্টার জন্যও আমার পাশে এসে শোয়নি, গায়ে একটু স্নেহের হাত রাখেনি বা দুটো মিষ্টি কথা বলেনি, খুনসুটি করেনি৷ তিন চারমাস পর পাশে এসে কোলবালিশের মতো শুয়ে থেকেছে, এবং দশ পনের মিনিটেই তার দায়িত্ব শেষ করে উঠে চলে গেছে৷ 
মানুষের সাথে একটু স্নেহের সম্পর্কও কি রাখা যায়না ডাক্তার সাহেব? বিয়ে তো মানুষ কেবল sex এর জন্য করেনা, আর সেটার frequency বা আবেদনও খুব বেশীদিন থাকেনা৷ একটু আবেগ, ভালোবাসা, মিষ্টি কথা, মনকে বুঝতে পারা, দুঃসময়ে পাশে এসে সান্ত্বনা বা সাপোর্ট দেয়া.... এগুলোই তো বিয়ে প্রথাটার জন্মের কারন৷ আর আমার বৌ আমার সাথে শুধু স্বার্থের সম্পর্ক maintain করে৷ মেয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ, এটা সারতে হবে, ওটা কিনতে হবে, টাকা লাগবে..... এসব ছাড়া আমার সাথে তার কোন কথা হয়না৷
॥ ৬ ॥
আমার ছেলেটা হয়েছে, আমার মেয়ের জন্মেরও দশ বছর পর৷ সেটাও একটা মিরাকল৷ সেই সময় একজন অবিবাহিত মেয়ে আমার প্রতি খুব দূর্বল হয়ে গিয়েছিলো এবং আমাকে সব জেনে বুঝেও বিয়ে করতে চেয়েছিলো৷ শুধু এটাকে ঠেকানোর জন্য আমার বউ সেসময় মাত্র তিনদিন আমার কাছে আসে৷ এবং আল্লাহর অসীম মেহেরবানীতে সে অন্তঃসত্বা হয়ে পড়ে৷ আমার আরেকটা বাচ্চা হবে শুনে সেই মেয়েটাও চলে যায়৷
চৌদ্দ বছর একজন যুবক একা বিছানায় থাকতে বাধ্য হয়ে তার যৌবনের স্বর্ণযুগ হারিয়েছে৷ এই প্রায় তিনমাস দীর্ঘ লকডাউনে, যখন আমি ২৪ ঘন্টা বাসায় থাকি, তখনও আমার বউ আমার কাছে এসেছে মাত্র দুবার! আপনিই বলেন ডাক্তার সাহেব, আমি কেন সুস্হ থাকতে চাইবো? বেঁচে থেকে আমার কি লাভ? বউকে ডিভোর্স দিলে সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে সমস্যা হবে৷ আবার দ্বিতীয় বিয়েও আমাদের এই সমাজ মেনে নেবেনা৷ অন্য সব কিছুতে ধর্ম প্রাধান্য পেলেও, কেবল দ্বিতীয় বিয়েকেই আমাদের দেশের ধর্ম অধর্ম গন্য করে!
॥ ৭ ॥
এখন আমি বেছে নিয়েছি স্বেচ্ছা আত্মহননের পথ৷ আপনি খুব ভালো ডাক্তার, আপনার ঔষধ সপ্তাহখানেক খেলেই আমার ডায়াবেটিস control হয়ে যায়৷ কিন্তু অনেক দিন ভেবে, অনেক রাত জেগে... আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এমনভাবে মরবো, যেন কারো কোন সন্দেহ না হয়৷ আমার সন্তানদের ভবিষ্যতে কোন কালো দাগ না পড়ে.... আবার আমার wife ও সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে! আমি ভুল ঠিক যা-ই সিদ্ধান্ত নিইনা কেন ডাক্তার সাহেব, দয়া করে আমাকে বোঝাতে আসবেন না৷ আর এটাই আপনার আর আমার শেষ দেখা৷ আমি আর কখনোই আপনি কিংবা অন্য কোন ডাক্তারের কাছে যাবোনা!
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আপনার wife কে কোন ডাক্তার দেখাননি? মেয়েদের Frigity একটা বড়ো অসুখ৷ রোগী বললেন, শুধু Frigity না, তার আরো মানসিক সমস্যা ছিলো৷ বহু বড়ো বড়ো ডাক্তার দেখিয়েছি৷ বেশীরভাগ কমার্শিয়াল ডাক্তারের ৫ মিনিটের চিকিৎসায় তার কোন উন্নতি হয়নি৷ অবশেষে আমি নিজেই দায়িত্ব নিই এবং দীর্ঘ ১১ বছরের সাধনায় তাকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলি৷ একটু সুস্থ হলেই সে ঔষধ বন্ধ করে দিতো৷ তখন যে কতো কষ্ট করে, বুঝিয়ে শুনিয়ে আর সাধনা করে আমি আর আমার মেয়ে তার ঔষধগুলো continue করেছি, সেটা কেবল আমরাই জানি৷
॥ ৮ ॥ 
ডাক্তার হিসেবে আপনি তো জানেন, কেবল sex deprivation ই একজন পুরুষের আয়ু কমপক্ষে দশ বছর কমিয়ে দেয়..., এটা জার্নালের study থেকে আমি পড়েছি৷ আরেকটি Study তে পড়েছি, মাসে মিনিমাম sex না করলে, একজন পুরুষের প্রোষ্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি ২২০০% বেড়ে যায়৷ তো আমার মরণ আসন্ন৷সুতরাং  খালি খালি ডায়াবেটিসের চিকিৎসা করে কি লাভ হবে বলুন????

॥ ৯ ॥
এই জাতীয় দূর্ভাগা মানুষের জন্য আমাদের সমাজের কি কিছুই করার নেই? আমার মতে এই মানুষটার ডিভোর্স অথবা আরেকটা বিয়ে করা খুব দরকার.... তার জীবন বাঁচানোর জন্যই! নারীরাও কি উপলব্ধি করার চেষ্টা করবেন সামগ্রিক পরিস্থিতিগুলো??!!! সেই রোগী আর কখনো আমার কাছে আসবেনা জানি৷ আর তার যেই high diabetes, সেটার চিকিংসা না করলে হয়তো খুব অল্পদিনের মধ্যেই তার খুব খারাপ সংবাদ পাবো৷ মানসিক অত্যাচার, টেনশন, sex deprivation এসব তার হরমোন লেভেল কে অনেক প্রভাবিত করে, এবং তার অবস্থা খারাপ থেকে খারাপ অবস্থায় যেতে থাকবে৷ 

সকল মন্তব্য

মন্তব্য দিতে চান তাহলে Login করুন, সদস্য না হলে Registration করুন।

সকালের আলো

Sokaler Alo

সম্পাদক ও প্রকাশক : এস এম আজাদ হোসেন

নির্বাহী সম্পাদক : সৈয়দা আফসানা আশা

সকালের আলো মিডিয়া ও কমিউনিকেশন্স কর্তৃক

৮/৪-এ, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত

মোবাইলঃ ০১৫৫২৫৪১২৮৮ । ০১৭১৬৪৯৩০৮৯ ইমেইলঃ newssokaleralo@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Developed by IT-SokalerAlo     hit counters Flag Counter