সর্বশেষ সংবাদ বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং বর্তমান সরকার                 কোভিড-১৯ বদলে দিবে বিশ্ব পরিস্থিতি                 দেশে করোনা সংক্রমণ কোথায় যাবে                 বাঙালির মুক্তির সনদ ৬-দফা                  নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন                 একজন ডায়াবেটিস রোগীর জীবনের অবিশ্বাস্য অধ্যায়                 প্রেক্ষিতঃ স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহণ চালু                  ২৩ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করা হয়                 আগামী ১লা জুন ২০২০ থেকে 'সড়ক পরিবহণ আইন ২০১৮' পুরোপুরি কার্যকরের দাবি                

Saturday, September 26, 2020
Login
Username
Password
  সদস্য না হলে... Registration করুন


উপ-সম্পাদকীয়


দেশে করোনা সংক্রমণ কোথায় যাবে
এস এম আজাদ হোসেন :
সময় : 2020-06-15 20:09:39

করোনাভাইরাসঘটিত রোগটির নাম কোভিড-১৯ (Covid-19 বা Coronavirus Disease 2019)চিনের উহানে ডিসেম্বর ২০১৯-এর গোড়ার দিকে এই সংক্রমণ প্রথম ছড়িয়ে পড়েছিল। অর্থাৎ, দেখতে দেখতে অর্ধেকটা বছর বা ছয় মাস কেটে গেল এই ভাইরাসকে সঙ্গে নিয়ে।

৮ মার্চ ২০২০,বাংলাদেশে প্রথম কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয় এবং এ রোগে আক্রান্ত প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ। সে হিসেবে ১০০তম দিন পূর্ণ হচ্ছে ১৫ জুন। এখন পর্যন্ত সংক্রমণের ধারা ঊর্ধ্বমুখী। এই মহামারী পর্বের স্থায়িত্বকাল কতটা হবে, তাও অস্পষ্ট।


প্রথম যখন এই ভাইরাসের অস্তিত্ব সামনে আসে, তখন এর কোনও নাম ছিল না। স্থায়ী নামকরণের আগে প্রাথমিকভাবে নোভেল করোনাভাইরাস (nCoV) ২০১৯ বলা হচ্ছিল। পরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ঘোষণা করে করোনা গোষ্ঠীর এই ভাইরাসটির নাম সার্স-কোভ-২ (SARS-CoV-2 বা Severe Acute Respiratory Syndrome Coronavirus 2)। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারী ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সোমবার (১৫ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা পর্যন্ত বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনার শিকার হয়েছেন ৭৯ লাখ ৯০ হাজার ১৫১ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত  ১ লাখ ২৮ হাজার  ৮১৮ জন। নতুন করে প্রাণ গেছে ৩ হাজার ২৯২ জনের। এ নিয়ে করোনারাঘাতে গত হয়েছেন বিশ্বের ৪ লাখ ৩৫ হাজার ৪৯৬ জন মানুষ।আর ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪১ লাখ ০৮ হাজার ৫২ জন।


ছয় মাস পরেও কিন্তু অনেকটাই চিনেবুঝে ওঠা যায়নি এই অভিন্ন নবাগত শত্রুকে। মোকাবিলার স্থায়ী পথ তো দূরের কথা,কীভাবে এই সংক্রমণ থেকে নিজেদের দূরে রাখা সম্ভব, কোন পথে এর সংক্রমণ ছড়ায়, কীভাবে আটকানো যায় এর দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এসব নিয়েও হোঁচট খেতে খেতে এগোতে হচ্ছে। অনেক উত্তর তিন মাস আগে যা ছিল, তিন মাস পরে তা বদলে গিয়েছে। সব মিলিয়ে ধোঁয়াশা এখনও অনেক। তবে এই ধোঁয়াশার মধ্যে থেকেই করোনাভাইরাস নিয়ে আমরা কিছু কিছু জিনিস মোটামুটি নিশ্চিতভাবে জেনে বা বুঝে গিয়েছি। 
সংক্রমণ দেশে দেশে ছড়াতে শুরু করার একদম গোড়ার দিকে একটা কথা চালু হয়ে গিয়েছিল-শীতটা কাটলেই করোনা চলে যাবে। ফলে আমাদের মতো গ্রীষ্মপ্রধান দেশে একটা স্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছিল এই মতামত। কিন্তু অচিরেই ভুল ভাঙল। গ্রীস্ম গেল বর্ষা শুরু হয়েছে গ্রীষ্ম গ্রাস করতে পারেনি করোনাকে।
বিশ্বময় করোনা ছড়ানোর প্রথম বাহন ছিলেন বিমানযাত্রীরা। আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রায় যখন লকডাউন হতে শুরু করল, ততদিনে ভাইরাস ঢুকে পড়েছে দেশে দেশে, এ দেশেও। পুরো বিশ্বময়।


কীভাবে একজন আক্রান্তের থেকে অন্য জনের শরীরে সংক্রমণ ছড়ায়? এত দ্রুত এত বিপুল সংখ্যক মানুষকে সংক্রমিত করা দেখে একদম শুরুর দিকে ভাইরোলজিস্ট ও গবেষকদের একটা অংশ মনে করছিলেন, এই ভাইরাস বায়ুবাহিতও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, করোনার সংক্রমণ ছড়ায় শুধুমাত্র সংক্রমিত ব্যক্তির ‘ড্রপলেট’ থেকে। হাঁচি-কাশি বা কথা বলার সময় আক্রান্ত ব্যক্তির মুখ থেকে আণুবীক্ষণিক লালাবিন্দু ছিটকে বের হয়, সেটা থেকেই অন্যের শরীরে সংক্রমণ ঘটে। সরাসরি সেই ড্রপলেট কারও গায়ে না পড়লেও ধাতব বস্তু, জামাকাপড়ের উপরে পড়লে, তার উপর অন্য কেউ হাত দিলে এবং সেই হাত নাকে মুখে দিলে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে। তবে সবচেয়ে বেশি বিপদ আক্রান্ত ব্যক্তির ড্রপলেট অন্য কারও শরীরে সরাসরি পড়লে।


সম্প্রতি আমেরিকার ‘সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন’ (সিডিসি)-এর বিজ্ঞানীদের গবেষণাতেও উঠে এসেছে, জিনিসপত্রের মাধ্যমের চেয়ে মানুষের সঙ্গে মানুষের সংস্পর্শেই অনেক অনেক বেশি সংক্রমণ ঘটাচ্ছে এই ভাইরাস। সিডিসির বিজ্ঞানীরা সমীক্ষায় দেখেছেন, বহু হাত ঘুরে অনলাইনে আসা কোনও পার্সেলের থেকেও একজন সংক্রামিত ব্যক্তির সরাসরি সংস্পর্শে আসা অনেক বশি ঝুঁকির। সমীক্ষায় আরও উঠে এসেছে, আলমারি ও ড্রয়ার জাতীয় জিনিসে এই ভাইরাস প্রায় ২৪ ঘণ্টা বেঁচে থাকে। ধাতু ও প্লাস্টিকে বাঁচে প্রায় তিন দিন। কিন্তু আশ্রয় নেওয়ার মতো মানবশরীর না পেলে এই ভাইরাস ততটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে না।
প্রবল জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট এগুলোই প্রাথমিকভাবে কোভিডের উপসর্গ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। তবে মাথা ব্যথা, বমির মতো কয়েকটি লক্ষণও দেখা গিয়েছে কিছু কিছু ক্ষেত্রে। তবে করোনার কারণেই এই সব উপসর্গ, নাকি সংক্রমণের আগে থেকেই সেগুলো থাকছে এবং করোনা সংক্রমিত হলে সেগুলি প্রকট হচ্ছে, সে বিষয়ে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নন বিজ্ঞানীরা।


কিন্তু বিজ্ঞানীদের কপালের ভাঁজ চওড়া হয়েছে অন্য কারণে। প্রায় সব দেশেই এমন বহু আক্রান্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, যাঁদের কোনও উপসর্গই ছিল না। আমাদের দেশে মোট আক্রান্তের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ মানুষই ছিলেন উপসর্গহীন। ভারতে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ, সারা বিশ্বের প্রেক্ষিতে সেই অঙ্ক আরও বেশি প্রায় ৩৫ শতাংশ। অর্থাৎ করোনার ছয়মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর এটা নিশ্চিত যে সর্দি,কাশি বা জ্বরের উপসর্গ না থাকলেও তিনি করোনা সংক্রমিত হতে পারেন। এবং ওই অবস্থায় অন্যকেও সংক্রমিত করতে পারেন।


দেশে সংক্রমন শুরুর প্রথমদিকে সরকারের কয়েকজন জনসাস্থ্যবিদ বলেছিলেন, ‘জুনের শেষ সপ্তাহে করোনা পরিস্থিতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে। আর জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহ থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বাংলাদেশ।’ কিন্তু ১০০ দিনের মাথায় এসে বাস্তবতা বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। উল্টো পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত আরও ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে। ফলে অনিশ্চিত সেই স্বাভাবিক জীবনে ফেরা। অবশ্য তাদের বক্তব্য ছিল তৎকালের পরিস্থিতি অনুযায়ী। দেশের ভিতর যাতে এক জায়গা থেকে আর এক জায়গায় সংক্রমণ না ছড়ায়, তার জন্য শুরু হল সাধারণ ছুটি বা 'লকডাউন’। যাত্রিবাহী ট্রেন,বাস,ঘরোয়া এবং আন্তর্জাতিক বিমান,ট্যাক্সি,অটো পর্যন্ত বন্ধ হল। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ছাড়া বাকি সব দোকান,বাজার,রেস্তঁরা,কলকারখানা সব বন্ধ ঘোষণা করা হল। ইউরোপ-আমেরিকার তুলনায় অনেক কম সংক্রমিত অবস্থায় এ দেশে লকডাউন শুরু হয়েছে। তাতে সংক্রমণ অবশ্য থেমে থাকেনি। দৈনিক নতুন সংক্রমণ বাড়তেই থেকেছে একটু একটু করে।কারণ সাধারন খেটে খাওয়া মানুষ,দিনমজুর,ভিক্ষুক যারা দেশের বৃহৎ অংশ তাদের চেষ্টা করেও ঘরে আটকিয়ে রাখা যায়নি। পাড়া,মহল্লা,গ্রামে আড্ডা,বাজার,হাট বন্ধ করা যায় নি। গার্মেন্টসের বিদেশী অর্ডার বাতিল হবে বলে গ্রামে ফিরে যাওয়া গার্মেন্টসকর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি না মেনে নিদারুণ কষ্টে ঢাকায় আসা, আবার ফিরে যাওয়া, ঈদে নাড়ির টানে একই কায়দায় বাড়ি যাওয়া আবার কাজের টানে ফিরে আসা সব কেমন যেন ড্যাম কেয়ার ভাব পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। 


এদিকে, বেঁচে থাকার যুদ্ধতো শুধু মারণরোগের সঙ্গে নয়, রুজি-রুটির জন্যও। লকডাউন এখানে থাবা বসালো ভয়ঙ্করভাবে। করোনায় মরব, নাকি না খেয়ে মরব, ক্রুর বাস্তবতার এই চরম সঙ্কটে দাঁড়িয়ে, অর্থনীতির ডুবুডুবু নৌকাকে আবার ঠেলে তুলতে বিশেষজ্ঞের মতামতের পরই টানা ৬০ দিন সাধারণ ছুটির পর খুলে দেয়া হয় পোশাক কারখানা,সীমিত আকারে রেলপথ,নৌপথ,আকাশপথ,অফিস আদালত। শিথিল করা হয় লকডাউন। আর এতে করেই হু হু বিস্তার ঘটে করোনার। যা একশতম দিনে এসে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ সংক্রমণে নিয়ে যায় বাংলাদেশকে।যদিও অনেকেই মনে করেন, লকডাউন না হলে সংক্রমিতের সংখ্যায় অনেক আগে আমরা ইউরোপ-আমেরিকার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফেলতাম। 


গত ৮ মার্চ দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার পরের ১০০তম দিনে দেশে মোট  আক্রান্তের সংখ্যা এসে দাড়িয়েছে ৯০ হাজার ৬১৯ জনে ।মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৫ লাখ ১৬ হাজার ৫০৩ জনের। মোট মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ২০৯ জনের ।মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৮ হাজার ৭৩০ জন। মোট অসুস্থ আছেন ৭০ হাজার ৬৮০ জন। অথচ, প্রতিবেশী ভারতে ১০০তম দিনে ভাইরাসটির শিকার হয় ৫৯ হাজার ৬৬২ জন। আর পাকিস্তানে আক্রান্ত হয়েছিল ৮৫ হাজার ২৬৪ জন।
 
এখন চলছে ‘স্বাভাবিক’ জীবনযাত্রায় ফেরার পর্ব। এই লক-আনলক বিভ্রান্তি পর্ব শুধু এ দেশে নয়, প্রায় সারা বিশ্বে একইভাবে হাজির হয়েছে।আমরা সবাই জানি, লকডাউনের রাশ যত আলগা হবে, তত বাড়বে সংক্রমণ। কিন্তু উপায় নেই। এই পরিস্থিতিতে আমরা তাকিয়ে রয়েছি অনেকগুলো ফ্যাক্টরের দিকে। মিউটেশন প্রক্রিয়ায় ভাইরাস দুর্বল হয়ে পড়বে, আবিষ্কার হয়ে যাবে প্রতিষেধক, ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু কোনও দিক থেকে আশু কোনও সুখবরের নিশ্চয়তা নেই বললেই চলে। ফলে মেনে নিতে হচ্ছে,করোনার সঙ্গেই আপাতত আমাদের চলতে হবে। সাবধানে।সরকার তাই এখন দেশে 'রেডজোন' এলাকাভিত্তিক লকডাউন' শুরু করেছে। রাজধানী ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের ৪৫টি এলাকাকে রেড জোনে চিহ্নিত করা হয়েছে।চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকেও 'রেডজোন' ঘোষণা দেয়া হয়েছে। করোনা প্রতিরোধে গঠিত কেন্দ্রীয় টেকনিক্যাল কমিটির সভায় এসব এলাকাকে চিহ্নিত করা হয়। এপ্রসঙ্গে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, ‘সরকার মূলত জোনভিত্তিক লকডাউনের মাধ্যমে করোনা মোকাবিলার কৌশল গ্রহণ করেছে। সেই কৌশলে 'রেডজোন' চিহ্নিত এলাকা লকডাউনের আওতায় ও সাধারণ ছুটি থাকবে সেখানে।' তবে আগের শর্ত অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মান্য করে গণপরিবহন ও অফিসের কার্যক্রম চলবে।


অর্থাৎ‌, করোনা এবং জীবন পাশাপাশি-এটাই নতুন স্বাভাবিকত্ব। সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক, হাত ধোওয়া, সর্দিকাশি হলেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার মতো বিষয় হয়ে উঠছে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অঙ্গ। করোনা যতদিন থাকবে, চলতে হবে এভাবেই। সেটা কত দিন, কেউ জানে না।
কোভিড-১৯ আক্রান্ত এবং মৃতদের মধ্যে প্রবীণদের অংশ বিশাল এতে সন্দেহ নেই। ১০০ দিনের মধ্যে দেশের অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তিবর্গ করোনাক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। দেশের খ্যাতিমান শিক্ষাবীদ ড,আনিসুজ্জামান করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। সরকারের প্রভাবশালী নেতা,সাবেক মন্ত্রী ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম এমপি, ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, সিলেটের সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান, সাবেক এমপি হাজী মকবুলসহ দেশের অনেক খ্যাতিমান ব্যক্তিদের হারাতে হয়েছে।এ তালিকায় অনেক ব্যবসায়ী,চিকিৎসক,প্রকৌশলী, শিক্ষাবীদ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, আমলা,আর্মি,সংবাদকর্মী,সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, নার্স আছেন। দেশের আইন শৃঙ্খলায় নিয়জিত বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত একজন সি‌ভিল সদস্য ও একজন র্যা ব সদস্যসহ মোট ২৭ জন সদস্য করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে জনগণকে সুরক্ষা দিতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন।


অনেকে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন।মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে আবেগাপ্লুত কন্ঠে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দু:সময়ে সহযাত্রীদের একের পর এক হারাতে হচ্ছে তাকে। দক্ষ রাজনৈতিক ও সংগঠকদের হারিয়ে দেশের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। বাংলাদেশের পাশাপাশি সারা বিশ্বেই করোনা আক্রান্তদের একটা বড় অংশের বয়স ২০ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।ইউরোপে ‘বুড়োরা  মরছে আমাদের কী’- এই জাতীয় মনোভাব প্রথম দিকে তরুণ প্রজন্মের একটা অংশের মধ্যে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু করোনার বয়স যত বেড়েছে সেই ধারণা ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়েছে। ফলে বয়সের তত্ত্ব ছেড়ে উঠে এসেছে ‘ইমিউনিটি’ বা ‘রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা’র তত্ত্ব।  অর্থাৎ, শরীরে রোগ প্রতিরোধ  ক্ষমতা যার যত বেশি থাকবে, করোনা থেকে তিনি তত বেশি ভয়মুক্ত। যেহেতু এই ভাইরাস ফুসফুসে আক্রমণ করে, তাই ফুসফুস সংক্রান্ত জটিলতা থাকলে ঝুঁকি বেশি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে হয়ে উঠছে প্রাণঘাতী।


একটু দেরিতে হলেও উঠে এসেছে মাস্কের অপরিহার্যতা। দেশে প্রথম থেকেই মাস্ক ব্যবহারের কথা বার বার বলা হলেও সাধারণ জনগণ অনেক দিন মাস্ককে গুরুত্ব দেয়নি। সারা বিশ্বেই এটা সত্য।ডব্লিউএইচও প্রথমে যে গাইডলাইন দেয়, তাতে চিকিৎসকদের জন্য মাস্ক জরুরি বলা হলেও, আমজনতার জন্য মাস্ককে গুরুত্ব দেয়নি। অনেকের মতে, এই দেরিতে বোঝার মাসুল দিতে হয়েছে পুরো বিশ্বকে।সম্প্রতি করোনা প্রতিরোধে মাস্ক পরার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও (ডব্লিউএইচও)। তারা বলছে, করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে জনসম্মুখে অবশ্যই সবার মাস্ক পরা উচিত।
তাই এখন বিজ্ঞানী-বিশেষজ্ঞরা একমত, মাস্ক পড়লেই ৬০-৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে সংক্রমণ রুখে দেওয়া যায়। কারণ মাস্ক পরে আক্রান্তের ড্রপলেট বাইরে বেরোতে পারে না। ফলে কেউ সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় থাকেই না। আবার মাস্ক পরা থাকলে নাকে বা মুখে হাত পড়বে কম। ফলে নাক-মুখ দিয়ে ভাইরাসের শরীরের ভিতরে প্রবেশের সম্ভাবনা ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ কমে যায়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে এন-৯৫ মাস্ক ০.৩ মাইক্রন ব্যাসের জীবাণু ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত আটকে দিতে পারে। করোনাভাইরাসের পাঁচ ভাগের এক ভাগ আকারের জীবাণুকেও ৯০ শতাংশ রুখে দেয়। অন্য দিকে সার্জিক্যাল মাস্ক ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এবং কাপড়ের তৈরি মাস্ক সাধারণ মাস্ক এগুলোর মাত্রায় না হলেও, অনেক জীবাণু আটকাতেই কার্যকরী।দেশে তাই মাস্ক এখন প্রত্যেকের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আনলক পর্ব শুরু হয়ে যাওয়ার পর, এটা আরও অনেক বেশি জরুরি এবং গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।মাস্ক না পরলে জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
মাস্কের সঙ্গেই দৈনন্দিন জীবনে জুড়ে গিয়েছে দূরত্ব রেখে চলা এবং হাত ধোওয়া। ডব্লিউএইচও এর নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সংক্রমিত ব্যক্তির থেকে অন্তত এক মিটার দূরত্বে থাকলে সংক্রমণের সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে। কোনও কারণে সংক্রমিতের ড্রপলেট হাতে লাগলে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ধুয়ে ফেললেই সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে না। সাবান ব্যবহারের মতো পরিস্থিতি থেকে না সব সময়। সেখানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার কার্যকরী।
ডব্লিউএইচও-এর হিসেবে করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১০০টি বিজ্ঞানী-গবেষকদের দল প্রতিষেধক বা টিকা তৈরির জন্য কার্যত দিন-রাত এক করে ফেলছেন। এমন একটা কথাও শোনা যাচ্ছে যে, এ বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের মধ্যেই করোনাভাইরাসের টিকা চলে আসবে। কিন্তু তার বাস্তবসম্মত ভিত্তি নিয়ে অনেক গবেষক এবং চিকিত্‌সাবিশেষজ্ঞই সন্দেহ প্রকাশ করছেন। কারণ এত অল্প সময়ের মধ্যে ইতিহাসে কোনও টিকাই তৈরি হয়নি। সেটা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। লেগে যেতে পারে কয়েক বছরও।
তবে কি ভাইরাস কখনওই নিজে থেকে দুর্বল হবে না? টিকা বা প্রতিষেধক ছাড়া মুক্তি নেই মানব সভ্যতার? এই প্রশ্নে অবশ্য বিজ্ঞানী-বিশেষজ্ঞদের মধ্যে বিস্তর মতপার্থক্য রয়েছে। কেউ বলছেন, কোনও দিনই হয়ত নির্মূল হবে না কোভিড-১৯। যেমনটা হয়েছে বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু বা ডেঙ্গির ক্ষেত্রে। কেউ আক্রান্ত হলে তাঁর চিকিৎসা করতে হবে নির্দিষ্ট ওষুধ দিয়ে। কারও মতে আবার, সার্স বা ইবোলার মতো চিরতরে নির্মূলও হয়ে যেতে পারে এই ভাইরাস। অথবা পোলিওর মতো বহু বছর ধরে টিকাকরণ করে নির্মূল করা যেতে পারে। পরের দু’-তিন মাসের মধ্যে এই ভাইরাস তার নিজের প্রক্রিয়াতেই দুর্বল হয়ে পড়তে শুরু করবে, এমন মতও রয়েছে। কিন্তু এই সব মতামতই অতীত অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে। করোনার এই নতুন ভাইরাসের ভবিষ্যত্‌ সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলার মতো প্রায় সর্বজনগ্রাহ্য কোনও গবেষণার ফল এখনও উঠে আসেনি।
তবে করোনা মোকাবিলায় অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়ে বিশ্ববাসীর প্রশংসায় ভাসছে নিউজিল্যান্ড।তারা ঘোষণা করে দিয়েছে, দেশ করোনামুক্ত। প্রায় দু’সপ্তাহ নতুন করে কেউ আক্রান্ত হননি এবং দেশে প্রায় দেড় হাজার আক্রান্তের সবাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এপ্রসঙ্গে  ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের স্কুল অব ফার্মাসির সিনিয়র শিক্ষক ওকসানা পাইসিক বলেন, ‘যে কোনো মহামারির বিরুদ্ধে সফল হতে হলে আপনাকে প্রথমে সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করে টেস্ট করা (পরীক্ষা) এবং আইসোলেট করে রাখতে হবে। এগুলো হচ্ছে কোনো মহামারির বিস্তার রোধের ক্ষেত্রে মৌলিক কিছু পদক্ষেপ।’
তিনি আরও বলেন, ‘এছাড়া প্রত্যেক রোগীর (আক্রান্ত ব্যক্তির) বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে দেখা, সংক্রমণ ধরা পড়লে প্রত্যেককে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর মতো নিয়মগুলো মানতে হবে। সব দেশের জন্য কোভিড-১৯ থেকে রক্ষার এটাই সেরা উপায়। আর এটা মেনেই নিউজিল্যান্ড সফল হয়েছে।’
আমাদের ১৭ কোটি মানুষের দেশে করোনা শনাক্তের ১০০তম দিনে এসে সর্বমোট ৫ লাখ ১৬ হাজার ৫০৩টি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।ফলে বিশাল জনগোষ্টি এখনো পরীক্ষার বাইরে রয়ে গেছে।এতে করে সংক্রমনের মাত্রা দিন দিন বেড়ে চলেছে।এর দায় এসে পড়ছে আমাদের বিদ্যমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর।
দেশের স্বাস্থ্য সেবার অপ্রতুলতা নিয়ে বরাবরই অভিযোগ থাকলেও, করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিস্তার লাভের পর থেকেই দেশের স্বাস্থ্য অবস্থা যে কতটা নাজুক, সেই চিত্রটি বেশী করে ফুটে উঠেছে।
একদিকে যেমন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালগুলো ঠিকভাবে সেবা দিতে পারছে না, অন্যদিকে অন্যান্য জটিলতার রোগীরাও চিকিৎসা পেতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি সেই তালিকায় রয়েছে বেসরকারি হাসপাতালগুলোওচিকিৎসা সেবা পাওয়া নিয়ে এরকম অনেক রোগীর ভোগান্তি, হাসপাতালে ভর্তি নিয়ে হয়রানির নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে।করোনাভাইরাস নিয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, তারা হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার চরম দুরবস্থার চিত্র বর্ণনা করেছেন।বাংলাদেশের জেলা বা উপজেলা শহরে চিকিৎসা সেবার অপ্রতুলতার অভিযোগ বেশ পুরনো। সেখানে ভালো চিকিৎসক থাকেন না, হাসপাতালগুলোয় সরঞ্জামাদির অভাবের অভিযোগ রয়েছে।
কিন্তু এখন ঢাকা ও জেলা শহরগুলোর হাসপাতালগুলোতেও চিকিৎসক, সেবিকা ও টেকনিশিয়ানের অভাব, আইসিইউ ও মেডিকেল সরঞ্জামের অপর্যাপ্ততার নানা চিত্র পাওয়া যাচ্ছে।গত কয়েক বছরে দেশজুড়ে যে হাজার হাজার বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক গড়ে উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে এই সংকটের সময় চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে রাখার অভিযোগও রয়েছে।সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ, তাদেরকেও অনেক প্রতিকূলতা এবং সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। মানসম্পন্ন মাস্ক ও পিপিই না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে করোনাভাইরাস সংকটের শুরু থেকেই।
কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর হতে চললেও, স্বাস্থ্য খাতের এরকম অবস্থার কারণ কি? বিএমএ সাবেক সভাপতি ও জাতীয় স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের আহবায়ক ড. রশিদ-ই মাহবুব এজন্য স্বাস্থ্যখাতে দরকারি সংস্কার না হওয়াকে দায়ী করছেন। গণমাধ্যমকে তিনি বলছেন, ''সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এটা বিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু সংস্কার হয়নি। জনসংখ্যার হিসাবে আমাদের যে চাহিদা, তার জন্য যে সংস্কার দরকার, সেই সংস্কার না করেই এটা বিবর্তিত হয়ে আসছে। সেটাও হচ্ছে যার যার মর্জি মতো।''
''দ্বিতীয় হলো, এটার অর্থায়ন নিয়ে একটা সমস্যা আছে। সরকারি অর্থায়ন যেটা দেয়া হয়, সেটা প্রতিনিয়ত কমছে। কমতে কমতে এখন যেই পর্যায়ে চলে আসছে, তাতে বেতন ভাতা হয় আর কিছু অবকাঠামো তৈরি, যন্ত্রপাতি কেনার খরচ হয়। কিন্তু রাজনৈতিক বিবেচনায় যতটা অবকাঠামো তৈরি হয়, যন্ত্রপাতি কেনায় যতটা দুর্বৃত্তায়ন হয়, কিন্তু জনগণের চিকিৎসার ট্রেন্ডটা কি হবে, সেটা ঠিক করা হয়নি।''
''যেহেতু জন চাহিদা আছে, তখন একটা বিকল্প বেসরকারি ব্যবস্থাপনা চলে আসছে। কিন্তু চিকিৎসার নামে বেশিরভাগই সেখানে অর্থ উপার্জনের কাজটা হয়।''তিনি জানান, ২০০০ সালে ও ২০১১ সালে দুইটি স্বাস্থ্য নীতি ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সেগুলোর তেমন একটা বাস্তবায়ন হয়নি। এজন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা।
''এখানে রাজনীতির একটা জায়গা আছে, আমলাদের একটা ব্যাপার আছে আর আছে কর্মী বাহিনী। তিনটার মধ্যে সমন্বয়টা হয়নি। সেই সমন্বয় না হওয়ায় এই গাড়ি চলে না। যে যার মতো কাজ করছে আর এখন এটা স্থবির হয়ে পড়ে আছে।'' বলছেন ড. মাহবুব। তিনি বলছেন, সংস্কার এবং জবাবদিহিতা আগে নিশ্চিত করতে হবে। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে কর্মীদের ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও পরিকল্পনার মধ্যে আনতে হবে। উদাহরণ দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে চিকিৎসক অনেক থাকলেও, দক্ষ টেকনিশিয়ান নেই। পরিকল্পনা না থাকলে দেখা যাবে, অনেক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ আছে, কিন্তু অ্যানেসথেসিয়া দেয়ার লোক নেই।
জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হয় অপ্রতুল।আগের বছর ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ৯২ শতাংশ। উন্নত দেশগুলোর মধ্যে নিউজিল্যান্ডে ব্যয় করা হয় জিডিপির ৯ শতাংশ। জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্যা প্যাসিফিকের (এসকাপ) ২০১৮ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিডিপির বিচারে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ৫২টি দেশের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে কম বরাদ্দ দেয়া হয় বাংলাদেশ। কিন্তু সেই বরাদ্দও পুরোপুরি ব্যয়িত হয়না বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন।স্বাস্থ্য খাতের সংকট সমাধানে বরাদ্দ ও ব্যয় সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি চিকিৎসা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দিচ্ছেন ড. রশিদই মাহবুব।

১৫ জুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে থমকে দিলেও বাংলাদেশ হার মানবে না। বৈশ্বিক এই সংকট সাময়িক অসুবিধার সৃষ্টি করলেও বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিতে পারবে না।নিরাপদে থাকতে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের দেয়া নির্দেশনা মেনে চলতে দেশবাসীর প্রতি আহবানও জানান তিনি।আমরাও আশাবাদী হতে চাই। সচেতনতার সাথে করোনা মোকাবেলায় পুরোদেশ একসাথে চলবে এই কামনা রইলো। 
(লেখাটি সম্পন্ন করতে ইন্টারনেট থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে)

লেখক- সাংবাদিক, সমাজকর্মী,সম্পাদক। 

সকল মন্তব্য

মন্তব্য দিতে চান তাহলে Login করুন, সদস্য না হলে Registration করুন।

সকালের আলো

Sokaler Alo

সম্পাদক ও প্রকাশক : এস এম আজাদ হোসেন

নির্বাহী সম্পাদক : সৈয়দা আফসানা আশা

সকালের আলো মিডিয়া ও কমিউনিকেশন্স কর্তৃক

৮/৪-এ, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত

মোবাইলঃ ০১৫৫২৫৪১২৮৮ । ০১৭১৬৪৯৩০৮৯ ইমেইলঃ newssokaleralo@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Developed by IT-SokalerAlo     hit counters Flag Counter