Thursday, April 9, 2020
Login
Username
Password
  সদস্য না হলে... Registration করুন
সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি চলাকালে যেসব পরিষেবা চালু থাকবে                 ভয়াবহ রূপে আবির্ভূত অচেনা করোনা ভাইরাসে তিন মাসে প্রাণহানির সংখ্যা ৮৮ হাজার ৫৪৯ জনে ঠেকেছে                 প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্তের একমাস, কোথায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ?                 করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বের ৩৩০ কোটি মানুষ আংশিক বা পুরোপুরি বেকার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা                 কোভিড-১৯ রোগে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৫৪ জন আক্রান্ত নতুন করে মৃত্যু হয়েছে আরও ৩ জনের                 বিশ্বের ২০৯টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে এখন পর্যন্ত ৮২ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে                 রাজধানী ঢাকার ৫২টি এলাকা লকডাউন করা হয়েছে                 নতুন করে রাজধানীর নয়টি এলাকা লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে                 মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে বাসা থেকে বের হতে মানা করেছেন প্রধানমন্ত্রী                 প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এ মাসে দেশে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ার                 করোনা ভাইরাসের উৎপত্তির তিনমাসে প্রাণহানি ৭৪ হাজার ৭৯৫ জন                 বাংলাদেশের ওষুধ কোম্পানিগুলোও করোনাভাইরাসের ওষুধ তৈরি করছে                 ছুটির মধ্যেই মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত                 গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৩৫ জনের শরীরে করোনার সংক্রমণ পাওয়া গেছে মারা গেছেন আরও ৩ জন                 প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী ৬৯ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, এতে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ                


মূল সংবাদ


গৃহ ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর এবং ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়া হবে-জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী
সকালের আলো প্রতিবেদক :
সময় : 2020-03-25 21:18:43

আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের প্রাক্কালে আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। ভাষণটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের পাশাপাশি বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও চ্যানেলগুলো থেকে একযোগে সম্প্রচার করা হয়।
গৃহ ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর এবং ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দেয়া হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মরণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছেন। আমাদের তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বিনামূল্যে ঘর, ৬ মাসের খাদ্য এবং নগদ অর্থ প্রদান করা হবে। জেলা প্রশাসনকে এ ব্যাপারে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এসময় তিনি নিন্ম আয়ের ব্যক্তিদের ‘ঘরে-ফেরা’ কর্মসূচির আওতায় নিজ নিজ গ্রামে সহায়তা প্রদান করা হবে বলেও আশ্বাস দেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাষাণচরে ১ লাখ মানুষের থাকার ও কর্মসংস্থান উপযোগী আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। সেখানে কেউ যেতে চাইলে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিনামূল্যে ভিজিডি, ভিজিএফ এবং ১০ টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। একইভাবে বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা সেবাও দেয়া হচ্ছে।

একইসঙ্গে তিনি নিন্ম আয়ের মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্য বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের শিল্প উৎপাদন এবং রপ্তানি বাণিজ্যে আঘাত আসতে পারে। এই আঘাত মোকাবিলায় আমরা কিছু আপৎকালীন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য আমি ৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করছি। এ তহবিলের অর্থ দ্বারা কেবল শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা যাবে।

এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ব্যবসায়-বান্ধব বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী জুন মাস পর্যন্ত কোন গ্রাহককে ঋণ খেলাপি না করার ঘোষণা দিয়েছে। রপ্তানি আয় আদায়ের সময়সীমা ২ মাস থেকে বৃদ্ধি করে ৬ মাস করা হয়েছে। একইভাবে আমদানি ব্যয় মেটানোর সময়সীমা ৪ মাস থেকে বৃদ্ধি করে ৬ মাস করা হয়েছে। মোবাইলে ব্যাংকিং-এ আর্থিক লেনদেনের সীমা বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, পানি এবং গ্যাস বিল পরিশোধের সময়সীমা সারচার্জ বা জরিমানা ছাড়া জুন মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এনজিওগুলোর ঋণের কিস্তি পরিশোধ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।

করোনা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ সমগ্র বিশ্ব এক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে চলছে। তবে, যে কোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য আমাদের সরকার প্রস্তুত রয়েছে। আমরা জনগণের সরকার। সব সময়ই আমরা জনগণের পাশে আছি। আমি নিজে সর্বক্ষণ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছি। আমাদের এখন কৃচ্ছতা সাধানের সময়। যতটুকু না হলে নয়, তার অতিরিক্ত কোনো ভোগ্যপণ্য কিনবেন না। মজুদ করবেন না। সীমিত আয়ের মানুষকে কেনার সুযোগ দিন।

তিনি বলেন, আমরা খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এ বছর রোপা আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। সরকারি গুদামগুলোতে ১৭ লাখ মেট্রিক টনের বেশি খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে। এছাড়া, বেসরকারি মিল মালিকদের কাছে এবং কৃষকদের ঘরে প্রচুর পরিমাণ খাদ্যশস্য মজুদ আছে। চলতি মওসুমে আলু-পিয়াজ-মরিচ-গমের বাম্পার ফলন হয়েছে। 

সেইসঙ্গে কৃষক ভাইদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, কোনো জমি ফেলে রাখবেন না। আরও বেশি বেশি ফসল ফলান।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, দুর্যোগের সময়ই মনুষ্যত্বের পরীক্ষা হয়। এখনই সময় পরস্পরকে সহায়তা করার; মানবতা প্রর্দশনের। বাঙালি বীরের জাতি। নানা দুর্যোগে-সঙ্কটে বাঙালি জাতি সম্মিলিতভাবে সেগুলো মোকাবিলা করেছে। ১৯৭১ সালে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা শত্রুর মোকাবিলা করে বিজয়ী হয়েছি। করোনাভাইরাস মোকাবিলাও একটা যুদ্ধ। এ যুদ্ধে আপনার দায়িত্ব ঘরে থাকা। আমরা সকলের প্রচেষ্টায় এ যুদ্ধে জয়ী হবো, ইনশাআল্লাহ।

শ্রমিকদের বেতন দিতে ৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা

মহামারী করোনাভাইরাসের প্রতিঘাত মোকাবেলায় দেশের রপ্তানিমুখী খাতের শ্রমিকদের বেতন দিতে ৫ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি তুলে ধরে এই ঘোষণা দেন তিনি। বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকরাই এই প্যাকেজের সুবিধা পাবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে অনেক মানুষ কাজ হারিয়েছেন। আমাদের তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমাদের শিল্প উৎপাদন এবং রপ্তানি বাণিজ্যে আঘাত আসতে পারে। এই আঘাত মোকাবেলায় আমরা কিছু আপৎকালীন ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। তিনি বলেন, রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য আমি ৫ হাজার কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করছি। এ তহবিলের অর্থ দ্বারা কেবল শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা যাবে।

নভেল করোনাভাইরাসে গোটা বিশ্বের অর্থনীতিই এখন বিপর্যস্ত; যার প্রভাবে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি শূন্যে নেমে আসার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন এখাতের উদ্যোক্তারা। বাংলাদেশে রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক থেকে। এই খাতের মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ’র তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১৮ মার্চ পোশাক রপ্তানি করে বাংলাদেশ যে আয় করেছিল, তা এই বছরের মার্চে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

এই পরিস্থিতিতে অধিকাংশ বিদেশি ক্রেতা পোশাক নিচ্ছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিজিএমইএ সভাপতি সভাপতি রুবানা হক দুদিন আগেই বলছিলেন, প্রতি মিনিটে-ঘণ্টায় পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। এমন দুর্দিন আগে কখনও আসেনি। দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পোশাক শিল্প মালিকরা।

শিল্পোদ্যোক্তার জন্য আরও কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ব্যবসায়-বান্ধব বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগামী জুন মাস পর্যন্ত কোন গ্রাহককে ঋণ খেলাপি না করার ঘোষণা দিয়েছে। রপ্তানি আয় আদায়ের সময়সীমা ২ মাস থেকে বৃদ্ধি করে ৬ মাস করা হয়েছে। একইভাবে আমদানি ব্যয় মেটানোর সময়সীমা ৪ মাস থেকে বৃদ্ধি করে ৬ মাস করা হয়েছে।

এছাড়া সাধারণ মানুষের সুবিধায় মোবাইলে ব্যাংকিংয়ে আর্থিক লেনদেনের সীমা বাড়ানো; বিদ্যুৎ, পানি এবং গ্যাস বিল পরিশোধের সময়সীমা সারচার্জ বা জরিমানা ছাড়া জুন মাস পর্যন্ত বাড়ানোর কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
এনজিওগুলোর ঋণের কিস্তি পরিশোধ সাময়িক স্থগিত করার কথাও তিনি বলেন।

পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, আবারও বলছি: স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। সকলে যার যার ঘরে থাকুন, ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

সকল মন্তব্য

মন্তব্য দিতে চান তাহলে Login করুন, সদস্য না হলে Registration করুন।

সকালের আলো

Sokaler Alo

সম্পাদক ও প্রকাশক : এস এম আজাদ হোসেন

নির্বাহী সম্পাদক : সৈয়দা আফসানা আশা

সকালের আলো মিডিয়া ও কমিউনিকেশন্স কর্তৃক

৮/৪-এ, তোপখানা রোড, সেগুনবাগিচা, ঢাকা-১০০০ হতে প্রকাশিত

মোবাইলঃ ০১৫৫২৫৪১২৮৮ । ০১৭১৬৪৯৩০৮৯ ইমেইলঃ newssokaleralo@gmail.com

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিদপ্তরে নিবন্ধনের জন্য আবেদিত

Developed by IT-SokalerAlo     hit counters Flag Counter